সৈয়দ জিন আরিফ 

 

সৈয়দ জিন আরিফ এর বংশ পরিচয় ও আত্মজীবনী গ্রন্থ / Genealogy and autobiography of Sayed Jin Arif

পার্ট-১


(এক পোষ্টে লিখা অনেক বড় হয়ে যেতে থাকলে তাহলে চলমান পোস্টটিতে আর না লিখে পরবর্তী আরেকটি নতুন পোস্টে আমার আত্মজীবনী লেখা হবে; এবং এ নিয়মেই এ গ্রন্থটি লেখা অব্যাহত থাকবে!)


[Readers of other languages ​​are encouraged to use Google Translate to read the content in their own language! The Google Translate tool is available right here on this page—simply locate it and click!]

আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ! আমার শ্রদ্ধেয় মরহুম বাবা আমার নাম রেখেছেন আরিফ উল্যাহ চৌধুরী। ভাইদের নামের শুরুতে অবশ্য এস এম দিয়ে শরু করেছিলেন। আমার নামের শুরুতেও দিয়েছিলেন। 

কিন্তু আমাকে যখন স্কুলে ভর্তি করাতে নিলেন, তখন স্কুলের স্যারেরা, স্কুলে আমার নাম এন্ট্রি করার সময়, নামটি বেশি বড় হয়ে যাচ্ছে বলে, নামের শুরুতে এস এম, এ দু'টি শব্দ বাদ দিয়ে দিয়েছিলেন। যা বাবাকে একদিন আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম এবং বাবা আমায় এরূপই বলেছিলেন।

আমার নামটি, আরবী ভাষা হতে উৎপত্তি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ভূক্ত নাম। এর অর্থ আমার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহু তা'য়ালার পরিচয় দানকারী।

তাই আমি যেন আমার নামের এ অর্থকে স্বার্থক করতে পারি, এ জন্য লিখার শুরুতেই, আমি সকলের নিকট দোয়া কামনা করে এবং পরম করুণাময়ের নামে ও তাঁরই শক্তিতে লিখা আরম্ভ করছি। আল্লাহু তা'য়ালা তাওফিক দিলে, যা আমার মৃত্যু পর্যন্ত চলবে ইনশা'আল্লাহ।

 আমরা ৩ ভাই; ২ বোন। ভাইদের মধ্যে আমি সবার ছোট। 

আমার বড় ভাই থেকে ক্রমান্বয়ে আমাদের সকল ভাই-বোনদের নাম নিম্নে উল্লেখ করলাম-

১। এস এম শহীদুল্লাহ চৌধুরী

২। হারিছা আক্তার

৩। রোকেয়া আক্তার

৪। হাছিনা আক্তার

৫। সেলিনা আক্তার

৬। এস এম শরাফত উল্যাহ চৌধুরী

৭। আরিফ উল্যাহ চৌধুরী

উপর্যুক্ত ৩ নং ও ৪ নং ক্রমিকে উল্লেখিত আমার এ ২ জন বোন, আমার জন্মের অনেক আগে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। রোকেয়া আক্তার, তিনি মারা গিয়েছিলেন ধনুষ্টংকারে আক্রান্ত হয়ে তার ৮ বছর বয়সের সময়। এবং হাছিনা আক্তার, তিনি মারা গিয়েছিলেন রক্ত আমাশয়ে আক্রান্ত হয়ে তার ৯ বছর বয়সের সময়। যা আমার মা আমাকে বলেছেন।

আমি সর্ব শক্তিমান আল্লাহু তা'য়ালার নিকট আমার মরহুমা এ ২ বোনের জন্য জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চাসন কামনা করছি; যেহেতু তাঁরা ছোট বয়সেই মারা গিয়েছেন। এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চাসনে আমার বোনদের সাথে আমি যাতে, আমার ইন্তেকালের পর পরই দেখা করতে পারি, আমার মহান রবের নিকট আমি এ প্রার্থনা করছি।

যেহেতু আমার জন্মেরও অনেক আগে আমার এ দু'বোন মারা গিয়েছিলো, তাই উপরে আমি আমার বোন ২ জন বলে উল্লেখ করেছি। অর্থাৎ শুধু যে ২ জন জীবীত আছেন, তাদের কথা বলেছি।

তার মানে মৃত এ ২ বোন সহ আমরা ৩ ভাই ও ৪ বোন। অর্থাৎ আমার মা-বাবা ৭ সন্তানের জনক ও জননী।

আমার বাবার নাম ছিদ্দিক আহাম্মদ। বাংলাদেশী এনআইডি কার্ড অনুযায়ী তাঁর জন্ম তারিখ ছিলো ০১ জানুয়ারী ১৯২৭। তাঁর বাবার নাম, মানে আমার দাদার নাম মৃত আবদুর রহমান এবং তাঁর মায়ের নাম, মানে আমার দাদুর নাম মৃত আফজল বিয়া। তাঁর (আমার বাবার) এন আই ডি নাম্বার 3012943174557. তাঁর স্থায়ী ঠিকানাঃ ১২৩ গোবিন্দপুর, হাজীর বাজার-৩৯০০, ফেনী সদর, ফেনী। বাবার এনআইডি কার্ডের ১ম পৃষ্ঠা দেখতে এখানে ক্লিক করতে পারেন এবং ২য় পৃষ্ঠা দেখতে এখানে ক্লিক করা যেতে পারে। 

তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ভূক্ত ছিলেন এবং জন্ম সূত্রে বাংলাদেশী নাগরিক ছিলেন।

আমার বাবার মৃত্যু তারিখঃ ০৬ নভেম্বর ২০১২

কাগজ-কলম অনুযায়ী মৃত্যুকালে আমার বাবার বয়স হয়েছিলো ৮৫ বছর ১০ মাস ৫ দিন।

আমি আমার বাবার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর জন্য জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চাসন কামনা করছি।

আমার মায়ের নাম হালিমা খাতুন। তাঁর মায়ের, মানে আমার নানুর নাম মৃত আছিয়া খাতুন। আমার মায়ের জন্ম তারিখঃ ০১ জুলাই ১৯৪৮. তাঁর এন আই ডি নম্বরঃ 3012943174560. এন আই ডি কার্ড অনুযায়ী আমার মায়ের বর্তমান বয়স ৭৬ বছর ৫ মাস ২৭ দিন। আল্লাহু তা'য়ালার অশেষ মেহেরবানীতে আমার মা এখনো জীবীত আছেন (২০২৫ ইং)। মায়ের এনআইডি কার্ডের ১ম পৃষ্ঠা দেখতে এখানে ক্লিক করতে পারেন এবং ২য় পৃষ্ঠা দেখতে এখানে ক্লিক করা যেতে পারে। 

যে বাড়িতে আমার মায়ের জন্ম, আমার নানার সে বাড়িটি ছিলো বাংলাদেশের ফেনী জেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের মজুপুর গ্রামে। কিন্তু পরে তারা এ ঠিকানাটি স্থায়ী ভাবে ছেড়ে দিয়ে, দাঁতমারা বাজার, চট্টগ্রাম (হেঁয়াকোঁ) এ পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী ভাবে বসতি স্থাপন করেন এবং বর্তমানেও সেখানেই আছেন। ফেনীর দৌলতপুরে এখন আর তাদের কিছুই অবশিষ্ট্য নেই। তারা এখন স্থায়ী ভাবে দাঁতমারা বাজার, এ পার্বত্য অঞ্চলেই থাকেন। অর্থাৎ আমার মরহুম নানার বর্তমানকার স্থায়ী ঠিকানা- দাঁতমারা বাজার, চট্টগ্রাম। 

আমার মা ইয়াতিম ছিলেন। আমার মায়ের শিশু বয়সে, মানে একেবারেই কম বয়সে, মায়ের নানা, আমার নানার ইনকাম না থাকার দোহাই দিয়ে নাকি আমার নানুকে বিয়ে ভেঙ্গে দিতে বাধ্য করে আমার নানুকে নিয়ে যান। এরপর আমার মাকে নিয়ে, আমার নানা পড়েন একেবারে মহা বিপদে। আমার নানা কাঠ মিস্ত্রী ছিলেন। তাই যেদিকে কাজে যেতেন, আমার মাকে কোলে করে বা সাথে করে নিয়ে যেতেন। কারণ বাড়িতে আমার মাকে দেখা-শুনা করার মতো, এ রকম কেউ ছিলো না। অবশেষে আমার মাকে, আমার নানা দত্তক দিতে বাধ্য হন এবং তখন তাঁকে দত্তক আনেন আমাদের সমাজের হাবিবুর রহমান মাস্টার বাড়িতে উনাদের মুরুব্বীরা। এ বাড়িতেই আমার মায়ের শিশুকাল অতিবাহিত হয়।

আমার মা সৈয়দ বংশীয় এবং জন্ম সূত্রে বাংলাদেশী নাগরিক। আমার মায়ের কথা অনুযায়ী তাঁর নিজ নানা সৈয়দ বংশীয় ছিলো। তিনি হাফেজ ও আলেম ছিলেন। তিনি পালকি করে এদিক সেদিক যাওয়া আসা করতেন। তিনি কারো রান্না করা খাওয়ার খেতেন না। পালকিটি বহন করার জন্য ৪/৫ জন লোক নিয়োজিত ছিলো। তারাই খাওয়ার দাওয়ার রান্না করতেন এবং নানার সব ধরনের সেবা যত্ন নিতেন।

প্রতি রমজানে আমার মায়ের সেই নানা মসজিদে খতমে তারাবী পড়াতেন। তিনি নাকি একবার আমাদের সামাজিক মসজিদ, তিতার কান্দি আলী মুন্সী জামে মসজিদেও খতমে তারাবী পড়িয়েছেন।

আমার মা, আমার মায়ের সেই সৈয়দ নানার ভাগ্নি ঘরের মেয়ে। মানে তিনি, তাঁর এ নানার বোনের মেয়ের মেয়ে।

এ সব কিছু আমার মা থেকে শুনে অবিকল আমি লিখেছি এবং এ বিষয়ক অসংখ্য কন্টেন্ট আমি ফেসবুকে শেয়ার করেছি। যে কন্টেন্ট গুলো আমার ভাই-বোন সহ, পাড়া-প্রতিবেশীর প্রায় প্রত্যেক সচেতন মানুষ দেখেছে ও পড়েছে। আপনারা নিম্নের লিংকে ক্লিক করে অথবা লিংকটি কপি করে গুগলে পেস্ট করে ও সার্চিং করে এ সংশ্লিষ্ট কন্টেন্ট সমূহ পড়ার মাধ্যমে বিষয়টি আরো ভালো ভাবে জানতে পারবেন। লিংকটি নিম্নরূপ-

https://jinmanb.blogspot.com/

আমার মা-- যে সৈয়দ বংশীয়, এটা আমার ভাই-বোন, বাড়ির অন্যান্য লোকজন ও এলাকাবাসী এবং আমার সঙ্গে থাকা জ্বীন বা জ্বীন সম্প্রদায় কর্তৃক ভেরিফায়েডকৃত। কারণ এ বিষয়ে আমার মা যদি মিথ্যা বলতেন, তাহলে এক ভাবে না এক ভাবে তা প্রকাশিত হয়ে যেতো। যেহেতু এ বিষয়ে ধারাবাহিক ভাবে আমি অনেকগুলো কন্টেন্ট ফেসবুকে পাবলিস্ট করেছিলাম। যা আমার আত্মীয়-স্বজন সহ এলাকাবাসী পড়েছিলো। যা এখনো আপনারা এখানে ক্লিক করে ও এ বিষয়টি খুঁজে নিয়ে পড়ে নিতে পারেন।

অতএব, আমার মায়ের নানা যেহেতু সৈয়দ বংশের এবং সৈয়দ বংশ যেহেতু পিতৃকূল ও মাতৃকূল, উভয়দিক থেকেই হতে পারে; উভয় রিলেশনই যেহেতু অনুমোদন করে; সে বিবেচনায় আমার মা অবশ্যই সৈয়দ বংশীয় সদস্য। আর আমার মা যদি সৈয়দ বংশীয় সদস্য হন; সে সুবাধে আমিও সৈয়দ বংশীয় সদস্য। 

মুসলিম ঘরে জন্ম গ্রহণ করলে যেমন ঈমান থাকা ছাড়া প্রকৃত মুসলিম হওয়া যায় না; তেমনি সৈয়দ বংশে জন্মগ্রহণ করেও সৈয়দ হওয়া যায় না। আল্লাহ কবূল করতে হয়।

তো আমি আমার মহান রবের প্রতি কায়মনোবাক্যে এই প্রার্থনা করবো যে, (সাঃ) ইয়া আল্লাহু তা'য়ালা! আমার ও আমার ছেলে-মেয়েদের নামের পূর্বে সৈয়দ সংযোজনের এবং আমার নামের শেষে চৌধুরী বাতিলের তাওফিক দাও। এবং আমাদেরকে তোমার রাসূলের ওয়ারিশ হিসেবে কবূল কর। ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর বংশধর হিসেবে, পবিত্র কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী আমাদেরকে পবিত্র কর, হেফাজত কর ও সম্মানিত কর। আমীন। (সাঃ)।

এদিকে এন আই ডি কার্ডে আমার মা ও বাবার যে জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে, তা আসলে সত্য নয়। কারণ বাংলাদেশ সরকার এন আই ডি কার্ড বানিয়েছে মাত্র কিছু বছর হলো। এ দেশের সরকার এন আই ডি কার্ড  বানানো আরম্ভ করেছিলো আমার মায়ের জন্মের কমপক্ষে ৪৫ বছর পরে। ফলে এটি বানানোর সময় অনুমান করে একটি ডেট বসানো হয়েছিলো। 

বাস্তবে আমার বাবা আনুমানিক প্রায় ৯৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং আমার মায়ের বর্তমান বয়স প্রায় ৯৬ বছরের মত হবে (২৪/১২/২০২৪ এর হিসাব অনুযায়ী; যা আমার বাবার ইন্তেকালের প্রায় ১২ বছর পরে হিসাবকৃত)।

আমার জেঠাতো ভায়েরা ২ জন। বড় জন বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স কর্তৃপক্ষের অধীন সিভিল এভিয়েশনের যোগাযোগ সহকারী, ২য় শ্রেণির পদবীধারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর পেনশন সহ অবসর প্রাপ্ত। তার নাম মহিউদ্দিন চৌধূরী। এবং অপরজন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে কর্মরত। তার নাম আবু জাফর মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন।

আমার জেঠার ৪ মেয়ে, সবাই বিবাহিতা এবং তারা যার যার বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত।

বাড়িতে জেঠাদের সাইড এবং আমরা ছাড়া, আর কেউ নেই। 

১০ ফুট সরকারি পাকা রাস্তার সাথে আমাদের বাড়ি। সরকারি রাস্তা থেকে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করার আমাদের নিজস্ব ১০ ফুট প্রবেশ রাস্তা ও আমাদের উঠান; সবই পাকা করা। শহর থেকে গাড়ি নিয়ে একেবারে কোনরূপ কাদামাটি ব্যতিত সরাসরি ঘরের দরজায় হাজির হওয়া যায়। বাড়িতে ছাদ করা একতলা, দোতলা এবং সাইড ওয়াল করা ও উপরে টিন বিশিষ্ট ঘর রয়েছে (২০২৫ ইং)। বাড়িতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ইন্টারন্যাট ব্রডব্যন্ডের লাইন রয়েছে। বেশ নিরিবিলি, পরিপাটি ও চিমচাম আমাদের বর্তমান বাড়ি।

আমার মায়ের মুখের ভাষ্য অনুযায়ী আমার দাদার বাড়ি ছিলো ধলিয়া ইউনিয়নের বাঘের হাট গ্রামে। তিনি মোটামুটি ধনী ছিলেন। সুতরাং তার বাড়িও ছিলো মোটামুটি বড় ও প্রতিষ্ঠিত গোচের। বাড়ির নাম ছিলো নাকি তোপাদ্দর বাড়ি।

