![]() |
| সৈয়দ জিন আরিফ |
(এক পোষ্টে লিখা অনেক বড় হয়ে যেতে থাকলে তাহলে চলমান পোস্টটিতে আর না লিখে পরবর্তী আরেকটি নতুন পোস্টে আমার আত্মজীবনী লেখা হবে; এবং এ নিয়মেই এ গ্রন্থটি লেখা অব্যাহত থাকবে!)
[Readers of other languages are encouraged to use Google Translate to read the content in their own language! The Google Translate tool is available right here on this page—simply locate it and click]
সেদিন যখন মাদ্রাসা থেকে ভারপ্রাপ্ত সুপার এবং শিক্ষক প্রতিনিধি আসলেন এবং আমাকে ১৬০০ টাকা হাদিয়া দিলেন তখন আমি তাদের সামনে শিক্ষক প্রতিনিধি জনাব জামাল হুজুরকে রসিকতা করে বললাম যে, আপনারা তো আমাকে ছুটি দিতে চাইলেন না, আপনাদের আইনে নেই! তো আমিও আইন সৃষ্টি করেছি!
তবে এর পরেও আমি ডাক্তারি সার্টিফিকেট দিতে পারছি না! কারণ আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমি একেবারেই উইন্ডেড এবং আমি হাঁটতে পারছি না! বিছানা থেকে উঠতে পারছিনা! কিন্তু পয়সার অভাবে টাকার অভাবে আমি ডাক্তারের কাছে যাইতে পারি নাই!
এখন আপনাদের রুলস কী বলে, আমাকে কি ছুটি দেবেন!? আমিতো বিছানা থেকে উঠতে পারিনি আজ প্রায় আট দিন হল এবং আজকে যে লিখতেছি এই প্রবন্ধ, আজকে প্রায় ২০ দিন হল, এখনো আমি নামাজ পড়তে পারিনা, সেজদা দিতে পারি না, হাঁটাচলা করতে পারিনা! তবে অবস্থার কিছুটা উন্নতি' হয়েছে!
তাহলে আমার মত যে সকল সত্যবাদী গরীব মানুষ, ইন'শা আল্লাহু তা'আলা সব সময় সত্য বলবে, মিথ্যা কখনো বলবে না, এরকম নিজের সাথে নিজে ওয়াদাবদ্ধ! তারা কি তাহলে শুধু সার্টিফিকেট এর অভাবে, বিষয়টা সত্য হলেও, তারপরও কি ছুটি পাবে না!?
আমার কথায় জামাল হুজুর এবং ভারপ্রাপ্ত সুপার হুজুর, চুপ রইলেন!
এরপর আমি বললাম, যে হুজুর, আমরা আইন সৃষ্টি করতে পারি! আপনারা ভয় পাবেন না! এবং আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে, আপনাদের সামনেই নিজের ক্ষতি করে হলেও আমরা আইন সৃষ্টি করেছি! আমরা চাঁদপুর গ্রামের মানুষদেরকে মিথ্যে বলিনি যে, আমরা আগামী ২৩ দিন মাদ্রাসায় থাকবো না!
আপনারা ছুটি দেওয়ার কোন আইন খুঁজে পান নাই!
এখন যেহেতু আমি শোয়া থেকে উঠতেই পারছি না, তাহলে আশা করা যায় আপনারা আমাকে মেডিকেল ছুটি দেবেন! যদিও ডাক্তারি সার্টিফিকেট আমি কিন্তু দিতে পারবো না! কিন্তু বিষয়টি সত্য! আমি যে অসুস্থ, বিষয়টি সত্য! টাকার অভাবে ডাক্তারের কাছে যেতে পারিনি বা যাইনি; এই কথাটিও সত্য!
এরপর আপনাদের আইন অনুযায়ী আপনারা আশা করি ইন'শা আল্লাহু তা’য়ালা ছুটি দেবেন!
এরপর আমি মনে মনে বললাম, যদি আপনারা ডাক্তারি সার্টিফিকেট জমা দিতে বাধ্য করেন, তবে মিথ্যা বলার, মিথ্যা সিস্টেমের সৃজন তো আপনারাই করলেন!?
যে সিস্টেম তার কর্মচারীকে ন্যূনতম বেঁচে থাকার অধিকার না দিয়ে, তাকে খাদ্য না দিয়ে, উল্টো আবার মিথ্যা সৃজন শিখায়, সে সিস্টেম কী করে মানবকল্যাণকর হতে পারে?