রোগ না একসিডেন্ট বা কী কারণে যেন আমার দাদার মা-বাবা সহ সকলে মারা যায়। বেঁচে থাকে শুধু আমার দাদা, আর তার বড় এক বোন। তখন পাড়া-প্রতিবেশিগণ বোনটিকে নাকি মরুয়ার চর, আমাদের নিকটতম একটি গ্রামের কোথায় যেন, কোন এক পয়সাওয়ালা পরিবারে বিয়ে দিয়ে দেয়। আর আমার দাদা তখন ছিলো নাকি একেবারেই শিশু বয়সের। মানে এতিম। তখন আমার দাদাকে দত্তক আনে, আমাদের বর্তমান বাড়ির পাশের বাড়ি জুলফিকার সওদাগর বাড়ির পূর্বপূরুষগণ। আমার দাদার সেই পৈত্রিক বাড়ির কোন সম্পত্তি বা এর কোন পরিচয়ও আমার বাবা বা আমরা, কেউই পাইনি। আমার দাদা বড় হওয়ার পর, তাঁর কোন পৈত্রিক সম্পত্তি, তিনি বা তাঁর পক্ষে আমার বাবা, কেন আনতে পারেন নাই; এ বিষয়ে আমরা কিছু জানিনা।

প্রিয় পাঠক, চিন্তা করুন, আমার মা'ও এতিম, আমার দাদাও এতিম। উভয়কেই এ গ্রামে দত্তক আনা হয়। মানে এ গোবিন্দপুর গ্রামে আমাদের স্থায়ী কোন আদি নিবাস ছিলো না; এখানে আমাদের অতীত সূত্র ছিন্নমূল ছাড়া আর কিছু না। অর্থাৎ আমি প্রায় এতিম বংশের সন্তান। অর্থাৎ এখানে না ছিলো আমাদের এক ইঞ্চি সম্পত্তি এবং না ছিলো আমাদের কোন সম্মানজনক অবস্থান।

তো পালিত হিসেবে জুলফিকার আলী সওদাগর বাড়িতে আমার দাদার বয়স যখন ১১/১২ বছর হয়েছিলো; তখন আমার দাদা নাকি পালিয়ে বার্মা চলে যায় কাজের সন্ধানে। এখন যেমন মানুষ কাজের সন্ধানে ইউরোপ, মিডেলিস্ট ইত্যাদি স্থানে যায়; তখন বাংলাদেশের মানুষ বার্মা শহরে যেত।

দাদার যৌবনকালে দাদা বার্মা থেকে আবার এ গ্রামে ফিরে আসেন এবং জুলফিকার সওদাগর বাড়ির পাশে এবং নিকটেই ও এ গ্রামের মধ্যে হাজী নূরের জামান সওদাগর বাড়িতে অল্প কিছু জায়গা ক্রয় করে এখানেই কোন মতে একটি ঘর দিয়ে এখানেই বসত গড়েন ও বাস করতে থাকেন।

আমার দাদা তার পাশের বাড়ির, মানে জহিরুদ্দীন হাফেজের বাড়ীর, বর্তমানে যিনি, আমাদের সামাজিক মসজিদের পাঞ্জেগানা ঈমাম সাহেব, তাঁর বাবার বোন, মানে তাঁর ফুফুকে বিয়ে করেন। আমার এ পাঞ্জেগানা ঈমাম কাকার নাম মৌলভী আবু তাহের।

আমার দাদার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে ছিলো। অবশ্য ছোট মেয়েটি নাকি ৩ বছর বয়সে আমাশয় রোগে মারা যায়। আর আমার বাকি ফুফুকে বিয়ে দেয়া হয় পার্শ্ববর্তী কাতালিয়া গ্রামে।

আমার দাদার ডানপিঠে স্বভাবের ছোট সন্তান হিসেবে আমার বাবা বৃটিশ শাসনামলে বাড়ি থেকে পালিয়ে, অর্থাৎ কাউকে কিছু না জানিয়ে ভারতীয় আর্মিতে যোগদান করেন এবং আর্মীতে থেকে আর্মী মেডিকেল কোরের সদস্য হিসেবে 'মেডিকেল এসিসটেন্ট' কোর্সটি সফলতার সহিত উত্তীর্ণ হন। তখন এ কোর্সটি পরিচালিত হয়েছিলো সম্পূর্ণ ইংরেজ আর্মী ডাক্তারদের দ্বারা। মানে এ কোর্সটি পরিচালিত হয়েছিলো শুধুই ইংরেজী ভাষায়।

প্রিয় পাঠক, এখানে আপনাদেরকে একটা বিষয় ভাবতে অনুরোধ করবো, একটা বাঙ্গালী পরিবারের গ্রাম্য, অপ্রশিক্ষিত ও ভীরু অঞ্চলের প্রায় বালক মানুষ, সেই বৃটিশ শাসনামলে সুবিধা বঞ্চিত গেঁও স্বভাব ও গেঁও বাংলা জানে ওয়ালা মানুষ কেমন করে ইংরেজ কর্তৃক পরিচালিত সম্পূর্ণ ও শুধুই ইংরেজী ভাষায় মেডিকেল এসিসট্যান্ট এর মতো একটি কোর্স পাশ করতে পারে!? যে কোর্সটি বর্তমানে এস এস সি'র পর ৪ বছর মেয়াদে পরিচালিত হয় এবং এ কোর্সটি পাশ করে বর্তমানে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের মতো ২য় শ্রেণীর চাকুরী করে অনেকটা সম্মানী হয়েই জীবন-যাপন করছে এ দেশের মানুষেরা!

শুধু তাই নয়; কোর্সটি চলা কালীন আমার বাবার যে কেউ খোঁজ নিবেন, এ রকমওতো কেউ ছিলো না! তাঁকে কেউ আদর-যত্ন করা গিয়ে দূরে থাক! যাক, আমার বাবা হয়তো আল্লাহর বিশেষ কোন রহমতেই হয়তো এটি পেরেছিলেন!

এ কোর্সটি পাশের পর আমার বাবা, বৃটিশ আর্মি পরিচালিত হাসপাতালের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন এবং সেখানে নিজেই চিকিৎসা সেবা দিতেন। বড় ডাক্তারগণ হয়তো কোনদিন আসতোও না। বাবার মুখে শুনেছি; আসলেও তারা প্রয়োজনে আসতেন, কার্য সমাধার পর আবার চলে যেতেন। হাসপাতালের আভ্যন্তরিন যত পরিচালনা ও কর্ম আমার বাবাই সমাধা দিতেন এবং যা আমার বাবার নের্তৃত্বেই চলতো।

একটু চিন্তা করুন; বর্তমানকার আধুনিক সময়কার বাংলাদেশের; যখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় ইংরেজী ভাষার দু'চারটি শব্দ মানুষ এমনিতেই জানে; এখনো আমাদের গ্রাম গুলোর ১৩/১৪ বছর বয়সের ছেলেগুলোকে যদি বলা হয়; ফুল ইংরেজীতে, ইংলিশ মিডিয়ামে এ রকম একটি কোর্সে ভর্তি হয়ে পাশ করতে; তাহলে কয়জন পারবে বলেন!? তার উপর আমার বাবাকে যে মানসিক সাপোর্ট দিবে, তাঁর পাশে, তাঁর পরিবার থেকে, বা কেউ'ই এ রকম ছিলো না। এমনকি অভিভাবক হিসেবে বা আপনজন হিসেবে যোগাযোগ করার মতো বা পরিচয় দেয়ার মতোও কেউ ছিলো না। এছাড়া তখন চলছিলো জাপান ও বৃটিশের যুদ্ধ। এছাড়াও এর কিছু দিনের মধ্যেই আরম্ভ হয়েছিলো হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে মারামারি আর কাটাকাটি, মানে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা। অন্যদিকে তখনকার সমাজে এমনিতেই সেনাবাহিনীতে ভর্তি হওয়ার মতো এতো দূঃসাহস তখনকার মানুষদের ছিলো না। তার উপর আরো বাড়টি ঝামেলা ছিলো; আমার দেশের মুসলমান গণ অনেকেই তখন ইংরেজী শিক্ষা হারাম বলে জানতেন। তারউপর বাবার ছিলো না কোন পূর্ব প্রস্তুতি বা ট্রেনিং। সব মিলিয়ে আমার বাবা শত বছরেরও অধিক আগে যে কাজটি করে আমাদের পরিবার ও বংশকে একটা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছিলেন; আজ বাংলার ছেলেরা কয়জনে পারবে, এ রকম একটি কাজ করতে!? আমার মনে হয়, আমার বাবার মতো এতো দূঃসাহসিক ও মেধাবী বালক অন্তত বাংলাদেশের গ্রাম গুলোতে এমনকি এ দেশের শহরেও আপনারা এখন পর্যন্তও খুব একটা খুঁজে পাবেন না।

আমার বাবার এ তীক্ষ্ণ মেধা শক্তি, সাধনা ও অধ্যবসায়কে আমি কৃতজ্ঞতার সহিত স্মরণ করছি! এবং আমি তাঁর এ কাজের ভূয়োশী প্রশংসা করছি!

তেমনি ভাবে আমার জেঠাকেও। আমার জেঠার লেখাপড়ায় সর্বোত ভাবে নাকি সহযোগিতা করেছিলেন জুলফিকার আলী সওদাগর বাড়ির পূরুষগণ।

আমার জেঠা মাদরাসায় লেখাপড়া করেছিলেন এবং আলেম হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। গায়ে শক্তি থাকা পর্যন্ত তিনি মসজিদের ঈমামতি, মাদরাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে কাটিয়েছিলেন।

তিনি দানে বিয়ে করেছিলেন। মানে ফাতেমা (রাঃ) এঁর মতো গৃহস্থালিতে প্রয়োজন, এমন সব কিছু তাঁর শশুর, খুশি মনে ও নিজ থেকে, আমার জেঠার বিনা চাহিদায়, তাকে দিয়ে ছিলেন। আমার মরহুম জেঠা তার যৌবনের শুরুতে মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন; এবং পরে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসাবে পেনশন সহ সম্মানের সহিত রিটার্ড করেন ও এরপর তিনি সু-দীর্ঘ সময় আমাদের গ্রামের মসজিদের ঈমাম ও খতীবের দায়ীত্ব পালন করেন। আমি নিজে দেখেছি আমার মরহুম জেঠা ও বাবা ইন্তেকালের আগের মাস পর্যন্ত সরকারী পেনশন পেয়েছিলেন। 

তার মানে আমার জেঠা মানুষের নিকট মোটামুটি গ্রহণযোগ্য ও ভালোমানুষ ছিলেন। আমি আমার জেঠার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি ও তাঁর জন্য মহান রবের নিকট জান্নাতুল ফিরদাউস বেহেশতের উচ্চাসন কামনা করছি।

চাকুরী করা কালীন, আমার বাবা বেশ কিছু জমি ক্রয় করেন এবং তখন থেকে আমার বাবা ও জেঠা সমাজে মোটামুটি সম্মানজনক স্থানে পৌঁছান।

বাবা, দাদা কর্তৃক নির্মিত ঐ হাজী নূরের জামান ভূঞাঁ সওদাগর বাড়িতে, সামান্য ছোট খুপরী ঘরে বিয়ে করতে কিছুতেই রাজী ছিলেন না। তাই তিনি এর সামান্য একটু দূরে নতুন বাড়ি করলেন। যা আমাদের বর্তমান স্থায়ী ঠিকানা। এর পর তিনি বিয়ে করলেন এবং সংসার আরম্ভ করলেন। চাকুরীর সুবাধে তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের (ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান; যেহেতু তখন এ ৩টি দেশ একসাথে ছিলো) বিভিন্ন প্রদেশ ও জেলায় দায়িত্ব পালন করেন ও বিভিন্ন ভাষা-বাসি মানুষের সাথে মিলেমিশে জীবন-যাপনের সুযোগ হয়েছিলো তাঁর। তিনি এতো বেশি ইংরেজী জানতেন যে, যা বর্তমানে ইংরেজীতে মাস্টার্স বলেন কি ডক্টরেট বলেন, বাংলাদেশে থেকে এ ধরনের শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করে ইংরেজি জানা কখনোই সম্ভব নয় বলেই আমার মনে হয়। ইংরেজী ছাড়াও তিনি বেশ ভালো হিন্দি ও উর্দ্দু জানতেন। চাকুরীর শেষের দিকে আমার বাবা খুব চেষ্টা করেছিলেন, শহরের দিকে একটা বাড়ি কিনে, শহুরে হয়ে যেতে। একটা বাড়ির দরদাম ঠিকও করেছিলেন; কিন্তু গোবিন্দপুর গ্রামের, তার এ নতুন বাড়িটি (তার অংশ) বিক্রি করতে না পারায় এবং অর্থ সংকটের কারণে তিনি তা করতে পারেননি।

আমার বাবা আজ নেই। কিন্তু বাবার এই দূর্দান্ত সাহসী ও চেলেঞ্জিং জীবন-যাপনকে আমি আবারো সাধুবাদ জানাই।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে তিনি পেনশন সহ অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণ করার পর বেশ কিছু কাল তিনি গ্রাম্য ডাক্তার হিসেবে গ্রামের মানুষদেরকে পল্লি চিকিৎসক হিসেবে সেবা দিয়ে গিয়েছিলেন।

আমার বাবা বেস আধুনিক ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। তবে শেষ বয়সে তিনি আমাদের সংসারের হাল টানতে গিয়ে চরম অর্থ সংকটে পড়ে গিয়ে ছিলেন। যেহেতু চাকুরী অনেক আগেই ছেড়ে দিয়ে ছিলেন।

বর্তমানে আমাদের বাড়িতে ও আমাদের বংশে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা, ব্যাংকার, পৌর কর্মকর্তা, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সদস্য, হাইস্কুল শিক্ষক, প্রাইমারি শিক্ষক, ইউপি সচিব রয়েছে; এবং বাড়িটি প্রায় শতভাগ শিক্ষিত বাড়ি।

আপনারা লক্ষ্য করেছেন, আমার বর্ণনা অনুযায়ী যে বংশের শুরুটি ছিলো ছিন্নমূল এবং অসম্মানিত; কিন্তু আজ এ বাড়িটির মতো এমন শিক্ষিত বাড়ি গ্রামের মধ্যে আর ২/৪টা এখনো দেখতে পাওয়া যায় না!

আর এর সবই সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র জ্ঞান ও শিক্ষার কারণে। অর্থাৎ আমাদের এগিয়ে যাওয়ার মূল ভিত্তিই হচ্ছে, শুধু শিক্ষা। এ থেকে এ শিক্ষা নেয়া যায় যে, জ্ঞান ও বিদ্যা এমন একটি রত্ন, যা একজন মৃত প্রায় মানুষকেও জীবীত করে সম্মানিত করতে পারে!

তবে প্রিয় পাঠক! আমার বাবার যে স্বপ্ন ছিলো, শহরে বাড়ি করার। তাঁর সে স্বপ্ন তিনি পূরণ করতে পারেননি। আজ আমারও স্বপ্ন, যেহেতু আমার সঙ্গে জ্বীন রয়েছে, তাই তাদের সহায়তায় এ বাড়ির সদস্য হিসেবে, 'মায়ের স্মৃতি' নামে এক অত্যাধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নান্দনিক ও অনন্য এক বাড়ি করে; জ্বীন ও জ্বীন জাতির বৈশিষ্ট্য, সক্ষমতা ও কৃতিত্ত্ব বিশ্বের মাঝে তুলে ধরবো। যদি পরী ওপেন হয় এবং সে যদি রাজি থাকে, তবে আমার এ মনবাঞ্চনাটি বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।

প্রিয় পাঠক, আপনাদের দোয়া, আন্তরিকতা ও আল্লাহর রহমত পেলে হয়তো ইনশা'আল্লাহ্ আমি এ বিশ্বের মানচিত্রে আমার ও জ্বীনজাতির পরিচয় প্রদর্শন করে আশা করি আপনাদেরকে খুশি, সন্তুষ্ট, আনন্দিত ও আর্চার্যাম্বিত করতে পারবো।

দেখুন, আমি এখানে আমাদের অহংকার করছি না! আমার ও আমাদের পরিচয় তুলে ধরছি!

প্রিয় বন্ধু! আরো একটু ইঙ্গিত দিতে চাচ্ছি; ইতিপূর্বে আমি আপনাদেরকে বলেছিলাম। আমার মা একজন সৈয়দ বংশের সদস্য। সে সুবাধে আমিও সৈয়দ বংশীয় সদস্য। আমার বিভিন্ন উপস্বর্গ প্রকাশের মাধ্যমে আমি অনেক আগেই একে সত্য মনে করেছি এবং যা আমি আমার টেক্সট কন্টেন্ট ও ভিডিও কন্টেন্ট এর মাধ্যমে ইতিপূর্বে প্রকাশও করেছিলাম।

পবিত্র কোরআনের সূরা শূরা'র ২৩ নম্বর আয়াতে (৪২:২৩) আল্লাহ তাঁর নবীর প্রতি ভালোবাসার বিনিময়ে তাঁর আত্মীয়-স্বজনের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। এই আয়াতটি আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসার গুরুত্ব তুলে ধরে। 

আপনারা নিম্নের লিংকে ক্লিক করে অথবা লিংকটিকে কপি করে গুগলে পেস্ট করার পর সার্চ করলে এবং ভিডিটি দেখলে বিষয়টি আরো ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন। লিংকটি নিম্নরূপ-

https://www.youtube.com/watch?v=QhRq2S6auzA

সে সাথে এ পর্যন্ত আমিও কয়েক সময়'ই বলেছি যে, আমার সাথের এ জ্বীন বা অনেকগুলো জ্বীন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর সাহাবী জ্বীন। যাক আপনারা আমার জ্বীনের বিষয়ে মোটামুটি বুঝতে পেরেছেন যে, আমার সাথে জ্বীন রয়েছে। আবার আমার বিষয়েও এখনো আমার নাম এফিডেভিট করে সৈয়দ নামটিও আমি সংযোজন করতে পারিনি।

হ্যাঁ যদি সত্যিই মহান আল্লাহু তা'য়ালা আমাকে সৈয়দ বংশের সদস্য হিসেবে কবুল করে এবং আমার জ্বীন যদি সত্যিই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর সাহাবী (রাঃ) জ্বীন হয়; তাহলে আজ আপনাদের নিকট আমি চরম অবহেলিত হলেও; তবে ইনশা'আল্লাহ ইহা ১০০% সত্য হবে যে; আমার পজিশন আল্লাহু তা'য়ালা হয়তো এমন এক উন্নত স্থানে নিয়ে যাবে, যা আপনারা হয়তো ভাবতেও পারেন না! এবং আমার এ উন্নত পজিশনের বিষয়ে কল্পণা করার ক্ষমতাও হয়তো কোন মানুষের নেই!

প্রিয় সুধী, ধৈর্য ধরে তাই পড়া চালিয়ে গেলে আমার ও আমার এ জ্বীন জাতের বিষয়ে, অর্থাৎ আমার এ বাস্তব জীবন গল্পের বিষয়ে আরো অনেক কিছুই জানতে পারবেন হয়তো।

যদিও আমার বাবা আমার ও আমার ভাইদের নামের শেষে চৌধুরী, এ বংশীয় পরিচয়টি প্রদান করেন; আমি কিন্তু বাবার দেয়া এ বংশীয় পরিচয়ে থাকতে না চেয়ে, আমার মায়ের বংশ, সৈয়দ হিসেবেই আমার নিজের এবং আমার সন্তানদের পরিচয় প্রদান করি এবং খুব সহসাই আমি আমার মা, আমার এবং আমার সন্তানদের নামের এফিডেভিট করিয়ে চৌধূরী বাদ দেবো ও আমাদের সকলের নামের শুরুতে সৈয়দ সংযোজন করবো ইনশা'আল্লাহু তা'য়ালা। আমার পকেটে টাকা আসলে, প্রথমেই আমি এ কাজটি বাস্তবায়ন করবো ইনশা'আল্লাহ্।

অর্থাৎ আমরা চৌধুরী বংশের সদস্য নই; আমরা সৈয়দ বংশের সদস্য। তার মানে আমার এবং আমার সকল ওয়ারিশের বংশ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বংশ। এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের মাতৃকূল ও পিতৃকূলের দিক থেকে সকলেরই বংশ হবে শুধুমাত্র সৈয়দ বংশ। যার সূচনা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) থেকে এবং এর প্রারম্ভিকতা হযরত আলী (রাঃ) ও হযরত ফাতেমা (রাঃ) থেকে।

অতএব আমরা ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এঁর ওয়ারিশ। 

কিভাবে এবং কোন সূত্রে আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর ওয়ারিশ বা সৈয়দ বংশীয় তা বিস্তারিত ভাবে জানতে, আপনারা-

এখানে ক্লিক করতে পারেন

আমার শৈশবঃ

(০-১২ বছর, ১৯৭৬-১৯৮৭ ইং, জন্ম থেকে প্রাথমিক শিক্ষা স্তর শেষ করা পর্যন্ত): 

এন আই ডি কার্ডে আমার যে জন্ম তারিখ লিখা আছে (০১/০৬/১৯৭৭ ইং) তা আসলে সত্য নয়। কথাটি বলেছিলেন আমার বড় ভাই। তার মতে এন আই ডি কার্ডে আমার বয়স কমপক্ষে ১ বছর কমানো হয়েছে। চাকুরী পাওয়ার সুযোগ যাতে এক বছর বেশি থাকে, তাই স্কুল থেকে হয়তো এরুপ করা হয়েছে বলে আমার ধারনা। কারণ তখনো বাংলাদেশে শিশু জন্মসনদ এন্ট্রি বা এন আই ডি কার্ডের কোন নিয়ম ছিলো না। জন্ম তারিখের এন্ট্রি, ছাত্ররা যখন এস এস সি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করতো, সর্বপ্রথম তখনই একজন ছাত্র তার জন্ম তারিখটি তখন প্রদান করতে হতো। এস এস সি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের আগে বাংলাদেশের কোন পর্যায়ে জন্ম তারিখের প্রয়োজন পড়তো না তখন। আর যারা লেখাপড়া করতো না, তাদের কোথাও জন্ম তারিখ এন্ট্রি করার নিয়ম ছিলো না। 

বাংলাদেশে আনুমানিক ১৯৯৫ ইং সনে সর্ব প্রথম সরকার কর্তৃক এ দেশের নাগরিকদেরকে জন্মসনদ প্রদানের প্রক্রিয়া আরম্ভ করা হয়েছিলো। আর আমি এস এস সি পরীক্ষা দিয়েছিলাম ১৯৯৩ ইং সনে।

এখনো স্পষ্ট মনে পড়ছে (৩০/১২/২০২৪), আমার বাবা, আমার মেঝ ভাই সহ আমাকে আমার প্রায় ৫ বছর কি ৬ বছরের সময় ১৯৮৩ সনের দিকে  গোবিন্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেন।

আমার এখনো খুব সুন্দর করে মনে আছে, যখন ভর্তি হওয়ার জন্য স্কুলে যাচ্ছিলাম, তখন আমার মেঝ ভাইকে কৌতুহল ও ভয় মিশ্রিত ভাবে বলছিলাম, ভাইয়া! স্কুলে আমাকে ওরা কী করবে!? সাথে অবশ্য আরো কে একজন যেন ছিলো! তখন তারা আমাকে নিয়ে একটু মজা করলো!

আজ খুব মন চায়, আমার ভালো ভালো স্মৃতি সমূহ যদি ভিড়িও আকারে বেহেশতে গিয়ে দেখতে পারতাম!? 

ইনশা'আল্লাহ রবের অশেষ রহমতে হয়তো পারবোও!

ছোটবেলাতে ফিরে যাওয়াতো আর সম্ভব না তাই!

এরপর ১৯৮৯ ইং এর দিকে সফল ভাবে ৫ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা স্তর শেষ করি, মানে ৫ম শ্রেণী পাশ করি।

অবশ্য ৫ম শ্রেণীতে থাকা কালীন, আমার বাবার সাথে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে সঠিক বোঝাপড়ার অভাবে আমাকে উনি ১ বছর পড়াননি, মানে স্কুলে যেতে দেননি।

আমার কৈশোরঃ

(১৩-১৭ বছর, ১৯৮৮-১৯৯২ ইং, প্রাথমিক শিক্ষা স্তর সমাপনীর পর থেকে এস এস সি, মানে মধ্যমিক সমাপনী পর্যন্ত): 

৫ম শ্রেণী পাশ করার পর যথারীতী ভর্তি হই নিজ গ্রামস্থ গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে, যা গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই অবস্থিত।

এখান থেকে বিজ্ঞান গ্রুপে ১৯৯৩ ইং সনের পরীক্ষায় ২য় বিভাগে এস এস সি পাশ করি। যে পরীক্ষাটি বছরের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। এ পরীক্ষায় অল্প কয়েক নাম্বারের জন্য আমি ১ম বিভাগ পাইনি।

পাইতাম, কিন্তু টাকার অভাবে সঠিক সময়ে কোন গাইড বই বা নোট বই কিনতে পারিনি! প্রাইমারি বা হাইস্কুলের কোন ক্লাসেই কোন প্রাইভেট পড়তে বা কোন কোসিং ক্লাস করতে পারিনি। বাবার কাছে এতো টাকা ছিলো না যে, আমাকে অন্তত একমাস প্রাইভেট পড়াবে! আমার কোন গৃহ শিক্ষক ছিলো না। আবার নিজেও বেশি চালাক হয়ে যাওয়াতে পাঠ্যবই বাদ দিয়ে গান শোনা, টিভি দেখা, উপন্যাস পড়া ইত্যাদিতে সময় ব্যয় করেছি বেশি। 

মনে পড়ে, সেই শিশু কালেই আমার বড় ভায়ের বউ এর দিকের এক আত্মীয়কে বলেছিলাম, আমাকে মাদ্রাসায় পড়ালে ভালো হতো!

খুব মনেপড়ে ছোটবেলায় বাবা আমাকে পবিত্র কুরআন শরীফ হিফজ করানোর কথা বলেছিলো।

 কিন্তু কেন যে বাবা পড়ায়নি, তা আমি জানি না! 

হায় আফসোচ! যদি তিনি আমাকে হেফজ মাদরাসায় পড়াতেন; আর যদি আমি হাফেজ হতাম, আর আলেম হতাম, তাহলে তা আমার জন্য হয়তো কতইনা ভালো হতো!

অথচ তার বিপরীতে অষ্টম শ্রেণী পাশ করার পর বাবা আমাকে আর লেখা-পড়াই করাতে চাননি। 

তিনি চেয়েছিলেন, আমাকে টেইলারিং কাজ শিখিয়ে বিদেশ পাঠিয়ে দিতে। কিন্তু আমি এতে রাজি হইনি। বরং এতে বাবাকে দোষারোপ করেছিলাম।

অর্থনৈতিক টানাপোড়নে পড়ে, অথবা অর্থ এবং শিক্ষা ও আমার ডানপিঠে আচরণ এ তিনের সাংঘর্ষিক তিক্ত পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিফলের অভিজ্ঞতা থেকে হয়তো তিনি এ রকমটি চেয়েছিলেন।

এ সময়ে, অর্থাৎ ৮ম শ্রেণীতে থাকা কালীন একবার লেখা-পড়া ছেড়ে দিয়ে, বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম পালিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে উপায় বুদ্ধি খুঁজে না পেয়ে, আবার নিজে নিজেই ফিরে আসি।

আমার যৌবনকালঃ

(১৮ বছরের পর থেকে বা ১৯৯৩ ইং থেকে বা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারি এ ভর্তি হওয়ার পর থেকে চলমান সময় এবং ইনশা'আল্লাহ যা আমার পৌঢ় হওয়ার আগ পর্যন্ত চলবে)

মাধ্যমিক শিক্ষাস্তর, মানে এস এস সি পাশের পর ১৯৯৩ ইং সনে ভর্তি হই ফেনী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে। এখানে বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ইলেকট্রিক্যাল টেকনলোজিতে ৩ বছর মেয়াদী (বর্তমানে ৪ বছর) ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স কমপ্লিট করি। এবং ১৯৯৭ ইং সনে বাংলাদেশ টেকনিক্যাল টিসার্চ ট্রেনিং কলেজ, তেজগাঁও ঢাকা- এ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ৬ষ্ঠ পর্ব সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে (যেহেতু রাজনৈতিক সংঘর্ষের কারণে তখন ফেনী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট বন্ধ ছিলো) ২য় বিভাগে পাশ করি।

এ সময়ে আমি পাঠ্যবই অধ্যয়নের চাইতে উপন্যাস ও ধর্মীয় বই পড়া; এবং টিভি ড্রামা ও বাংলা সিনেমা দেখায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। একটি উপন্যাস লিখেছিলামও; যার নাম দিয়েছিলাম হৃদয়; কিন্তু তা প্রকাশ করতে পারিনি।

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ৩য় বর্ষ থেকে আমার এ ডানপিঠে কার্যক্রম গুলো, যেমন সিনেমা দেখা, রেডিও শোনো, টেপ রেকর্ডারে বিভিন্ন গান বাজানো ইত্যাদি বন্ধ করতে নিজ মনের সাথে নিজেই যুদ্ধ শুরু করি। এবং এক সময়, মানে ডিপ্লোমা পাশের ১/২ বছর পর, অর্থাৎ ১৯৯৮ কি ১৯৯৯ থেকে, এতে সফলও হই। মানে এসব গান শোনা বা সিনেমা দেখা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিই। অবশ্য মনে পড়ে নামাজ আমি সেই ৮ম শ্রেণি থেকেই নিয়মিত পড়তাম এবং যতদূর মনে পড়ে রোজায় নিয়মিত হই ১০ম বা একাদশ শ্রেণি থেকে।

অন্যদিকে মনের দিক থেকে আমি সব সময়ই ছিলাম একেবারে উদার ও সরল প্রকৃতির। কখনোই কোন নারীর পাল্লায় পড়ে নিজের চরিত্র বিনষ্ট হয়নি আমার। বরং আলহামদুলিল্লাহ! অনেকগুলো মেয়ের এবং তাদের গার্ডিয়ানদের আবেদন আমি প্রত্যাখান করতে সমর্থ হয়েছিলাম। যা সচরাচর অনেকগুলো পূরুষের দ্বারা হয়তো সম্ভব হতো না। তবে এখন মনে হয়, এতো ভদ্রতা দেখিয়ে মনে হয়, আমি খুব একটা লাভ করতে পারিনি। কারণ, এখন আমি সৌদি আরবের মক্কায় বা মদীনায় যেতে যে কোন ওয়ে গ্রহণ করতে আমি রাজী। অথচ তখন যদি আমার বুঝ ব্যবস্থা এখনকার মতো হতো; তাহলে তখন মক্কা বা মদীনায় যেতে হয়তো আমি পারতাম! এবং হয়তো বর্তমানে আমি হতাম মক্কা বা মদীনার বাসিন্দা। যা আজ আমি পরী ব্যতীত, পাগল হলেও হয়তো পারবো না। অথচ আজ আমি যদি পাগল হয়েও যদি যেতে পারতাম; তাহলেও চলে যেতাম। আর তাই আমার জ্বীন বা পরীকে ওপেন করা প্রয়োজন!

যাক সর্বশেষ আমি নারায়নগঞ্জ যখন হাইস্কুলে শিক্ষকতা করি ও লজিং থাকি; সেখানে যে ছাত্রীটি ছিলো; তার প্রেক্ষিতে আমার সাথে থাকা এ পরীর যোগসূত্রের সাথে; আমার বিরুদ্ধে তাদের কোন কূফরী কালাম বা ব্ল্যাক ম্যাজিক ছিলো কিনা আমি জানি না! তবে আমাকে আপন করতে আমার সেই ছাত্রী বা তার পরিবার খুব করে চেয়েছিলো!