আর মনে রাখবেন আপনাদের এই সহকর্মী
সৈয়দ জিন আরিফ যা বলে, ইন'শা আল্লাহু তা'আলা তা সত্য বলে!
পরে তারা মাদ্রাসা থেকে আমার মেয়েদের মাধ্যমে ১টি ইংলিশ কমোড পাঠিয়েছেন! যেহেতু আমি বাথরুমে বসতে পারিনা স্বাভাবিকভাবে! এই কমোডটি মাদ্রাসায় আগ থেকেই ছিল! এবং এর পরের দিন আমাদের উত্তর দিকের মসজিদ থেকে চারজন লোক দেখতে এসেছিল! তারাও হাদিয়া স্বরূপ কলা পাউরুটি এসব এনেছেন!
এছাড়া মাদ্রাসায় আমাকে কোচিং সহ মাত্র ৫ হাজার টাকা বেতন দিচ্ছে!
এখন কথা হচ্ছে এই যে ৫০০০ টাকা দিয়ে একজন কর্মচারীকে খাটানো হচ্ছে এটা কি আদৌ জায়েজ হচ্ছে!?
একটা কর্মচারীকে খাটাতে হলে তার তো অন্তত ন্যূনতম বেঁচে থাকার অবলম্বন তাকে দিতে হবে!
কর্মচারীকে যদি পেটে ভাতই দেয়া না হয়, বেঁচে থাকার ন্যূনতম অবলম্বনই তাকে দেয়া না হয়, তাহলে তার পিঠে কর্মের বোঝা চাপিয়ে দেয়ার কি কোন যুক্তি হয়?
তার উপর আমার সাথে চুক্তি হয়েছে শুধুমাত্র হিসাব কিতাব বা মাদ্রাসার অফিস সহকারি হিসেবে এবং কোচিং এর তিনটি ক্লাস নেয়ার বিষয়ে!
এখন আমি একটু অবসর হয়েছি দেখেই, অমনি ওই ক্লাসে যান, ওই ক্লাসে যান! আপনি চুক্তি করলেন একটা কাজ, বেতন দিচ্ছেন সে হিসেবে; কিন্তু কাজ দিবেন বুঝি এবার পুল আওয়াব! অন্যান্য কাজ! এটা কি কোন আপনাদের ইনসাফ হল!?
এসব কি জুলুম না!?
কর্মহীনতার সুযোগে, বেকারত্বের সুযোগে, অথবা সরলতার সুযোগে, মানুষকে বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেবেন; তাকে উপযুক্ত পারিশ্রমিক দেবেন না; তাকে ন্যূনতম বেঁচে থাকার অবলম্বনও দিবেন না; ইসলাম কি এই ভাবে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে, এই ভাবে শিক্ষকদের উপর জুলুম করে, কর্ম আদায় করতে আপনাদেরকে বাধ্য করেছে!?
এখন প্রিয় শিক্ষক ভাই ও বোনেরা, আপনারা হয়তো বলতে পারেন, সারাদেশেই তো এভাবে চলছে!?
জি, আমিও শুধু উত্তর চাঁদপুর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) মাদ্রাসার বিষয়ে কথাটি বলি নাই! কারণ এখানে তো আমি প্রকাশিত হয়েছি! তাহলে এখানে এতো ভুল ধরতে আমি পারিনা!
তাছাড়া এগুলো সিস্টেমেটিক্যালি মহাপাপ এবং এগুলো এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এগুলো কি জায়েজ, না নাজায়েজ, এ বিষয়টিও হুজুরদের মাথায় নেই!
যাকে দুর্বল পাচ্ছে, যাকে সরল-সহজ পাচ্ছে, যাকে সহজে পাচ্ছে, তাকে দিয়ে যা তা করাচ্ছে, যতটুকু সম্ভব, তাকে দিয়ে, তাই করানোর চেষ্টা চলছে!
কিন্তু আদৌ কি ইনসাফ হচ্ছে কিনা!? জায়েজ আছে কিনা!? এ বিষয়ে চিন্তা করারও আমার হুজুর ভাইদেরও এখন আর সময় নাই!