 অন্যদিকে আমার শরীরে থাকা এ পরী বা জ্বীন; ইহা আমার কোপালের লিখন; মানে জন্মগত কিনা, তাও জানি না!

তবে আমাকে পেতে যে সব নারী ইচ্ছা পোষণ করেছিলো বা চেষ্টা করেছিলো; আজ আমি তাদের সবাইকে ভালোবাসি। এবং তাদের জন্য আমার যথেষ্ট দয়া হয়। মহান রবের নিকট দোয়া করি তাদের সবাই দুনিয়া ও আখিরাতে ভালো থাকুক!

 এ দিকে ডিপ্লোমা পাশের পর কিছু কাল সরকারী চাকরি খুঁজি এবং এরই মধ্যে ভর্তি হই, সম্ভবত ৩ মাস মেয়াদি ছিলো, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরী সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক), তেজগাঁও, ঢাকা- এ প্রতিষ্ঠানে শিল্প কারখানা রিলেটেড ইলেকট্রিক্যাল ট্রেড কোর্স অধ্যয়নের জন্য।

কোর্সটি কমপ্লিট করার আগেই কে যেন আমাকে নিয়ে গেলো কলাগাছিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, বন্দর, নারায়নগঞ্জ-এ উচ্চ বিদ্যালয়ের জেনারেল ইলেকট্রিশিয়ান ট্রেডে, ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পরীক্ষা দিতে।

পরীক্ষায় আমি প্রায় ৪০/৫০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ১ম স্থান অধিকার করলাম এবং ৮ ফেব্রুয়ারী ২০০০, এ তারিখে উক্ত পদে কারিগরী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। আমার ইনডেক্স নাম্বার ছিলো ৮০২২১৮।

আমার যোগ্যতা, দক্ষতা, উদারতা, সরলতা, বড়দেরকে সম্মান, ধার্মীকতা ও ছাত্র-ছাত্রীদেরকে স্নেহ-ভালবাসার মধ্য দিয়ে যথেষ্ট সুনামের সহিত শিক্ষকতা করে যাচ্ছিলাম। ছাত্র ও এলাকাবাসী আমার উপর যথেষ্ট সন্তুষ্ট ছিলো। আমার উপর তারা এতোই খুশি ছিলো যে, যা কোনদিন ভাষায় প্রকাশ করা আমার দ্বারা সম্ভব হবে না হয়তো। এতে শিক্ষকেরাও আমাকে সম্মান করতে ও আমাকে ভালোবাসতে বাধ্য হতে হচ্ছিলো।

কাছেই একটা লজিংয়ে উঠেছিলাম। কারণ প্রাথমিক ভাবে স্কুল থেকে আমি তেমন কোন বেতন পেতাম না। স্কুল থেকে সামান্য যা পেতাম তা দিয়ে আমার ঘর ভাড়া ও খাওয়া-দাওয়া সম্ভব হয়ে উঠতো না। তাই বাধ্য হয়েই লজিংয়ে থাকতে লাগলাম।

ছাত্র-ছাত্রীরা দলে দলে আসতে লাগলো আমার কাছে প্রাইভেট পড়ার জন্য। কিন্তু গৃহকর্তা এতে রাজী না থাকায় প্রাইভেট পড়ানো অব্যাহত করতে পারলাম না।

সরকারী নিবন্ধন না হওয়ায় ঘর ভাড়া করার সাহসও পাচ্ছিলাম না। তারপরও ঘরভাড়া নেয়ার জন্য অনেক খুঁজেছি। কিন্তু বেচেলর হিসেবে কোন ঘরভাড়া দিতে ঐ এলাকাবাসী রাজী ছিলো না।

লজিং বাড়িতে আমাকে থাকতে দেয়া ছোট্ট খুপড়ি ঘরটি, যা লজিং কর্তাদের ঘরের সামনেই তাদের বাড়ির সম্মুখে, তাদের মেইন ঘর থেকে আলাদা করে নির্মিত ছিলো।

এদিকে শিক্ষক হিসেবে সরকারি নিবন্ধন পেতে ৬ মাসেরও কিছু বেশি সময় লাগলো বলে মনে হয়।

এরপর এ বছরই, মানে এ ২০০০ সনের সেপ্টেম্বরের দিকেই আমার এমন এক জ্বর হলো, যা আমি হয়তো আমৃত্যু মনে রাখতে পারবো।

স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা আমাকে দেখার জন্য অনেক ফল-ফ্রুট নিয়ে আমার সেই ছোট্ট রুমটিতে হাজির হয়ে ছিলো, যা আজো যেন আমার চোখের উপর ভাসতেছে।

মূলত এরপর থেকেই আমার জীবনের মোড় পরিবর্তন হতে শুরু করলো।

নিকটে ছিলো একটি নূরানী মাদরাসা। অল্পদিনের মধ্যেই ঐ মাদরাসার হুজুরদের সাথে আমার ভালো একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠলো। বিশেষ করে মাওলানা আবদুল আজীজ (দা.বা.)। উনার কাছে শুরু করলাম পবিত্র কুরআন শরীফ কিভাবে শুদ্ধ করে পড়া যায়, সে শিক্ষা। উনিও আগ্রহ ভরে পড়ালেন। প্রতিদিন পড়তাম। প্রায় ৩/৪ মাস পড়েছিলাম। জানি না, উনি আজ কোথায় আছেন! কেমন আছেন! শুধু আমার রবের নিকট উনার জন্য এ প্রার্থনা করছি যে, "সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ইয়া আল্লাহু তা'য়ালা আমার এ শিক্ষকের জন্য তুমি সুস্থতা ও ঈমানের সহিত দুনিয়াতেও শান্তি ও দীর্ঘ নেক হায়াত রাখিও এবং তাঁর ইন্তেকালের পরে তাঁকে জান্নাতের উচ্চ আসন দান করিও। এবং জান্নাতে আমাকে তাঁর সাথী করিও। আর আমাকে হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) এঁর উসিলায় হলেও  তোমার একজন ওলির মর্যাদা, মানে তোমার একজন প্রকৃত বন্ধু হওয়ার তাওফিক দান করো।

আমাকে তোমার রহমতে ও বিশেষ ব্যবস্থায় সৌদি আরবের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে মক্কার মসজিদ, মসজিদে হারাম শরীফে নিয়ে যাবে। তোমার নিকট এ ফরিয়াদ আমার। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

এদিকে হাইস্কুলে শিক্ষকতা করা কালীন, এ স্কুলের স্যারদের অনেকে আমাকে আর ভালো চোখে দেখছিলো না। দু'এক দিন দু'এক জনে বলেই ফেলে ছিলো, নূরানী হুজুরদের সাথে কেন এতো সখ্যতা আমার? তারা সামাজিক ভাবে কি আমাদের সমান!?

তাদের কথা হলো, আমরা হাইস্কুল স্যার! আর এঁরা মাত্র নূরানী হুজুর!?

প্রত্যেকের একটা শ্রেণী ভেদ আছে! সোসাইটি আছে!

আমি নূরানী হুজুরদের সাথে মিশে, হাইস্কুল টিচারদের মান-ইজ্জত খর্ব করছি কিনা, এ নিয়ে আমার টিচার মহাশয়দের মধ্যে ছিলো অনেকটা ভয়! তাই তাদের অনেকে আমাকে এডিয়ে চলতো! আমি অনেকটা বুঝতে পারতাম না, কেন স্যারেরা আমাকে এভাবে এডিয়ে চলছে এখন। যেই স্যারেরা আমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলো, সেই স্যারেরা আমার সাথে চলাফেরা কমিয়ে দিয়েছে কেন!?

লজিং বাড়িতে ছাত্র-ছাত্রি হিসেবে ছিলো অষ্টম শ্রেণীর একটা মেয়ে, ৪র্থ শ্রেণীর তার একটা ছোট বোন এবং ক্লাস ওয়ানের একটা ছোট ভাই।

৮ম শ্রেণীর এ মেয়েটার কিছু কথা আমার দিলে যেন গেঁথে আছে আজো; হয়তো অনন্তকাল থাকবে। একদিন ও বলে, "স্যার আপনার সাথে কি আমার জোড়া!? আপনার সাথে আমার জোড়া হলেতো আমার কোপাল আসমানে লাগতো!"

আরেকদিন ও বলে, "আপনাদের বাড়ি নিবেন আমায়!? আমাকে এ নরকপুরী থেকে উদ্ধার করেন"

হয়তো আমাকে আপন করতে ওর মা-বাবা, দাদা-দাদু উস্কে দিয়েছিলো তাকে আমার বিরুদ্ধে। আরেকদিন সে বলে কি, "আমি যদি কোন কিছু চেয়ে না পাই, তাহলে আমি তাকে জনমের মতো শিক্ষা দিই, আর পঙ্গু করে ছাড়ি!"

আমি এ সব ব্ল্যাক মেজিক তখন বুঝতামও না; বিজ্ঞান মনষ্কা ছিলাম ও এ ধরনের কিছুকে পাত্তা দিতাম না।

তবে ঐ স্কুল ছেড়ে দিয়ে বাড়ি আসারও প্রায় ৩ বছর যাবৎ কেউ যদি তার চোখের দিকে আঙুল নিতো, তখন আমি যেন কেমন অস্বাভাবিক ব্যবহার করতাম, মানসিক রোগীর মতো চরম যন্ত্রণায় ভূগতাম। 

সে চোখে আঙুল দিয়ে প্রেম নিবেদন করতে গিয়ে আমায় এমন ভয় পাইয়ে দিয়ে ছিলো যে, এ জন্যে আমার এ অবস্থা হয়েছিলো।

আসলে প্রেম নিবেদন করা, এটা কোন অপরাধ নয়। তবে প্রেম নিবেদন করতে গিয়ে, প্রেমিককে পাওয়ার জন্য বা প্রেমিককে না পেয়ে, প্রতিশোধ নিতে তার উপর ব্ল্যাক ম্যাজিক করা, এগুলো হচ্ছে পাপ।

আমি জানিনা, আমার উপর কোন ব্ল্যাক ম্যাজিক করেছিলো কিনা কেউ। হয়তো করতেও পারে!

কারণ এরই কিছু দিনের মধ্যে আমি দুনিয়া বিমুখ হতে শুরু করি! আমার রব আল্লাহু তা'য়ালার প্রেম আমাকে এমন ভাবে আঁকড়ে ধরে, আমি যেন আমার রবের জন্য দিওয়ানাই হয়ে যেতে থাকলাম।

দিন যত যেতে থাকলো, তত আমি অনুভব করতে থাকলাম, আমার সাথে আমার রবের কোন এক দূত রয়েছে।

একদিন চট্টগ্রামে অবস্থিত, হাটহাজারী মাদরাসায় চিঠি পাঠালাম, চিঠিতে লিখলাম, ছেলে-মেয়ে একসাথে পড়াই, এতে ইসলামের পর্দার বিধান পালন করা সম্ভব হয় না। তাহলে আমার এ ইনকাম, এ চাকুরী কি হালাল হবে?

উনারা উত্তর দিলেন, না এটি হারাম চাকুরী। আপনি হালাল চাকুরীর জন্য চেষ্টা করুন।

এরপর এতো বেশি নামাজ পড়তে লাগলাম এবং এতো বেশি কুরআন তিলাওয়াত, তাসবীহ্ তাহলিল করতে লাগলাম, দোয়া দরুদ পড়তে লাগলাম, যা স্বাভাবিক ছিলো না।

এরপর দিন যত যেতে থাকে, আমার স্বাভাবিক জীবন-যাপন ব্যাহত হতে থাকে এবং এক সময় আমি চাকুরী ছেড়ে দিয়ে বাড়ি চলে আসতে বাধ্য হই। 

বাড়িতে তখন আমার বাবার ইনকাম ছিলো না। ভায়ের ইনকামের উপর চলছিলো বাবার সংসার। ফলে আমি, বাবা এবং ভায়ের একটা বোঝা হয়ে গেলাম।

বাবা, ভাই, ভাবী এবং বাড়িতে যারা রয়েছে, এঁরা সবাই দেখতে পেলো, আমার মাঝে রবের কোন এক মহাশক্তির উদ্ভব হয়েছে। প্রথম প্রথম না বুঝলেও পরবর্তীতে আমি একে বা এদেরকে জ্বীন বলে সাব্যস্ত বা অনুভব করলাম। আমার কাছে মনে হলো, আমাকে ১/২ জন পরী গ্রাস করে আছে অথবা একদল পরী অথবা পুরো একটি জ্বীন সম্প্রদায় আমাকে আসর করে আছে। পরবর্তীতে মাঝে-মধ্যে, এরা নিজকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর সাহাবী বলেও আমাকে বুঝিয়েছে। জানি না আমি ভূল বুঝেছি কিনা! বা আমাকে নিয়ে তারা কোন কৌতুক করেছে কিনা! 

এ অবস্থায় আমার আত্মীয়-স্বজনের প্রায় সবাই এদের বিষয়ে ভয় পেয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু বিষয়টা এখানেও নয়। আসল কথা হচ্ছে আমি তাদের কাউকে মানছিলাম না, বা মানতে পারছিলাম না তখন। তাদের কাউকে যে, আমার নেতা মেনে এবং তার অধীনে থেকে আমল-ইবাদত করে  আমি স্বাভাবিক হবো, এটা আমি কেন যেন মানি নাই। কারণ হঠাৎ করে এ অশরীরী মহা শক্তিধর বিষয়টি আমার উপর ভর করায় আমি একটু অস্বাভাবিক ছিলাম। 

এখন যেমন আমি কোন একটা রাণীর ছবির দিকে তাকালে আমার স্ত্রী আমার কাছ থেকে উঠে চলে যেতে চায়। (নভেম্বর ২০২৪)। 

এ রকম তাদেরও অনেকটা স্বার্থ চিন্তা বা আমি নিজকে নিজে রবের অলি খোঁজা অথবা হঠাৎ বিষয়টার উদ্ভব হওয়াতে হয়তো আমি এ রকম করছিলাম।

 ভাই বলেন কি ভাবী বলেন, সকলের চোখে-মুখেই দেখতে পেয়েছিলাম, শুধুই তাদের স্বার্থপরতা।

তাছাড়া ইনশা'আল্লাহ আমি যদি আল্লাহর বন্ধু হই। তাহলে কৌশলগত ভাবে অথবা অটোমেটিক্যালি ভাবে আমার শরীরে এদের প্রকাশ্যতার কারণে হয়তোবা এসব ঘটছিলো কিনা তা আমি জানিনা!

আর আমি যদি সত্যিই আল্লাহু তা'য়ালার বন্ধু হই; তাহলে এদের সাথে বাড়িতে আমার অবস্থান হবে কেন!? 

আমার অবস্থান হবে মসজিদ কিংবা মাদরাসা কেন্দ্রিক। বা আল্লাহু তা'য়ালার কোন এক অলি কেন্দ্রিক।

আমার বংশে ঐভাবে আমি কোন আল্লাহর অলিকে আমি দেখতে পাইনি।

 আর এ অবস্থায়, তাদের কাউকে মান্য করে জীবন চলার মানে হবে হয়তো, শুধু নিজস্ব বংশীয় পূজা ছাড়া আর কিছু না!

 তাছাড়া আমিতো শুধু তাদের জন্য দুনিয়াতে আসিনি!