কিন্তু কেউ না কেউ এ বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে, এই ধরনের জালেমদের, যারা সারা দেশব্যাপী শিক্ষিত মানুষদেরকে জুলুমের মধ্যে রেখেছেন, শিক্ষার অবমূল্যায়ন ঘটাচ্ছেন; তাহলে কেউ-না-কেউ এর প্রতিবাদ না করলে এ বিষয়গুলোর সংশোধন কিভাবে হবে!?
প্রিয় পাঠক আপনাদেরকে একটি কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য আমি বিষয়টি লিখেছি!
দেখুন চাঁদপুর মাদ্রাসায় জিন হিসেবে আমি তাদেরকে সম্ভাবনা এবং লোভ দেখিয়েছি যে আমার কাছে অঢেল টাকা আছে; এবং আমাদের উত্তর দিকের যে মসজিদ এখানেও কিছু লোককে আমি বুঝিয়েছি যে, আমার কাছে অনেক অনেক অর্থ সম্পদ রয়েছে! আমার কাছ থেকে আপনারা সুবিধা পাবেন! মাদ্রাসায়ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, আমি মাদ্রাসায় অর্থ দান করব!
এই প্রতিশ্রুতির কারণে তারা আমাকে দেখতে এসেছে এবং মাদ্রাসার হুজুর উনারা আমাকে ১৬০০ টাকা হাদিয়া দিয়েছে! এবং উত্তর দিকের মসজিদ, এরাও কয়েকজন হলেও এসেছে এবং আমাকে অল্প কিছু হলেও হাদিয়া দিয়েছে, সম্মান করেছে!
এর একটিই কারণ, আমার কাছ থেকে তারা পাবে, এই আশা করতেছে!
না হয়, যে মাদ্রাসায় বেতনই দেয় ৩০০০ টাকা! সে মাদ্রাসায় বুঝি হাদিয়া দিবে আমাকে ১৬০০ টাকা!?
এটাকি শিক্ষক হিসেবে দিয়েছে!? সহকর্মী হিসেবে দিয়েছে!? না, পাওয়ার লোভ বা স্বার্থ বাজ হিসেবে দিয়েছে!?
তেমনি ভাবে উত্তর দিকের মসজিদ থেকেও কয়জন এসেছে আমাকে দেখার জন্য! যদিও ঈমাম মুয়াজ্জিনদের কেউ বা ধনী বা দায়িত্বশীলদের মধ্য থেকে কেউ আসেনি!
মাইন্ড করবেন না, যারা এসেছে তারাও আমার কাছ থেকে আশা করেছে যে, হয়তো পেতে পারে, সেজন্য এসেছে! আর তারা আসলে একেবারেই সাধারণ মুসল্লি!
নামাজ কায়েমের অংশ হিসেবে একজন মুসল্লী যখন ৬/৭ দিন একটানা মসজিদে উপস্থিত থাকে না তখন ঈমাম মোয়াজ্জিন বা দায়িত্বশীলদের প্রয়োজন পড়ে নামায কায়েমের ফতুয়া বা হুকুম থেকে ঐ মুসল্লিকে দেখতে যাওয়ার বা তার খবরা-খবর রাখার!
কিন্তু এই বিষয়টি আজকে আমাদের ঈমাম মুয়াজ্জিন বা দায়িত্বশীলদের মাথাতেই নেই!
এরা হয়তো আজ ফতুয়াই বুঝেনা!
কারণ, হয়তো মুসল্লিদের প্রতি ঈমাম-মুয়াজ্জিন বা দায়িত্বশীলদের আজ কোনো আন্তরিকতাই নাই!
এরা শুধু পকেট ভারি করে, টাকার ধান্দা করে, না হয় লোকদেখানো শুধু দায়িত্ব পালন করে!
তো যারা আসা করেছে যে আমার কাছে টাকা পাবে, এই আশা করাটাকে আমি অবশ্য অপরাধ ধরি নাই! কারণ, মানুষ যেখানে পাবে, সেখানে কদর করবে, সেখানে প্রচেষ্টা চালাবে, সেখানেই সম্মান করবে, এটি একদম স্বাভাবিক এবং এটি নৈতিকতা ও ঈমানেরও স্বপক্ষে!
কিন্তু আমি জেনেও এ কথাটি কেন লিখলাম!?
আপনারা দেখতে পেয়েছেন ইতিপূর্বে আমি লিখেছি যে, আমাদের দক্ষিণ দিকের যে সামাজিক মসজিদ আছে সেখান থেকে একজনও আসেন নাই এবং সমাজ থেকেও কেউ দেখতে আসেন নাই! আবার উত্তর দিকের মসজিদ থেকেও যারা এসেছে তারা সাধারণ মানুষ, এখানে দায়িত্বশীলদের কেউ নেই!
এখন কথা হল চাঁদপুর মাদ্রাসায় আমি শিক্ষকতা করি বা চাকুরী করি! আমি যখন কঠিন উইন্ডেড হয়েছি, তারা নৈতিকতার টানে, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের টানে, তারা আমাকে দেখতে আসবেন, এটা কি স্বাভাবিক নয়!? এটি কি আমার দাবি নয়!? আবার মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়ি! আল্লাহু তা'আলা বলেছেন নামাজ কায়েম করার জন্য! কিন্তু আমি দেখেছি বেশিরভাগ মানুষকে! কে নামাজে আসেনা, কে নামাজ পড়ে না, কে দুষ্টুমি করে এই বিষয়গুলো হিসাব করতে; কিন্তু আমি দেখতে পাইনি; যে নামাজি লোকটা একটানা ৬-৭ দিন মসজিদে আসেনি, সে নামাজী মুমেন বান্দা কেন আসলো না, এই বিষয়ে কেউ চিন্তা করতে! তাকে দেখতে যেতে!
হ্যাঁ, যদি ধনী হয় তাহলে যাবে, কিন্তু গরিব হলে কেউ তার ধারও ধারবে না! কিন্তু কেন?
একজন নামাযী যদি নিয়মিত নামাজ পড়ে, নামাজি হওয়ার কারণে বাকি নামাজিরা উনার খবর রাখবে না, তাহলে এটি কেমন নামাজ কায়েম করা হলো!?
ঈমাম-মুয়াজ্জিন বা দায়িত্বশীলদের, এটা কোন ধরনের ফতুয়া পালন হল; মুসল্লিদের প্রতি তাদের কেমন আন্তরিকতা প্রদর্শিত হল!
এটাই কি রসূলের (সাঃ) নামাজ কায়েম করার ফতোয়া ছিল!?
আর তাই আমার এই লেখার মাধ্যমে আমি বুঝাতে চেয়েছি যে, মানুষদের মাঝে বিরাজমান রয়েছে বর্তমানে শুধু স্বার্থবাদীতা! জায়েজ, নাজায়েজ, সহকর্মী কিংবা নামাজী এসব কিছুই নয়; শুধু স্বার্থের কারণে এঁরা কিছু করে, না হয় করে না!
আপনারা কি বুঝতে পারছেন যে, টাকার কারণে, স্বার্থের কারণে আমার নিজ আত্মীয়, আজ আমাকে আত্মীয় বলেনা! নিজ ভাই ভাতিজা, এরা আজ আমি যে অভুক্ত সেটি চোখে দেখেনা! আমার কোন খবর নেয় না! কারণ আমি তাদের সমান সমান নই! সমাজের কেউ আমার কাছ থেকে পাবে না, সেজন্য তারাও আমার দিকে দেখেনা!
অথচ আমিতো কারো কোন ক্ষতি করি নাই! আমি সবসময় সহজ সরল ছিলাম! আমি সবসময় নামাজ-কালাম পড়েছি! মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করে গিয়েছি!
তাহলে কেন আমি এভাবে অবহেলিত হব!?
কেন আমার দুঃখে কেউ কোন খবর রাখবে না!?
আপনারা কি লক্ষ্য করেছেন; লোভ, হিংসা এবং স্বার্থবাদীর কী এক নগ্নরূপ, সমাজে চলমান রয়েছে!?
অপরদিকে আমি আপনাদেরকে বলেছিলাম যে, আমার সাথে মহিলা জিন সদস্য রয়েছে!
তবে কয়জন রয়েছে বা আমার জিনদের জন্ম ও বংশ পরিচয় কী, এবং তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য কী; তা আমি আমার এ আত্মজীবনী গ্রন্থে স্পষ্ট করে এখনো বলি নাই!
এ বিষয়ে ইতিমধ্যে অবশ্য আমি সতন্ত্র পোস্ট পাবলিস্ট করেছি!