আর এ কারণে এবং এভাবে যখন তাদের কাউকে আমি মানতে পারছিলাম না; তখন তারা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বাজে ব্যবহার সহ কৌশলগত অস্ত্র ধারণ করলো। 

আমাকে খারাপ জেনে হোক, কিংবা ভালো জেনে হোক, আমাকে তাড়ানোর বা হত্যা করার জন্য তারা সবাই মিলে আমার বিরুদ্ধে সব ধরনের শক্তি ও কৌশল প্রয়োগ করতে থাকলো।

এক এক সময় একেবারে হাঁফিয়ে উঠতাম। 

আমি একা, আর তারা বাড়ির সবাই। তাদের মানসিক অত্যাচারে দুইবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আমি চট্টগ্রাম চলে গিয়েছিলাম। 

জানিনা, আমার ভবিষ্যত সম্পর্কে সবাই একটা আইডিয়া করে (একটা শয়তান জ্বীন থাকে তার সাথে, এখন কী হয়, কে জানে! এ রকম) এবং আমার সাথে জ্বীন জাতিদের ২/১ জন অথবা তাদের একটা সম্প্রদায় থাকার কারণে, ও এ অবস্থায় আমার শারীরীক, মানসিক অবস্থা ও ক্যাপাসিটি কী হতে পারে বা থাকতে পারে, তার সঠিক জ্ঞান কারো জানা নয় বিধায় এবং শুধু অনুমান-ধারনার বশবর্তী হয়ে এ রকম করতো কিনা জানিনা! তবে মানুষের এ রকম অস্বাভাবিক এবং যন্ত্রণাময় ব্যবহারে আমি খুবই কষ্ট পেতাম! এবং যে কষ্টের কোন সীমা-পরিসীমা ছিলো না!

এরপরও আত্মীয়-স্বজনকে এতোই মান্য করতাম যে, আমি কখনো এদের বিরুদ্ধচারণ করতে পারছিলাম না! এবং বিরুদ্ধচারণ করা ও স্বার্থকেন্দ্রীক কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করা; তখন এসব আমি একেবারেই বুঝতাম না। অথচ এসব তারা আমার উপর নিষ্ঠুর, শত্রুতা ও হিংসাত্মক ভাবে প্রয়োগ করতে থাকলো।

আর তারাও আমার এ মান্যতার বা প্রতিবাদ না করার সুযোগটি নিয়ে ছোট ভাতিজা থেকে শুরু করে, গ্রামের রিক্সা ওয়ালা ও চায়ের দোকানের মেচিয়ার সহ আমাকে বিভিন্ন ভাবে অপমান করে আমাকে দাবিয়ে রাখার বা আমার জ্ঞান, মন, শক্তি ও সম্ভাবনাকে হত্যা করার বিভিন্ন অপকৌশল করে যাচ্ছিলো।

সে কী মানসিক যন্ত্রণা! এ যন্ত্রণার ওজন কত হবে তা আমি বুঝাতে পারবো না। যে দিকেই যাই, কেউ যেন আমায় এতোটুকু মান-ইজ্জত দিতে রাজী না! স্ত্রী, আপন, পর সবার কাছেই যেন লাঞ্চিত হচ্ছিলাম! পৃথিবীতে আমি যেন একেবারেই একা! সব চাইতে বেশি অপমাণিত হচ্ছিলাম অল্প বয়সের ছেলেপিলে, রিকসা ওয়ালা, চায়ের দোকানের মেচিয়ার এবং গ্রামের লোয়ার ও বোকা শ্রেণীর মানুষদের কাছে এবং তাদের তাচ্ছিল্যময় ব্যবহারে! এদেরকে কিছু বলতেও পারতাম না। কারণ যদিও তারা আমার মূল্যায়ন বুঝতো না বা সমাজের এলিট শ্রেণীর মানুষগুলো তাদেরকে ভূল বোঝাতো; আর তাই তাচ্ছিল্যমূলক ব্যবহার করতে এরা ছিলো যথেষ্ট পটু। অপরদিকে আমিও আমার বয়স, ব্যক্তিত্ব ইত্যাদির কারণে, স্বাভাবিক ভাবেই এদেরকে কিছু বলার, সে মানসিকতা আমার ছিলো না।

এইতো প্রতিবাদ করা শরু করেছি মাত্র ২/৩ বছর হলো। আর প্রতিবাদ করার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিলাম, ফেসবুক পোস্টে কন্টেন্ট লিখার মাধ্যমে। আস্তে আস্তে মুখেও। আল্লাহু তা'য়ালা মাফ করুক মাঝে-মধ্যে এদেরকে আমি গালি-গালাছ করতেও বাধ্য হয়েছিলাম। কিন্তু আমার নিজ বাড়ির একান্তই নিকটজন ব্যতিত কাউকেই কখনো কোন ধরনের গালি-গালাছ আমি করিনি। আর নিজেদেরকে মাঝে-মধ্যে মন্দ-সন্দ বলেছিলাম এ কারণে যে, এদেরকে ভদ্র ভাবে বললে, এদেরকে ভদ্র ব্যবহার করলে, এরা কিছুই শুনতো না। যেহেতু আমি অর্থনৈতিক ভাবেও একেবারেই ইয়াতিম ও জীর্ণ-শীর্ণ হয়ে গিয়েছিলাম। 

এরপর একসময় আস্তে আস্তে মানুষ আমায় বুঝতে শুরু করলো। এভাবে যখন মানুষ আমার জ্ঞান ও ঈমানের বিভিন্ন দিক ও প্রকৃত অবস্থা জানা শুরু করলো এবং নিজ পরিবার ও বংশে কিভাবে নিপীড়িত ও নির্যাতিত হচ্ছি, তা জানা ও বুঝা শুরু করলো; তখন আমার পরিবার ও বংশীয় সদস্যগণ, যারা আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছিলো, ছোট-বড় তাদের সবাই এবার আস্তে আস্তে নমনীয় হতে বাধ্য হতে থাকলো! কারণ আমি তখন প্রতিবাদ করা শুরু করেছি এবং মানুষেরাও আমার এ জ্বীনের ভালো দিকগুলো আস্তে আস্তে বুঝা শুরু করেছিলো।

এ বিষয়ক বিভিন্ন ঘটনা সমূহ আপনারা গুগলে jinmanb.blogspot.com লিখে সার্চ দিয়ে সেখান থেকে পড়ে নিতে পারেন।

আর আমার সাথে থাকা অশরীরী এ বিষয়টি, এটা কি আমার জন্মগত না ব্ল্যাক ম্যাজিক থেকে উৎপত্তি তা আমি ঠিক এখনো বুঝতে পারছি না।

আল্লাহু তা'য়ালা মাফ করুক, এ সময়ে মাঝে মাঝে আমি আমার এ অশরীরী বিষয়টির জন্য, আমার সে লজিং হোল্ডারদেরকে দায়ী করে কথা বলেছি।

এটি হয়তো সত্য নাও হতে পারে। আমাকে নিয়ে আমার রবের হয়তো অন্য কোন উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। যার জন্য সকলের নিকট আমি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাচ্ছি। আমার সাথে রবের দূতের এ সম্পর্ক, এ জন্যে তারা হয়তো দায়ী নাও থাকতে পারেন। কারণ তাদেরকে দায়ী করার বিষয়টি ছিলো শুধুই আমার অনুমান আর ধারনা নির্ভর। এবং যা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করার কারণেই, ও এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না ফুটার কারণেই আমি হয়তো এসব বলেছিলাম।

(সাঃ) হে আল্লাহ! তুমি আমায় মাফ করো। আমি ভবিষ্যতে তাদেরকে দায়ী করে ইনশা'আল্লাহ আর কিছু বলবো না। (সাঃ)

ভায়েরা, আগে যদি বুঝতাম যে সৌদি আরবে অবস্থিত আল্লাহু তা'য়ালার ঘর কা'বার সাথে আমার এতো নাড়ির সম্পর্ক হবে, আত্মার এতো টান হবে, তাহলে যৌবন বয়সে অনেক মেয়ের অভিভাবকদের কাছ থেকেই আমি এ ধরনের অফার পেয়েছিলাম। তখন আমি অবশ্যই চলে যেতাম। 

যাক, এখন আমার একটিই উদ্দেশ্য, আমি কিভাবে আল্লাহু তা'য়ালার বন্ধু হতে পারবো! কিভাবে আল্লাহু তা'য়ালার একজন সত্যিকারের অলি হতে পারবো! আর কিভাবে সৌদি আরবের নাগরিক হয়ে মসজিদে হারাম শরীফে নিয়মিত নামাজ পড়তে পারবো! এবং এ মসজিদে এত্বেকাফ করে ঈমানের সহিত ইবাদতরত অবস্থায় কিভাবে এ ধরাধাম ত্যাগ করতে পারবো!

এখানে রবের নিকট আমার আরেকটি বিশেষ বিষয় চাওয়ার রয়েছে এবং এখন তাঁর নিকট আমি তা চাচ্ছি। তা হচ্ছে-

 সাঃ, হে আল্লাহ! আমাকে যদি তোমার বন্ধু ও মানুষের সেবক হিসেবে গ্রহণ করো; তবে মানুষ হিসেবে আমার, মানে জনাব আরিফের, মানে মানুষের এ দেহ, মন ও ব্রেনে তুমি ১০০% মানুষ ও জ্বীনের বৈশিষ্ট্য; তথা উত্তম আখলাক, শক্তি, সৌন্দর্য, সক্ষমতা, রূপ-লাবণ্য, হায়াত ইত্যাদি উভয় জাতি হিসেবে উভয় জাতির নিকট আমাকে দৃশ্যমান করবে (জ্বীনদের নিকটও) এবং মানুষ ও জ্বীন, উভয় জাতিকেই বুঝিয়ে দিবে যে, এ মানুষটির মাঝে উভয় জাতির বৈশিষ্ট্য শতভাগ বিরাজমান। অপর দিকে আমার সঙ্গে থাকা এ পরী/জ্বীন যেন মানুষের বেসে আলাদা শরীরে আমার সাথে মানুষের মাঝে এবং প্রকাশ্যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর সাহাবীদের যুগের পর থেকে কেয়ামতের আগ পর্যন্ত পৃথীবীর শ্রেষ্ঠ জ্ঞানবান, রূপবতী, ধনবতী, শক্তিময়, সেবক ও সর্বদিক দিয়ে শ্রেষ্ঠতম যোগ্যতা নিয়ে আমার সাথে অবস্থান করে এবং ইসলামি শিক্ষা ও ইসলাম প্রচারের কাজে আত্মনিয়োগ করে [হযরত ঈমাম মাহাদী (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ) ব্যতীত]। আমাকে জ্বীনদের সমাজে যাওয়ার এবং তাদের সাথে, তাদের বন্ধু হিসেবে, ওপেনলি ও স্বাভাবিক ভাবে মিলেমিশে চলার তাওফিক দিবে।  ইয়া আল্লাহ! পৃথিবী থেকে আমাদের ইন্তেকাল একসাথে দিবে এবং আমরা যদি উভয়েই তোমার অলি বা বন্ধু হই, তবে আমাদের সকল কাজে সমানে সমানে সাওয়াব-গুনাহ বন্টন করবে। এমনটি যাতে না হয় যে, একজনের ইন্তেকাল দিবে; কিন্তু অপরজনকে বাঁচিয়ে রাখবে। প্রয়োজনে ব্যতিক্রম এক সৃষ্টি হিসেবে আমাদেরকে হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষ বছর তোমার উত্তম ঈবাদতকারী ও শ্রেষ্ঠতম ভাবে মানুষের সেবক হিসেবে বাঁচিয়ে রাখবে। কিন্তু কোন পাপ কাজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তাহলে প্রয়োজন নেই। আমাদের নিজেদের সকল কাজে একে অপরকে সহযোগী, সান্তনাদানকারী, সাহসযুগানেওয়ালাকারী হিসেবে একই মন, ব্রেন ও শরীরে সার্বক্ষণিক অবস্থান করার তাওফিক দিবে। আমাদের উভয়কে একক এবং আলাদাভাবে ফলপ্রসু নেক নিয়ত করার তাওফিক দিবে ও এতে আমাদের সকল কাজে একে, অপরকে পরিপুরক হিসেবে, আমাদের সকল কাজ সমাধা করতে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালানোর জন্য তাওফিক দিবে।

আমরা যেন জ্বীনদের সাথে ওপেনলি মিলেমিশে চলতে পারি। এবং মানুষের সাথেও। আমাদেরকে এ তাওফিক দিবে। জ্বীনেরা যেন বুঝতে পায় যে, ইনি হচ্ছেন একজন উত্তম আখলাকের জ্বীন এবং মানুষেরা যেন বুঝতে পায় যে, ইনি হচ্ছেন একজন উত্তম আখলাকের মানুষ। ইয়া আল্লাহু তা'য়ালা আমার এ আন্তরিক দোয়াখানা তুমি কবূল করবে। আমীন। সাঃ।

বলা বাহুল্য, ইনশা'আল্লাহ! আল্লাহু তা'য়ালার খাঁটি বান্দা হিসেবে, আল্লাহু তা'য়ালার গোলাম হিসেবে চলতে গিয়ে, মানুষকে উদার ভাবে ভালোবাসতে গিয়ে, মানুষের সেবা করতে গিয়ে, এবং সেবা করার মানসিকতা রাখতে গিয়ে, আমাকে সীমাহীন ত্যাগ ও দুঃখ-কষ্ট সইতে হচ্ছে এবং চরম ভাবে আমি পাপীও হয়ে গেছি আজ। এবং প্রায় নিঃস্ব জীবন কাটাতে হচ্ছে আমাকে।

জানি না শেষ পর্যন্ত আমার পিউরিটি আমি ধরে রাখতে পারবো কিনা এবং আমার রবকে আমি পাবো কিনা!

সবকিছু লিখতে আসলে মন চাচ্ছে না। কারণ জীবনে মানুষের জন্য চোখে পড়ার মতো কিছু যদি করতেই না পারি, মানুষ আমার সেবা পেয়ে যদি উপকৃতই না হয়, তাহলে আমার এসব পড়বে কে এবং কী লাভ হবে এসব লিখে!

তবুও একটু একটু লিখি। মানুষের জন্য সেবা মূলক কিছু করতে পারলে, তখন বিস্তারিত ভাবে লিখবো। এবং হঠাৎ করেতো তখন হয়তো এতো কিছু লিখতেও পারবো না। তাই কিছু কিছু লিখছি।

তো হাইস্কুলে চাকুরী ছেড়ে দেয়ার পর অনেক গুলো চাকুরী ধরেছি এবং অনেক গুলো চাকুরী ছেড়েছি। মান সম্মত একটি চাকুরিও পাইনি।

একসময় চাকুরী বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করলাম বন্ধন ফাউন্ডেশন নামে, সমাজ ও মানব সেবা মূলক একটি প্রতিষ্ঠান এবং এর অধীনে চালু করলাম  ইসলামী সমবায় সমিতি। প্রায় ৬/৭ বছর তা চালিয়ে ছিলামও।

পরে চেষ্টা করলাম ডিস্ট্রিবিউটেড ব্যবসা করতে এবং হলুদ, মরিছ ও মসলার উৎপাদনমূখী ব্যবসা করতে।

কিন্তু কোন কিছুতেই সফলতা পাই নি। 

চেষ্টা করেছিলাম ইউটিউবে কোরআন তিলাওয়াত শিক্ষার একটা কোর্স পরিচালনা করবো এবং ওয়েবসাইট বানিয়ে মানুষকে তথ্যসেবা প্রদান করবো।

কিন্তু আমার প্রতি আপনজনদের বেড আইডিয়া হওয়ার কারণে এবং এরই প্রভাবে সৃষ্ট দারিদ্রতার কষাঘাতে কোন কিছুই আমার হচ্ছিলো না।

সবচাইতে বেশি আঘাত ও মর্মাহত হয়েছি, আপনজনদের দ্বারা। এদের কেউ আমার একটি কাজেও সহযোগিতা ও সাপোর্ট দেয়নি। হয়তো তাদের দৃঢ়মূল ধারনা ছিলো, আমার সাথের এ জ্বীন বা পরীটি একজন দুষ্ট জ্বীন বা কাফের জ্বীন। তাই একদিকে যেমন আমি অর্থনৈতিক ভাবে ফকির হয়ে যাওয়া; অপরদিকে তাদের স্বার্থবাদী ব্যবহার এবং আবার এ দূষ্টজ্বীন কখন কী ক্ষতি করে বসে; এসব থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে হয়তো তারা এ রকমটি করতে পারে।

আমার মনে হয়, মূলত এ কারণেই আমার কোন কাজে সফলতা আসছিলো না। যেহেতু আলহামদুলিল্লাহ! আমি মুমেন ও মুসলিম ছিলাম। আর এ কথা সত্য যে, কেউ যদি সত্যিই মুমেন হয়; তাহলে সে কষ্মিক কালেও, তার রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়দের অমতে বা বাধার মুখে, কিছু করে সফলতা পাবে বলে আমি মনে করি না। আসলে তারা আমায় বুঝতে পারেনি এবং আমায় নিয়ে তাদের অহেতুক ও শুধুই তাদের ধারনা নির্ভর ভয় ছিলো। 

আমার পরিবার, আত্মীয়, বংশ ও পাড়া-প্রতিবেশী, গ্রামবাসী এবং পরিচিত জনদের সবার চোখে আমার সাথে যে বা যারা ছিলো; তারা ইবলিশ জ্বীন হিসেবেই তাদের বদ্ধমূল বিশ্বাস হয়ে গিয়েছিলো!