আমার মনে হয়, আমার শরীরে এবং আমার সাথে, যে একজন মহিলা জিন রয়েছে, তিনি আসলে শুধু একজন নয়! তার নেতৃত্বে তারা একদল মোমেনা মুসলিম মহিলা জিন!
সে বা তারা আসলে একজন, না সর্বমোট কতজন বা তাদের প্রকৃত তথ্য কী, এ সব বিষয়ে তারা প্রকাশ্যে আগমনের আগ পর্যন্ত একেবারে নিশ্চিত ভাবে ক্লিয়ার করে বলা, এটা আমার দ্বারা প্রমাণ স্বাপেক্ষ বা যুক্তি নির্ভর নয়!
এসব বিষয়ে আল্লাহু তা'য়ালার রহমতে যদি তারা সশরীরে মানবাকৃতিতে আমার নিকট উপস্থিত হন, তবে তারা এসব বিষয়ে সত্যায়ন করবেন অথবা তারা নিজে, নিজ মুখে সত্য কী, তা বলবেন!
তবে আমার ব্রেনে তারা যে সিগনাল পাঠাচ্ছে, এতে তারা আমার বোন ব্যতীত আরো ১৫ জন বলে বলছে! এবং তাদের নেতৃত্বে আছে একজন! আর তিনি আমার বোন এবং তিনিই সংগঠিত করেছেন বাকি ১৫ জনকে!
তাদের সবাই ছিলেন ইবলিশ সম্প্রদায়ের কাফের ও শয়তান জিন!
তাদের সকলের বাড়ি ছিলো, মানে সকলেই থাকতেন মক্কার মসজিদে হারাম শরীফে!
এবং সবাই ঐ মসজিদের বাকি জিনদের দ্বারা নিয়মিত অপমাণিত, পদদলিত, লাঞ্চিত ও জুলুমের শিকার হয়ে আসছিলেন!
এক পর্যায়ে এ জুলুমের মাত্রা চরম আকার ধারন করে!
তখন আমার বোন সেখানকার জিনদের ও জিন সমাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বোনের উপর অত্যাচারের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়!
যার ফলে আমার বোন দিশেহারা হয়ে আজ অনেক বছর ২০০১ ইং সন থেকে আমার শরীরে আশ্রয় নেয় এবং আমার সাথেই থাকতে থাকে!
অবশ্য আগেও, মানে আমার শিশুকাল থেকেই আমার বোন, মাকে দেখতে মাঝে মধ্যেই আসতো! এবং আসলেই আমাকে আসর করে থাকতো ও মায়ের নিকট কিছু দিন অবস্থান করে আবার চলে যেতো!
আমার বোনের জন্ম আমার মায়ের গর্ভেই! তিনি আমার সহোদর জিন বোন!
এ বিষয়গুলো আমার মা হয়তো কখনো বুঝতোও না!
আমার সাথে আমার বোনের জন্মের পর, জন্মের পর থেকে শৈশবকাল আমাকে আসর করে কাটিয়ে পরে যখন সে একটু বড় হয়, তখন আনুমানিক তার ১২ বছর বয়স থেকে মক্কার মসজিদে হারাম শরীফে ইবলিশ জিন হিসেবে থাকতে থাকে!
কারণ সে মনে করেছিলো, মসজিদে হারাম শরীফ হচ্ছে মুসলমানদের সবচাইতে পবিত্রতম স্থান!
সুতরাং এই স্থানে আসা মুসল্লিদেরকে যদি পথভ্রষ্ট করা যায়, তাহলে এটি'ই হবে তার সবচাইতে বড় ও প্রধান সাফল্য!
আর তাই সে মসজিদে হারাম শরীফে থাকাকে পছন্দ করে! এবং এ জন্যই সে সেখানে থাকতে থাকে!
কিন্ত আজ অনেক বছর, সেখানকার ইবলিশ জিন দ্বারা চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে ও তার নিজ ইবলিশ সম্প্রদায় কর্তৃক অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে সেই ২০০১ ইং থেকে একটানা শুধু আমার কাছে, মানে আমাকে আসর করে ও আমার শরীরকে পূর্ণ ঘ্রাস করেই বসবাস করছে!
ছোট বেলা থেকে সে আমার সাথে থাকতে থাকতে এবং এবার একটানা থেকে, এতে তিনি আমার কষ্ট, ধৈর্য ও চরিত্র, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং আল্লাহু তা'য়ালার প্রতি সু-দৃঢ় মনোবল দেখে তিনি ইসলাম ধর্মের মহানুভবতা উপলব্ধি করেন!