কিন্তু ঠিক কেন ও কী কারণে; বা আমার কোন্ কোন্ ব্যবহারে, তারা আমার বিষয়ে এতো বড় একটা ভূল আইডিয়া করলো এবং তাদের এ আইডিয়াকেই সত্য মনে করলো; ও তা প্রকাশ ও প্রচার করে আমার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সমাজ ও দেশের সর্বস্তরে আমার জীবন-যাপন ও বেঁচে থাকাকে একটা হুমকি, যন্ত্রণা, অপমাণ আর বীভীষীকার মধ্যে ফেলে দিয়েছিলো, তা আমি সঠিক ভাবে বুঝতে পারিনি।

এবং কী লক্ষণ দেখেছিলো যে, যে কারণে তারা আমার সাথে থাকা এ জ্বীন জাতিকে, তাড়াতে তারা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলো! আমি প্রকাশিত হলে তাদের কী ক্ষতি হতো বলে তারা মনে করেছে বা আমাকে নিয়ে তাদের কোথায় এতো ভয় ছিলো; তা আমি পোরোপুরি আজো বুঝি না! (০৮/২০২৫)

ভাই, বুঝবো কী করে বলেন! যেদিকেই যাই; মানুষকে যাই'ই বলতে চাই, কেউ যেন আমায় সহজ ভাবে মেনে নেয় না! ভিতরগত ভাবে কেউ যেন আমায় দেখতে পায় না। আমার ভালো কোন কথায় বা কাজে কেউ যেন আমায়, সাপোর্ট দেয় না; সমর্থন করে না। কারো কাছ থেকে যেন কোন ধরনের আন্তরিকতা ও দয়া-মায়া পাইনা। মানসিকতার সে কি করুন ও বেদনাদায়ক অবস্থা! সবাই মনে করে যে, আমার সাথে শয়তান জ্বীন থাকে; তাই আমি কারো হৃদয় বা সাপোর্ট পেতে পারিনা; এ রকম একটি অবস্থা!

আর এ পর্যন্ত আমি কোন ভালো মানুষও পাইনি।

উনারা আমাকে বিভিন্ন ধরনের ঔষুধ খাইয়ে, বিভিন্ন তাবিজ-তুমার আমার গলায় ও হাতে প্যাঁচিয়ে, বিভিন্ন গুণিন-বদ্যের ঝাড়-ফুক ব্যবহার করে আমার উপর এই যে, জ্বীনের আসর হওয়া, আমার জীবনের এই যে একটা স্মরণীয় ঘটনা; তা তারা ভূলিয়ে দিতে সমর্থ হয়েছিলো। ২০০১ থেকে উদ্ভব হওয়া আমাকে জ্বীন কর্তৃক ঘ্রাস করার বিষয়টি প্রায় ২০২১ পর্যন্ত ভূলে ছিলাম বা প্রকৃত বিষয়টি বুঝতে পারিনি। অর্থাৎ যদিও আমার শরীরে জ্বীনের কিছু প্রভাব ছিলো; তবুও আমি কিন্তু তা বুঝতে পারিনি বা পারতাম না।

সম্ভবত ২০০১ সনে মসজিদের মধ্যে এত্বেকাফে থাকা কালীন, আমারই নিজ ভাই আমাকে যাকাতের টাকা দিতে চায়; আর মসজিদের ঈমাম সাহেব আমার উপর চোখ রাঙ্গায় টাকা গুলো লওয়ার জন্য। উনি বাড়িতে পাশাপাশি ঘর বাদ দিয়ে মসজিদে টাকা দিতে যায়। আবার এত্বেকাফের সময় যতই নামাজ আর কোরআন তিলাওয়াত করি; মানুষ কোন সাধুবাদতো জানায়'ই না; উল্টো বিভিন্ন টিটকিরি করে শুধু! 

তখন মাথায় ইলেকট্রিক শখ খাওয়ার দশা! এই শুরু করলাম প্রতিবাদ। এরপর থেকে একে একে মনে পড়তে থাকলো, কেমন করে আমার নিজ বড় ভাই, আমাকে আমার বাবার পুকুর থেকে, আমার নিজ ঘর ভিটা বাঁধাই করার জন্য অল্প কিছু মাটি আনতে দেয়নি, বাধা দিয়েছে; কেমন করে আমি একটি মুদী দোকান দিয়েছিলাম, আর আমার বড় ভাইকে হাজারো অনুরোধ করার পরেও, উনি আমার কাছে যেতেন না; কেমন করে বাবা জীবীত থাকতে কেনা আমাদের ৩ ভাইয়ের নামে কেনা জমি আমার আরেক ভাই আমাকে দখল না দিলে, তখন জেঠাতো ভাই বলতেন জমি ক্রয়ের টাকা দিতে হবে, না হয় দখল দেয়া হবে না এবং কেমন করে রাতে স্ত্রীর সাথে শুতে গেলেও ভাবী সাহেবা অপমাণমূলক ব্যবহার করেছেন এবং কেন স্ত্রীর দ্বারা এভাবে তাচ্ছিল্য আর অপমানের শীকার হচ্ছিলাম। ইত্যাদি। ইত্যাদি। এভাবে আমাকে অপমানে অপমানে কোনঠাসা করে দাবিয়ে রাখার প্রচেষ্টা তারা অব্যাহত রাখলো।

আর কেনই'বা রাখবেনা বলেন? আমি এমন কতগুলো ভাব ভঙ্গিমা ও আকার ইঙ্গিত দেখাই এবং ইশারা ইঙ্গিতে যা করবো বলে বলি; যা সাধারণত কোন মানুষের দ্বারাই সম্ভব নয়। আর আমার মতো এ রকম লোয়ার পর্যায়ের মানুষের দ্বারাতো এসব কখনো সম্ভব হওয়ার প্রশ্নই উঠে না!  ফলে আমার মতো এ পর্যায়ের মানুষের দ্বারা এসবের বাস্তবায়ন কখনো সম্ভব নয় মনে করে, এবং আমাকে পাগল বিবেচনা করে ও দূষ্ট জ্বীন বিবেচনা করে হয়তো তারা এ রকম করতো! যেমন কথার কথা সমাজের মানুষকে যদি আমি বলি, ইনশা'আল্লাহ, আমি সৌদি নাগরিক হবো! মসজিদে হারাম শরীফে নিয়মিত নামাজ পড়বো ও এ মসজিদে এত্বেকাফ করবো! তখন স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ গুলো আমায় পাগল বলবেই!

আর যেহেতু এসব বিষয়ে আমার কিছু না কিছু বুঝ হয়েছে; তাই আমি মানুষকে দোষ দিবো কিভাবে!? 

কেউ একজন যদি মূল বিষয়টি বুঝতেই না পায়; জ্বীনের প্রভাবে যদি আমার শারীরিক-মানসিক অবস্থা কীরূপ তা মানুষগণ যদি বুঝতেই না পারে; অথবা তখন না বুঝে বা ভূল বুঝে আমার উপর কিছু অন্যায় করেও ফেলে; তবু তাকে কি দোষ বা শাস্তি দেওয়া যায়? যায় না! কারণ সেতো আমাকে বুঝতেই পারেনি! আমার বিষয়টাও এ রকমই!!

তাছাড়া তারা সমাজের সবাই আমার প্রতি অন্যায়, আর জুলুম করলেও, আসলেতো তারা আমাকে এবং আমার সমাজকে প্রিভেন্টিং দিতেই এ রকম করেছে!! 

সুতরাং দশজন থেকে বেশি বুঝতে গিয়ে, বেশি উদার হয়ে, বেশি আবেগ রেখে, বেশি আশা করে, আজ আমি পদে পদে অপমাণিত হচ্ছি! মার খাচ্ছি! সবইতো আসলে আমার নিয়তেরই ফল! তাই আমার বিরুদ্ধে সুবিধা ভোগিরা আমাকে বেকায়দায় ফেললেও; আমিতো আর ঐভাবে একশান নিতে পারিনা! 

আমি কাকে দোষ দিবো বলেন? যেহেতু এ রকম দৈত স্বত্ত্বার মানুষ যে তারা বা তাদের পূর্ব পুরুষগণ হয়তো সৃষ্টির শুরু থেকে এ পর্যন্তও কেউ দেখতে পায়নি যে!! তাই রবের নিকট আমার ফরিয়াদ; উদারতা ও মহানুভবতা এবং ব্যক্তত্ব ও চরিত্রের দিক থেকে অতি উত্তম আবেগ বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষকে কাঁদালেও, মানে ফেইলিউর করলেও, অন্তত একজন মানুষকে সর্বোচ্চ বেহেশতের হাঁসিতে হাঁসাতে পারে! আমি যেন সে একজন লোক হতে পারি! 

এর মধ্যে ফেনীর আই সি এস টি (বেসরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট), এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছি প্রায় ১০ বছরের মতো। 

মানুষের নিকট তাদের দৃষ্টিতে আমার ইবলিশ চরিত্রকে ফিরিয়ে, মুমেন জ্বীন হিসেবে পরিচিত হতে, আমাকে অনেক অনেক বেগ পেতে হয়েছে এবং সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। তবে এ লিখা লিখার সময়েও (১৮/০৭/২০২৫ ইং) আমি সমাজের অল্প কিছু মানুষের বিশ্বাস ছাড়া, বেশি মানুষের বিশ্বাস এখনো কুড়াতে পারিনি। তবে মানুষের কাছে ভয় ও আতঙ্কের ভাগ হয়তো কিছুটা কমেছে; কিন্তু আমাকে নিয়ে তাদের কৌতূহল কোন অংশেই কমেনি। তাচ্ছিল্য নির্ভর তামাসা চাওয়া-চাওয়ি হয়তো কিছুটা কমেছে। সন্দেহ আর অবিশ্বাসের দোলা চলে, চলছে এখনো আমার জীবন।

এভাবে আমাকে কেন আমার আপনজনেরা এবং সমাজের মানুষেরা ভূল বুঝেছিলো, তা আমি একটু বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করছি; আর বুঝিয়ে বললেও আপনারা আমার মন ও ব্রেনের এ সব প্ল্যান ও অবস্থা বাস্তবায়িত হওয়া ছাড়া পুরোপুরি হয়তোবা কেউই আমাকে বুঝবেন না; যেহেতু ইনশা'আল্লাহু তা'য়ালা আমার চিন্তাধারা সমাজের বাঁকি কমপক্ষে হয়তোবা বিলিয়ন মানুষের চিন্তাধারারও বাইরে! তবুও আপনারা এ মূহুর্তে সব কিছু না বুঝলেও, যদি শুধু আমার প্রতি দয়া-মায়া, মুহাব্বত আর বিশ্বাস থাকে তাহলে কিছুটা হলেও বুঝবেন।

শুনুন, আমি চেয়েছি আমার এ জ্বীন জাতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চার বিয়ে করতে; এবং আমি চেয়েছি দাস প্রথাকে এক্টিভ করে নিজেই কিছু দাসী রেখে আল কোরআনের শান ও মান অক্ষুন্ন রাখতে। আর এভাবে কমপক্ষে ১০০ সন্তানের বাবা হয়ে ও অন্যান্য আরো বিগ বিগ এক্টিভিটিজ দিয়ে; যেমন এমন একটি ইন্টারনেট রাউটার আকাশে স্থাপনের মাধ্যমে গোটা বিশ্বের মানুষকে একেবারে নামমাত্র মূল্যে ও এতে বিদ্যুত সংযোগ ছাড়াই মানুষকে অত্যন্ত দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে; এবং বিকল্প বিদ্যুৎ ও এপ্ল্যায়েন্স আবিষ্কার, ইত্যাদি নব নব আবিষ্কারের মাধ্যমে নোবেল ঘরে তুলতে।

আবার দেখুন, এখন আপনি আপনার বউকে শুধু বলেন, আর এক বিয়ে করবেন! আর প্রত্যক্ষ করেন না! ঘরে শুইতে পারেন কিনা! এবং যে সন্তানের জন্য প্রাণ ক্ষয় করছেন, তাদেরকে আপন করে পান কিনা! তাহলে আমার ক্ষেত্রে এসব ঘটবে না কেন বলেন? হঠাৎ করেতো উনারাও আমার সবকিছু বুঝে উঠার কথা নয়; তাই না!?

তাছাড়া আপনিতো বুঝিয়ে বলতে পারতেছেন, আর আমি অনেক সময়, অনেক কিছু নিজেও বুঝতেছিনা, ফলে বুঝিয়েও বলতে পারছি না। যেহেতু এ পর্যন্ত আমি বুঝতে পারছি যে, আল্লাহর কোন একটি নেয়ামত বা বিষয় যতক্ষণ আমার ও আমার সম্প্রদায়ের মাথায় ঠিক মতো না ধরবে ও আমাদের সবাই এতে রাজী-খুশি না থাকবো, ততক্ষণ এরা আমাদের কাউকেই হয়তো বিষয়টা বুঝতে দেবে না! ফলে মানুষ আমাকে দুঃচরিত্র হিসেবেই হয়তো বুঝতে পারবে। এবং এভাবে বুঝে নিয়েছেও!

আবার বুঝতে চেষ্টা করুন, যেহেতু আমার নিয়ত, উদ্দেশ্য এবং অকল্পনীয় সাহস আর অনেক অনেক বড় বড় কর্ম করার এবং এ উদ্দেশ্যের প্রতীক হিসেবে যখন আমার আপনজনদেরকে আমি বড় হিসেবে কিছু দেখাতে চাইলাম বা এ ধরনের কোন ইশারা-ইঙ্গিত দিলাম; ও যেহেতু আমি সত্যের একনিষ্ঠ সাধক, তাই হয়তো কাউকে মানলাম না; আর আমার এ মানসিক অবস্থাটিকে হয়তো আমার আপনজন ও সমাজের মানুষেরা নেগেটিভ হিসেবে নিয়ে, আমাকে ইবলিশ মনে করলো! এবং বিষয়টি হয়তোবা কাউকে বুঝিয়ে বলতেও পারলাম না! আচ্ছা বড় লোকদের শান, মান, অর্থ ও আসন এবং সম্মান কি অন্যদের চাইতে বড় হওয়া স্বাভাবিক নয়? আর সে জায়গায় যদি কোন বড় লোকের মতো মানুষকে একেবারেই অর্থহীন করে, একেবারেই লোয়ার রেংকের মানুষদের সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়; তাহলে তার অবস্থা কী দাঁড়ায়, তার পরিচয় আর কী থাকে, আপনারা বলেন? আর এভাবে জীবনের বিভিন্ন কাজ ও মানসিকতায় আমি মানুষের নিকট ইবলিশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলাম।

তবে আমি আজ স্পষ্ট বুঝতে পারলাম বা পারছি যে, যারা আমাকে আমার বড় মানসিকতার কারণে ইবলিশ মনে করেছিলো এবং  আমাকে পদে পদে আঁটকাতে চেয়ে বিভিন্ন ধরনের নিষ্পেষণ চালিয়ে আমাকে ছোট রাখতে চেয়েছিলো; আচ্ছা বলুনতো জীবনে কে সেকেন্ড থাকতে চায়!? সবাইতো ফাস্ট হতে চায়, তাই না? তাহলে আমি বড় থাকতে বা হতে চেয়ে কেন ইবলিশ হতে যাব!? মূলত আমার মনে হয়, আমি ছোট মানুষ হয়ে, বড় মানসিকতা, বা অনেক বড় হতে চেয়েছি, যা সাধারণত চারপাশের মানুষেরা চাইতে পারে না এবং যা স্বাভাবিক না; হ্যাঁ, হয়তো এটাই আমার দোষ ছিলো! আর এ জন্যেই হয়তো আমাকে কেউ মেনে নিতে পারেনি! 

আসলে যার পকেটে টাকা নেই, যার কোন বড় ধরনের দায়িত্ব নেই বা সম্পদ নেই; তাকে বড় কে মেনে নিবে বলেন? আর মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হিসেবেই, সে তার চারপাশের মানুষের কাছে তাদের চাইতে বড় থাকতে চায়!

আজ আমার কাছে মাঝে-মধ্যে মনে হয়, তাদের নিজেদের বড় থাকার বা বড়ত্বের মানসিকতার কারণেই তারা আমাকে বড় বা শয়তানি চরিত্র হিসেবে দেখতে পায় এবং তাদের এ শয়তানী মানসিকতার কারণেই আমাকে তারা ছোট রাখতে চেয়ে আমার উপর বিবিধ নিপীড়ন চালায়!

আলহামদুলিল্লাহ! যে বিষয়টি আজ আমার উপর নিপিড়নে নিপিড়নে আমাকে মাটির সাথে মিশিয়ে ফেলার মতো অবস্থা করার পরে হলেও প্রমাণিত হয়েছে। কারণ আমার এতো করুণ অবস্থার পরেও, প্রায় মৃত্যু পথযাত্রি হয়েও, আল্লাহর অশেষ রহমতে এখনো আমি ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়া ছাড়িনি; সমাজের কেউ প্রমাণ করতে পারবে না যে, আমি কোথাও কারো সাথে মিথ্যা কথা বলেছি বা মিথ্যা স্বাক্ষ্য দিয়েছি অথবা কারো সাথে কোনরূপ খারাপ ব্যবহার করেছি বা অবৈধ কোন ইনকাম করেছি! বা মানুষের সাথে অপ্রোয়জনে বকমবাজি করেছি!

আবার ধরুন, যেহেতু আমি পরী বিয়ে সহ ৪ বিয়ে করার নিয়ত রেখেছি, দাসী রেখে ও দাস-দাসী প্রথা পুনঃ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আল-কোরআনের আইনকে সমুন্নত রাখতে চেয়েছি, উচ্চ ব্যক্তিত্ব ও রাজা-বাদশার মতো মন রেখেছি, সরল সত্য ও উদার মানসিকতা রেখে জীবন-যাপন করছি, অথচ আমার অর্থনীতী বা কোন পদবী বলতে কিছুই নেই; তার উপর সাথে রয়েছে জ্বীন বা পরী; এমন অবস্থা বা পরিস্থতিতে মনে করুন, আমার স্ত্রী সহ চারপাশের মানুষগুলো আমায় অনেক সময়ই ভূল বুঝলো, আমায় পাপী মনে করলো বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বৈরীতা সৃষ্টি হলো; এতে হয়তো আমি সালাম দিলেও উত্তর দিলো না, এভাবে আমার সাথে বিভিন্ন বাজে ব্যবহার করলো; যে ব্যবহার গুলো অন্য মানুষদের সাথে করলে হয়তো সে আপনাদের চিরশত্রু হয়ে যাবে, কোন সম্পর্কই রাখবেনা আর; অথচ আমি!? আপনাদের এ ধরনের সব কিছু বা সহস্র বাজে বা হিংসুটে বা শত্রুতাপূর্ণ ব্যবহার বা নির্যাতন সহ্য করার পরেও; আবার আমি নিজ থেকেই আপনাদের নিকট নত হয়ে, বিনীত হয়ে মিশতে হচ্ছে; যেখানে আপনারা ভূলক্রমেও নিজের ভূল বা পাপ স্বীকার করতে রাজি না বা এ ধরনের চরিত্র আপনাদের নাই। তাহলে একটু চিন্তা করুন; এইযে আমার ধৈর্য-সহ্য আর কষ্ট এবং মানুষের প্রতি ক্ষমার মানসিকতা; আবার তাদের প্রতিই উদারতা ও তাদেরই খেদমত করার মানসিকতা; আল্লাহ্ মাফ করুক, আমার চরিত্রের এ ভাল দিকটি আপনি কোন্ বাটখারা দিয়ে মাপবেন!? এটা একটা মহান চরিত্রের মানসিকতা নয় কি!?

অথচ আমার সাথে ফ্রিকশনেবল এ মানুষদের; ইনশা'আল্লাহ তারা আমার এ চরিত্রে আমল করার মানসিকতাই হয়তো রাখে না!! হয়তো এ ধরনের চরিত্র কী ও কেন, তা বুঝেই না!!

এখন আপনাদের কেউ কেউ বলতে পারেন, তাহলে কেন আমার রব আমাকে এতো নিম্ন রেংকে রাখলেন? এ ক্ষেত্রে একটি সত্য কথা হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে যে যত বেশি উচ্চ মানুষ হবে, তাকে ততবেশি নিম্ন মানুষদেরকে জয় করতে হবে।

তবে আমি সিউর করে এখনো জানি না, আসলে আমার সাথের এ পরী বা জ্বীন সম্প্রদায়কে ওপেন করতে পারবো কিনা? এবং ওপেন করতে পারলেও, তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ-বিত্ত পেলেও আসলে আমি বিগ ধরনের কিছু করে সাকসেস হবো কিনা! আসলে সবই আল্লাহর ইচ্ছা ও কেবল তাঁরই করুণা! তবে আশার কথা হচ্ছে আমার অনেক বড় ধরনের নেক নিয়ত রয়েছে!

এদিকে আই সি এস টি-তে শিক্ষকতার পর এ পর্যন্ত ২টি কাওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করেছি। ম্যানেজার হিসেবে একটি বড় ধরনের হাসপাতাল পরিচালনা করেছি ও একটি থেরাপি সেন্টার পরিচালনা করেছি। এছাড়া আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেছি। অবশ্য কোন প্রতিষ্ঠানেই বেশি সময় ধরে কাজ করতে পারিনি। অর্থাৎ কোথাও স্থায়ী হতে পারিনি। 

আমার একটিই সমস্যা, সেটি হচ্ছে আমি দৈত স্বত্ত্বা এবং উচ্চ রেসপনসেবিলিটি নিয়ে চলতে চেয়েছি ও সত্যিকার ভাবেই আল্লাহর বন্ধুর মতো সরল-সহজ জীবন-যাপন করতে চেয়েছি এবং পিউর সত্যের একনিষ্ঠ ধারকের মতো ব্যবহার আমার কাছে দৃষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে, আমি যেন, আমার উপরস্থ কর্মকর্তা বা মালিক থেকেও দামী লোক; এই আর কি! 

আপনারা জানেন, এ চরিত্রের মানুষ গুলোর অর্থ ও পদবী স্বাভাবিক ভাবেই থাকতে হবে উঁচু পর্যায়ের; অথচ এ বিষয় গুলোতে আমার পজিশন একেবারেই নিচু পর্যায়ের। ফলে নিচু মানুষগুলো আমাকে বুঝতোও না; আর উঁচু মানুষগুলো তাদের পজিশন বা অহংকারের কারণে আমাকে তাদের সাথে স্থানও দিতো না; অধিকন্তু স্বার্থের কারণে বা পাগলামি মনে করে, আমার বিষয়ে নিম্ন আয় ও নিম্ন চরিত্র-বৈশিষ্ট্যের মানুষদের নিকট টিটকিরি বা তিরষ্কার করতো। এ বিষয়টিতে অবশ্য প্রতিষ্ঠানের চাইতে সমাজেই বেশি অপমাণিত হয়েছি। ফলে ম্যাচিং পজিশন আন ব্যালেন্সিং হওয়ায় একভাবে না একভাবে সমস্যার সৃষ্টি হতো; এছাড়াও তারা বেতন এতো কম দিতো যে; চাকুরী আর আমি করতে পারতাম না। তবে আমাকে সাসপেন্ড করেছে বা আমার দোষ ধরে পাঠিয়ে দিয়েছে; এ রকম প্রতিষ্ঠান ২/১টি ছাড়া ছিলোই না। সবগুলো থেকে আমিই চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ছিলাম; আরো একটু বেশি ইনকাম বা অশান্তি পাওয়ার কারণে বা আরো সুখ বা শান্তির আশায়।

২টি কাউমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতে গিয়ে ওখানকার মানুষ সর্ব প্রথম আমাকে ভালো হিসেবে বুঝতে পায়। অল্প কিছু দিনের মধ্যে ওখানকার মানুষদের চোখে আমি প্রায় ফেরেশতা তুল্য হয়ে অনেক সম্মান কুড়াতে থাকি। এতে কেউ আমার সাথে ফেরেশতা আছে বলে, আবার কেউ বলে আমার সাথে ভালো জ্বীন থাকে। এর একটি মাদরাসার হচ্ছে, বায়তুন নুর মাদরাসা ও এতিমখানা, উত্তর কডৈতলী, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর। আর অন্য মাদরাসাটির ঠিকানা হচ্ছে, মানিকপুর জামিয়াতুস সুন্নাহ মাদরাসা, বসুর হাট, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালি।

এসব দূরের মাদরাসার মানুষদের কাছে আমি ভালো মানুষ হয়ে কী করবো; এলাকাতেতো আমি আগে যেই ইবলিশ জ্বীন ওয়ালা ছিলাম, এখনো তাই রয়ে গেলাম। হয়তো ২/১ জনের মাঝে একটু একটু বুঝ ঢুকতে ছিলো!

পরের এ মাদরাসা থেকে যখন চাকুরী ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে মনস্থির করি; তখন এ মাদরাসার বড় হুজুর কিছুতেই আমাকে ছাড়বেন না; এ যেন তিনি ইস্পাত-কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আমার বেতন বৃদ্ধি করে দেয়ার ও মসজিদে থাকতে দেয়ার বিষয়ে অপার প্রদান করলেন। এমনকি তিনি আমার কমপক্ষে ৯০০০ টাকার মালামাল আমাকে আনতে দেননি। তবুও কেন ও কী কারণে চলে এসেছিলাম এবং হুজুর কেন আমার এতোগুলো টাকার মালামাল রেখে দিয়েছিলো, আপনারা এখানে ক্লিক করে ও এ প্রবন্ধটি পড়ে তা অনায়াসে জানতে পারেন।

 এ মাদরাসা হতে চাকুরী ছেড়ে দেয়ার পর বেশ কিছু কাল অর্থাভাবে আমার যেন মরণ দশা হয়ে গিয়েছিলো। এলাকায় আমায় কেউ চাকুরী দেয় না। আসলে দেয় না বললেও মনে হয় ভূল হবে। আমার ভিতরকার এ জ্বীন সম্প্রদায়ই মনে হয়, কী এক অজানা কারণে আমাকে চাকুরী দিতে, আমার শারীরীক উপস্বর্গের মাধ্যমে, আমারই ইশারা-ইঙ্গিতে মনে হয় নিষেধ করে! আমাকে সবাই যেন খাদ্যাভাবে মেরেই ফেলবে! এমনই এক করুণ অবস্থা আমার! এমনকি নিজ ভাই-ভাতিজারাও আমাকে যেন দূর দূর করে! মাঝে মধ্যে চিন্তা করি এরা কেমন করে পেট পুরে খায়; পাশেই আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে প্রায় অভূক্ত রেখে!! এঁরা কি তাহলে খাঁটি মুমেন না!! অবশ্য সকল ভাই না। কেউ কেউ মাঝে-মধ্যে কিছু সহযোগিতা করে। যাকাতের টাকা পয়সা দেয়। সরকারি দান-খয়রাত নিয়ে দিতে চেষ্টা-তদবীর করে। বাড়ির বাইরের দুই একজন ছাড়া তেমন কেউ অবশ্য এ ধরনের সহযোগিতা বা এসব টাকাও দেয়নি। কারণ আমি যতই গরীব হই না কেন; যতই অভূক্ত থাকি না কেন; আমি কিন্তু কাউকেই সেজদা দিই না, কারো কাছে হাত পাতি না; উচ্চ ব্যক্তিত্ব নিয়ে চলি। তবে দেখলাম মানুষ গুলোর মধ্যে আসলে দয়া-মায়া বলতে, তেমন কিছু নেই!

এর মাঝে উত্তর চাঁদপুর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) মাদরাসার (দাখিল মাদরাসা) সুপার জনাব হযরত আইউব আলী (দা.বা.) হুজুর আমাকে তাঁর মাদরাসায় হিসাব রক্ষক এর চাকুরী করার সুযোগ দেন। এবং কোচিং এরও ৩টি ক্লাস আমায় দেয়া হয়।

তবে এখন আমি আর আগের মতো পড়াতে পারি না। পড়াতে গেলে, ধরুন, ছাত্রদেরকে যখন পড়াই, এ প্লাস বি হোল স্কয়ারের সূত্র; ছাত্ররা তখন একেবারেই লেখাপড়ার দিকে মনযোগী হয় না। তারা আমার ভিতর খুঁজে ফিরে a কোনটা, আর b কোনটা। লেখাপড়া বাদ দিয়ে ওরা বিভিন্ন ইশারা ইঙ্গিতে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে ওরা কথা বলে জ্বীনের সাথে। বার বার ওরা আমার জ্বীনের কাছে জানতে চায়, সে কখন আসবে! লেখাপড়ার কথা কিছু বললে ওরা প্রায় শুনেই না। অনেক সময় জ্বীনের সাথে কথা বলতে গিয়ে এ কোমলমতি শিশুরা আমাকে চরম ভাবে তাচ্ছিল্য করে। এবং মনে করে যে শুধু জ্বীনই সম্মান পাওয়ার যোগ্য! আমি কিছু না! অথবা জ্বীনকে ভয় পেলেও, আমাকে ভয় পায় না! আর অল্প বয়সের ছেলে পেলে সবকিছু তাদের জ্ঞানে ধরেও না। ফলে প্রায় সময়ই তারা আমায় ভূল বুঝে ও আমায় দোষী সাব্যস্ত করে। এবং এতে তারা আমার কথা শুনে না ও অনেক সময়ই তারা আমার দিকে চোখ রাঙ্গিয়ে তাকায়। ফলে এ যেন এক আমার মারাত্মক মানসিক যন্ত্রণা! এ পরিস্থতিটি আগের দুইটি মাদরাসায়ও ঘটেছিলো। এবং সমাজেতো এর প্রচলন রয়েছেই!!