এরপর তিনি আল-কোরআন, আল-হাদিস, ইসলামী আইন ও ইসলামের ইতিহাস ইত্যাদি বিষয় নিয়ে প্রচুর অধ্যায়ন ও গবেষণা করেন! এবং এক পর্যায়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন!
এবং নিজকে নিজেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন!
কিন্তু মুসলিম হওয়ার পর তিনি দেখতে পান ইসলাম ধর্মে বর্তমানে প্রচলিত কিছু আইনে, বিশেষ করে বিয়ে-শাদী ও যৌন বিষয়ক আইনে কিছু ভুল এবং অসম্পূর্ণতা রয়েছে!
যা পবিত্র কুরআন ও হাদীস শরীফ অনুযায়ী হয়নি!
এতে তাঁর কাছে খুবই খারাপ লাগে! এবং তিনি নিজে নিজে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন যে, তিনি ইসলামের এ আইন গুলো সংশোধন করবেন এবং মুসলিম ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন!
পবিত্র কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ অনুযায়ী তিনি বুঝতে পারেন যে, জিন এবং মানুষের মধ্যে বিয়ে জায়েজ এবং এ বিষয়ে আরো কিছু মাসআলায় তিনি জায়েজ বুঝতে পারেন!
অথচ ইসলাম ধর্মে বর্তমানে প্রচলিত যে আইন রয়েছে তাতে এগুলো নাজায়েজ হিসেবেই লিপিবদ্ধ রয়েছে! এবং কিছু কিছু আইনের বিষয়ে বর্তমানে কোন মাসআলাই নাই!
তখন এ আইন গুলো সংশোধন করার লক্ষ্যে বা এ আইন সমূহের পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা ও বাস্তব উদাহরণ দেয়ার লক্ষ্যে এবং তার সক্ষমতা অনুযায়ী জিন জাতির পূর্ণ পরিচয় প্রদানের উদ্দেশ্যে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি মানবাকৃতিতে প্রকাশিত হবেন, এবং তার সাথে যে ১৫ জন রয়েছে তারাও মানবাকৃতিতে প্রকাশিত হবেন, ও তিনি আমাকে বিয়ে করবেন! এবং বাকিরা পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত ডান হাতের বন্ধনে আমার সাথে আবদ্ধ হবেন!
কিন্তু তিনি যে মানবাকৃতিতে বৈবাহিক সম্পর্কের অধিকার নিয়ে এবং তার বান্ধবীরা ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অধিকার নিয়ে সম্মানের সহিত যে এখানে প্রকাশিত হবেন; সে সুযোগটি ইসলাম ধর্মের আলেমগণ সেই প্রাচীন কাল থেকে পবিত্র কুরআন শরীফের ভুল ব্যাখ্যা বা অপব্যাখ্যা দিয়ে বন্ধ করে রেখেছেন!
ফলে তিনি পবিত্র আল কোরআন ও আল হাদীসের এ-বিষয়ক প্রকৃত ব্যাখ্যা প্রদান করতে এবং প্রকৃত মাসআলার বাস্তব উদাহরণ, দুনিয়ার মানুষের কাছে পেশ করতে, তিনি মানবাকৃতিতে প্রকাশিত হওয়ার এবং আমাকে বিয়ে করার ও তার সহচরী বান্ধবী গণ, ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার, এ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন!
এবং তিনি ও তার বান্ধবীগণ মনে করছেন যে, জিন হিসেবে মহান আল্লাহু তা'আলার সৃষ্টিকে মানুষ সহ সকলের কাছে পরিচিত করানোর মাধ্যমে রয়েছে আল্লাহু তা'আলার ইবাদত ও অশেষ সওয়াব!
আর এজন্যই তিনি ও তাঁর সাথীগণ এবং তাদের অনুসারীগণ আকাশ সম এ মহা জিহাদের, যা মানবসৃষ্টির এ পর্যন্ত যে সৎ সাহস কেউ করেনি, তা করতে চাচ্ছেন! মানে মানবাকৃতিতে প্রকাশিত হতে চাচ্ছেন ও আমাকে বিয়ে করার মাধ্যমে বাস্তবিক ভাবে ইসলামের সঠিক পরিচয় এ দুনিয়াবাসীর নিকট প্রদান করতে চাচ্ছেন!!
তিনি ও তার বান্ধবীগণ কর্তৃক আমার ব্রেনে যে সিগনাল পাঠাচ্ছেন, তাতে আমার জিনবোন বলেছেন, ২০০১ ইং এর পর থেকেও তিনি গোপনে মসজিদে হারামে যাচ্ছেন, বা বেশিরভাগ সময়েই তার বান্ধবীদেরকে পাঠাচ্ছেন! তবে আগের মতো অতো বেশি না!
আর ২০২০ ইং থেকে তিনি একটানাই আমার সাথে অবস্থান করছেন! এবং এবার নাকি, তিনি আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদেরকে সহ নিয়ে যাবেন!
তাদের ভাষ্য মতে তারা মসজিদে হারামের ইবলিশ সম্প্রদায় ও ইবলিশ সমাজ থেকে প্রত্যাখ্যাত আমার বোন সহ ১৬ জন, বয়োসন্ধী কালীন কিশোরী নারী!
ও তারা পরষ্পর অন্তরঙ্গ বান্ধবী! তাদের দু'এক জনের বয়স এর চাইতেও কিছুটা কম হতে পারে!
আমার বোন অত্যাচারিত, নির্যাতিত ও জুলুমের শিকার হয়ে, যখন ২০০১ ইং থেকে আমার সাথে থাকতে লাগলেন, তখন তিনি চেষ্টা করতে থাকলেন, এ রকম নির্যাতিত ইবলিশ জিনদেরকে একত্রিত করে পৃথিবীর মানুষ এবং জিনদের মধ্যেকার মজলুম ও অসহায় নারীদের উন্নতির লক্ষ্যে কিভাবে একটি সংগঠন গঠন করা যায়!
এবং এ লক্ষ্যেই তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন!
কিন্তু এখন আমি বলতে চাই, আমার শরীরে এ জিনের জন্ম কিভাবে হয়েছে! বা কোথা থেকে এলো এ জিন! যাকে আমি বোন বলছি!
এটি কোন লজ্জার বিষয় নয় যে, পুরুষ এবং নারীর মিলনের ফলে মানুষ এবং জিন, এভাবে সকল জীব বা প্রাণীরই জন্ম হয়!
সূরা বনী ইসরাইলের ৬৪ নাম্বার আয়াতে ইবলিশ বা তার অনুসারীদেরকে আল্লাহু তা'আলা বলেন,
১৭ : ৬৪ وَٱسْتَفْزِزْ مَنِ ٱسْتَطَعْتَ مِنْهُم بِصَوْتِكَ وَأَجْلِبْ عَلَيْهِم بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكْهُمْ فِى ٱلْأَمْوَٲلِ وَٱلْأَوْلَـٰدِ وَعِدْهُمْۚ وَمَا يَعِدُهُمُ ٱلشَّيْطَـٰنُ إِلَّا غُرُورًا
এ আয়াতে মানুষের সাথে ইবলিশের বা তার অনুসারীদের অংশীদার হওয়ার বিষয়ে, একটি কথা স্পষ্ট করে উল্লেখ রয়েছে যে, মহান আল্লাহতালা বলছেন, "যাও, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হও"
তাহলে এটি সুস্পষ্ট যে, স্বামী স্ত্রীর সহবাসে ইবলিশ অংশগ্রহণ করতে পারে! যেহেতু ইবলিশকে মানুষের সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হতে মহান আল্লাহু তা'য়ালাই বলেছেন!!
আর সন্তান-সন্ততির মানেই হচ্ছে, তাদের বাবা-মাকে সহবাস করতে হবে!
কেবলমাত্র সহবাসের মাধ্যমেই মহান আল্লাহ তা'আলা দুনিয়াতে, তার সৃষ্টি মানুষকে তার প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়ে থাকেন!
আর তাই মানুষের সন্তান-সন্ততিতে অংশগ্রহণের মানেই হচ্ছে, তাদের পিতা-মাতার সহবাসে অংশগ্রহণ করার অনুমতি দেয়া!
অর্থাৎ সে সুযোগ এবং স্বক্ষমতা মহান আল্লাহু তা'য়ালা ইবলিশ বা তার সহযোগী বা তার অনুসারীদেরকে দিয়েছেন!!
এখন কথা হচ্ছে কখন ইবলিশ বা তার অনুসারীরা স্বামী-স্ত্রীর সহবাসে অংশগ্রহণ করতে পারবে!? বা করার সুযোগ থাকবে!?
আবার পবিত্র কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী ইবলিশ যে শুধু নির্দিষ্ট সময়ে বা স্বামী যখন সহবাস করে শুধু তখন যে অংশগ্রহণ করতে পারবে অন্যসময় পারবে না এ ধরনের বিষয় স্পষ্ট করে বুঝা যায়না!
উপরোক্ত কোরআনের আয়াত থেকে ইবলিশ বা তার অনুসারীরা যেকোনো সময়ে বা বিভিন্নভাবে মানুষদের অরক্ষিত সময় গুলোতে এই মানুষদের সাথে বা মুসলিমদের সাথে সহবাস করতে পারবে এটাই বুঝা যায়!
এক্ষেত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর একটি হাদীস উল্লেখ করা যায়!
হাদীসটি এর সনদ সহ নিম্নে উল্লেখ করছি,
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْتِيَ أَهْلَهُ قَالَ: بِاسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا، فَإِنَّهُ إِنْ يُقَدَّرْ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ فِي ذَلِكَ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْطَانٌ أَبَدًا
অর্থ:
“তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর কাছে যাওয়ার ইচ্ছা করে, তখন যদি বলে: ‘বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ! আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আপনি আমাদের যা দান করবেন তা থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন’, অতঃপর তাদের সেই মিলনে কোনো সন্তান নির্ধারিত হলে, শয়তান কখনো তাকে ক্ষতি করতে পারবে না।”
— সহীহ আল-বুখারী ৬৩৮৮
একই হাদীস সহীহ মুসলিম ১৪৩৪a-তেও রয়েছে।
তাহলে ইহা স্পষ্ট যে, যদি সহবাসের আগে উপরে উল্লেখিত এ দোয়াটি পাঠ করা হয়, তাহলে এই সহবাসে যদি কোন সন্তান পয়দা হয়, তবে ওই সন্তানকে, ইবলিশ বা তার সহযোগীদের থেকে হেফাজতে রাখেন মহান আল্লাহতালা!
কিন্তু এবার চিন্তা করুন, যদি দোয়া পাঠ করা না হয় তাহলে কি হবে!?
তার মানে, এ সহবাস দ্বারা জন্মিত সন্তানের বিষয়ে আল্লাহু তা'য়ালার হেফাজতের কোন গ্যারান্টি মহান আল্লাহতালা দেননি!
অর্থাৎ যুক্তি বলে এটা নিশ্চিত যে, যে সহবাসে আল্লাহু তা'য়ালার নামে আরম্ভ করছি, এ কথা বলা হয় নাই, অথবা উপরোক্ত নির্দিষ্ট দোয়াটি পড়া হয় নাই, বা অন্তত বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম বলে আরম্ভ করা হয় নাই; সে সহবাসে, শয়তান অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকে এবং কোরআনের উদ্ধৃতি অনুযায়ী ঐ সন্তান-সন্ততির সাথে ইবলিশ বা তার সহযোগীরা থাকতে পারে! বা ইবলিশ হিসেবে মানব গর্ভেই জিন ফয়দা বা জিনের জন্ম হতে পারে!
এটি উপরোক্ত কোরআনের আয়াত ও হাদীসের যুক্তিবলে সাব্যস্তকৃত!!
অতএব উপরে উল্লেখিত যুক্তি ও সূত্রের আলোকে আমার সাথে থাকা এ জিন, জনাব আরিফ সাহেবের সহোদর জীন বোন, অর্থাৎ আমরা একই মায়ের সন্তান! আমরা পরস্পর ভাই বোন! মানে মানুষ হিসেবে আমি ভাই, এবং জিন হিসেবে আমি বোন!!
একজন মানুষ, একজন জিন!!
যতোটুকু বুঝতে পারছি, আমার শরীরে থাকা এ জিন বোনের জন্মগত ইতিহাস এটিই!
অন্যদিকে সৈয়দ জিন আরিফের মাধ্যমে পৃথিবীতে জিন আগমনে জিন হিসেবে সাথীদেরকে নিয়ে আমার সাথে থাকা এ জিন বোনের উদ্দেশ্য প্রধানত ৪টি :-
চলমান...


0 Comments