এ মাদরাসার সুপার অবশ্য আমার প্রতি অনেক দয়া-মায়া রাখেন। আমি ভাতে মরছি, এ জন্য তিনি দয়াদ্র হয়ে আমাকে চাকুরিটা দিয়েছেন। তাঁর দয়া মায়া দেখেই, আমিও মূলত তাঁর মাদরাসায় তাঁদের সকলের নিকট দোয়া প্রাপ্তির আশায় তাঁর মাদরাসায় চাকুরী করতে যাই।

এ মাদরাসায় প্রবেশ করার পরই সর্ব প্রথম আমার এলাকায়, আমার সাথে যে ভালো জ্বীন রয়েছে; মানুষ তা বুঝতে পায়। এবং ধীরে ধীরে আমার আগের দূর্ণাম ঘূচতে থাকে। ও আমার ইশারা-ইঙ্গিত গুলোর ভালো দিক সমূহ মানুষ আস্তে আস্তে বুঝতে আরম্ভ করে।

তখন এক পর্যায়ে মনে হলো; জ্বীন ও মানুষের বিয়ে জায়েজ কিনা! জ্বীন দুনিয়াতে মানুষের মতো জায়গা জমি কিনে সম্মানের সহিত মানুষের সাথে, মানুষের পাশাপাশি বাস করতে পারে কিনা! এবং আমার এ পরীর সাথী পরীগণ অথবা তার সম্প্রদায়ের সদস্যদেরকে দাসী হিসেবে আমার কাছে রাখতে পারি কিনা! এসব বিষয়ে যদি বাংলাদেশের কোন গ্রহণ যোগ্য মাদরাসা বা ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের লিখিত ফতোয়ায় হ্যাঁ বোধক উত্তর পাই, তবে আমার পরী হয়তোবা সম্পর্ক গড়ার মাধ্যমে এবং মানব আকৃতিতে আমার কাছে চলেও আসতে পারে। এ বিষয়টি রিসার্চ করে দেখি যে, যতই এ বিষয়ে চিন্তা করি, ততই আমার কাছে যেন ভালো লাগছে। পরে এ বিষয়ে আরো গবেষণা করে নিশ্চিত হলাম যে, হ্যাঁ, হয়তোবা বিষয়টি সত্যই হবে! সে হয়তোবা আমাকে বিয়েই করতে চাচ্ছে এবং এ প্রমাণ করতে চাচ্ছে যে, জ্বীন ও মানুষের বিয়ে জায়েজ! মাসআলাটি জগতে হয়তোবা ভূল হিসেবে শেখানো হয়েছে! জগত থেকে একটি ভূলের সংশোধন করাও হয়তো তার লক্ষ্য!

এবং এরপরই শুরু করলাম ফতোয়ার আবেদন লিখা। প্রথম লিখলাম, ফেনী কোর্ট মসজিদের পাশে জামিয়া ইবনে আব্বাস, এ মাদরাসার ফতোয়া বিভাগে।

অনেক কষ্ট করে লিখছিলাম। কারণ আমার কম্পিউটারটি অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। ভাতিজার কাছে একদিন বিশেষ প্রয়োজনে অল্প কিছুক্ষণের জন্য চেয়েও সে তার কম্পিউটার ব্যবহার করতে দেয়নি। নিজের পুরোনো মোবাইল একটা দিয়ে গুগল ড্রাইবের মাধ্যমে লিখতে গিয়েও সে অনেক কষ্ট। কারণ আমার ঘরে এখন ইন্টারনেট প্রবেশ করে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে, যে কোন ওয়েতে এবং কেন যেন আমার পরীর দলেরাই হয়তো ইন্টারনেট বন্ধ করে রেখেছে। ফলে একটা নতুন বিষয়, যে বিষয় গুলো পূর্ব থেকে নাজায়েজ বা ইনএক্টিভ হয়ে আছে; এ ধরনের বিষয় গুলো একটু বুঝিয়ে লিখা প্রয়োজন। ইত্যাবসরে আমাদের উত্তর দিকের মোস্তাফিজ চেয়ারম্যান বাড়ির দরজায় মসজিদের পাশের দোকানদার আমাকে আমার মোবাইলে তার ব্রড ব্যান্ডের ইন্টারনেট কানেকশান বিনামূল্যে প্রদান করলেন। সে সুবাধে এ মসজিদের বারান্দায় বা মাঠে বসে, আমার প্রয়োজনীয় লিখা গুলো সম্পন্ন করছি! তাও অনেকের বুঝে ধরে না, আমি কি লিখি এতো! এছাড়া কেউ কেউ বলে, ভেতরে আসছো যে, বারান্দার ফ্যান বন্ধ করে আসছো!?

তো যাই হোক, ইবনে আব্বাস মাদরাসা আমার দরখাস্তের কোন প্রতি উত্তর দেয়নি। আমি যোগাযোগ করলে বলতো, হুজুরকে বলতে পারিনি! হুজুর ব্যস্ত। ইত্যাদি।

 যেদিন ইবনে আব্বাস মাদরাসায় যাই, সেদিন, এ মাদরাসায় দরখাস্ত জমা দিয়ে, এর পর ফেনীর লস্কর হাটে প্রতিষ্ঠিত ফেনীর বিখ্যাত মাদরাসা, যে মাদরাসার ছাত্র সংখ্যা আনুমানিক দশ হাজার হবে, সে মাদরাসাও দরখাস্ত জমা দিই। উনারা মোটামুটি আগ্রহ ভরেই দরখাস্ত গ্রহণ করলেন। খুশি হলাম এবং মনে মনে ভাবলাম, এঁনারা মনে হয় উত্তর দিবেন ও পজেটিভ উত্তর দিবেন। এখানে প্রশ্ন লিখেছিলাম শুধু ১টি বিষয়ের উপর।

তখন উনারা আমাকে ওখান থেকে আরো একটু দূরে আরেকটি মাদরাসায় পাঠান, আমার জ্বীন পরীক্ষা করতে (জ্বীন ফারুকের মাদরাসা)। সেখানকার হুজুরকেও দেখলাম আমার প্রতি পজেটিভ। ভাবলাম, যাক আমার একটা বিহীত হবে।

কিন্তু কিছুদিন পর প্রাসঙ্গিক ও আনুসাঙ্গিক আরো প্রশ্ন লিখে যখন, জমা দেয়ার উদ্দেশ্যে যখন উনাদেরকে ফোন করি; তখন উনারা বলেন; আপনি কোন ফতোয়ার আবেদন নিয়ে আমাদের নিকট আসবেন না। এমনি আসতে পারেন। এতে আমি মানসিক ভাবে কিছুটা আঘাত খেলাম। এরও কিছু দিন পর এ মাদরাসা থেকেই আমাকে ফোন করে বলা হলো, আপনার এ প্রশ্নের উত্তর যদি কেউ বা অন্য কোন মাদরাসা থেকে দেয়, তবে আমাদেরকে জানাবেন।

এতে আমি মর্মাহত হলাম। কারণ এ মাদরাসার জন্য আমি প্রায় ৩০ পৃষ্ঠার মতো, আমার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়ে ও উত্তর পাওয়ার আশা করে লিখেছিলাম এবং তাঁরাও উত্তর প্রদানের আশা দিয়েছিলেন।

আবার হঠাৎ নিষেধ করলেও তবুও কিন্তু দমে যাইনি।

এবার লিখাটিকে কাট-সাট করে, আবার ২৪ পৃষ্ঠায় লিখলাম বাংলাদেশের ২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জন্য। অবশ্য প্রতিষ্ঠান দু'টিতে যোগাযোগ করেই লিখেছি। এর একটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে, ঢাকার যাত্রাবাড়ি বড় মাদরাসা এবং অন্যটি হচ্ছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।

তাদের সাথে যোগাযোগ করে গত ১৬/০৭/২০২৫ ইং তারিখ বুধবারে দরখাস্ত দু'টি জমা দিয়ে আসি। গতকাল এ দরখাস্ত দু'টির কী অবস্থা জানতে চেয়ে ফোন করলে, মাদরাসা থেকে জানানো হয়, তাদের সামনে পরীক্ষা; সময় লাগবে। আর ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে বলা হয়; ডিজি স্যার (মহাপরিচালক) আমার সাথে কথা বলতে চান। আমি যেন বৃহস্পতিবারদিন (২৪/০৭/২৫ ইং) সকাল ১০টার মধ্যে স্যারের সাথে স্বাক্ষাতকার প্রদান করি। আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ! ঠিক আছে।

হাঁসি মুখে প্রতি উত্তরটা দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু পকেটে টাকা নেই। ভাবছি কী করা যায়! অবশ্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ১০০০ টাকার মতো আছে। তবে থাকলেও ঘরের মানুষ গুলো কি মরে যাবে!? এদের জন্য সবজিও যদি অল্প কিছু না কিনি এরা বাঁচবে কিভাবে?

আপনাদেরকে বলেই ফেলি, হুজুর মাদরাসায় আমাকে হিসাব-কিতাব বাবত দিবে ৩০০০ টাকা এবং কচিং বাবত দেয়ার বিষয়টি ধার্য হয়েছে ২০০০ টাকা। তাও টাকাটা ২/৩ মাস পর পর দিবেন হুজুর। প্রতি মাসে দিতে পারেন না। কারণ ফান্ডে টাকা থাকে না। গরীব মাদরাসা। আমাকে হয়তো দিয়েও দিতে পারেন!

এবার আপনারা বলেন, এ ৫০০০ টাকা দিয়ে আমি কি ঢাকায় আসা-যাওয়ার ভাড়া দিবো? না, প্রশ্ন রেডি করবো? না জ্বীন বিষয়ক বিবিধ সমাধান করবো? না ঘরের আমার আম্মা সহ ৭ জন সদস্যকে বাঁচিয়ে রাখবো? তাহলে এতো আর্থিক অনটনের মধ্যে আমার মতো এ রকম দৈত স্বত্ত্বার ও উচ্চ মানসিকতার একজন ব্যক্তিত্ববান পূরুষের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম কি চালিয়ে যাওয়া যায়? এমনকি আমার এ পরিস্থিতি আজ একদিনের নয়! সবমিলিয়ে সেই সমিতি বন্ধ হওয়ার পর, মানে আইসিএসটি থেকে চাকুরী ছেড়ে দেয়ার পর; মানে আজ প্রায় ৫ বছর যাবৎ এ অবস্থা!  ধরুন, আপনারা একদম স্বাভাবিক মানুষ। আমার মতো কোন ঝামেলাই নাই আপনাদের। তবুও আপনিও যদি ৫০০০ টাকা করে বেতন পান; আর ঘরে ৬/৭ সদস্য থাকে এবং ঘরে ৪ ছেলে মেয়ের সবাই লেখাপড়া করে ও ৬/৭ লক্ষ টাকা মানুষ ঋণ পায় আপনার নিকট এবং আজ প্রায় ৩ বছর যাবৎ দিতে পারছেন না। ভাই, আপনি সত্য করে বলেন, আপনি কি সুস্থ থাকবেন!? আবার ব্যক্তিত্ব বজিয়েও চলবেন!? আবার জ্বীন জাতিকে ওপেন করা ও তাদের স্বরূপ উন্মোচিত করার সংগ্রামেও জয়ী হবেন!? 

আবার জ্বীন জাতির সাথে এবং মানুষের সাথে; জ্বীন জাতিকে ওপেন করার বিষয়ে, আমার যে জেহাদ; এ জেহাদকে কি একেবারে সাধারণ কোন জেহাদ বলে মনে হয় আপনাদের কাছে?

একটা জাতি এবং যে জাতিকে মানুষ অনেকটা সৃষ্টির শুরু থেকেই খারাপ মনে করে; এমনকি যাদের নাম শুনলেই অনেকে ভয় পায়; তাকে হাজার রকমের মন-মাইন্ড এর মানুষ ও জ্বীনের মধ্যে এবং প্রায় অভূক্ত একটা লোক, তার পরিবারের সদস্য সহ ভবিষ্যতের কোন সম্ভাবনা না দেখে ও তার হাজার প্রকারের ক্ষতের মধ্যে এবং তার বা জ্বীনের বিষয়ে মানুষকে পূর্ব থেকে কিছু বোঝানোর কোন সুযোগ না রেখে; তার উপর অনেকগুলো জটিল বিষয়ে; যেগুলো শুনলেই মানুষকে মহা পাপী ভাবতে পারে মানুষ; শরিয়তের এ রকম কিছু বিষয় নিয়ে; মানুষের মাঝে একটা ভালো বিশ্বাস জন্মানো; এমনকি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর যুগেও যে মাসআলা গুলোর সমাধান হয়নি; যে গুলো সেই ইসলামের প্রথম যুগ হতে নাজায়েজ বা ইনএক্টিভ হিসেবে স্বীকৃত; এগুলোকে জায়েজ হিসেবে স্বীকৃতি এনে; জ্বীনকে ওপেন ও আপন করার সংগ্রামে; আলেম নয় এ রকম একজন সাধারণ মানুষের জয়ী হওয়া; এটা কোন সাধারণ জেহাদ হতে পারে!!??

আজকে উত্তর চাঁদপুর মাদরাসায় বলেছি, হুজুর আমাকে যেন কোচিং ক্লাসে টিচিং দেয়া থেকে রিলিজ দেন। শুধু অফিসে হিসাব কিতাবের দায়িত্বটা বহাল রাখতে চাই। কারণ, হুজুরকে বললাম, ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আমি পড়াতে গেলে বিন্দুমাত্রতো পড়েই না, উপরন্তু যখন মেয়েদেরকে বলি, লিখ, তখন মেয়েরা বলে লিখবো! আবার ছেলেদেরকে যখন বলি, এক্স প্লাস ওয়াই হোল স্কয়ার; তখন ছেলেরা বলে, এখানে মনে হয় স্যার এক্স এক্স স্কয়ার; এ রকম একটি অভদ্র পরিবেশ বলেই আমার মনে হয়। যেহেতু আমার নিয়ত হচ্ছে, দাসীদেরকে রেখে, তাদের মাধ্যমে বাবা হওয়া! আর এ অবস্থা গুলো আমার জ্বীন আকার ইঙ্গিতে সব প্রকাশ করে দেয়। ফলে কেউ একটু বুঝে, আর কেউ বুঝেই না। বরং ভূল বুঝে! এহেন পরিস্থিতে ছাত্রদের লেখাপড়াতো হচ্ছেই না, বরং একটা যেন ক্রীড়া-কৌতুক, আর মনেহয় বেয়াদব মার্কা নাটক হচ্ছে। এতে আমার ব্যক্তিত্ব লেস হচ্ছে, যা আমার ব্রেনের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। আসলে পড়ানোর নামে, তাদের অন্য কোন গুপ্তীয় উদ্দেশ্যের শীকার হয়ে, আমি শুধু শুধু বেতন নেবো কেন? ফলশ্রুতিতে আমি কি মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নিকট ঋণী হয়ে গেলাম না? এবং এর দায় স্বরূপ, আমি কি সত্য ও ন্যায়ের বিপরীতে মাদরাসাকে কি কিছু দিতে পারবো?

যাক, আমার আবেদনের বিপরীতে হুজুর বললেন, আরেকজন নিয়োগ দেয়া পর্যন্ত আমাকে থাকতে হবে। এবার আমি বললাম, হুজুর! আমি আপনাকে হারাতে চাই না। আমি আপনার হিসাব কিতাবের দায়িত্ব পালন করতে চাই। শুধু ক্লাস থেকে রিলিজ চাই। এবার হুজুর বললেন, আমরা তাহলে, কয়জন টিচার নিয়োগ দিবো?

হ্যাঁ, ঠিকইতো এতো খন্ড খন্ড কাজে, এতো অল্প বেতনে তিনি অন্তত মোটামুটি যোগ্য টিচার কোথায় পাবেন?

ভায়েরা, কালকে ২৪/০৭/২৫ ইং তারিখে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ থেকে আমার যে সাক্ষাতকার চেয়েছেন; সে উদ্দেশ্যে ইনশা'আল্লাহু তা'য়ালা খুব ভোররাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবো। 

মহান রবের নিকট কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছি, (সাঃ) আমার যাওয়া থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত সকল কাজের সাথী হিসেবে; বিশেষ করে স্বাক্ষাতকার যাতে ফলপ্রসু ভাবে দিতে পারি এবং পুরো স্বাক্ষাতকার জুড়ে, আমার সাথের এ জ্বীন বা জ্বীন সম্প্রদায় যাতে সারাক্ষণ ক্রিয়েটিভ থেকে এবং তার পূর্ণ প্রজ্ঞা ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে আমার ফতোয়ার আবেদনে উল্লেখিত প্রশ্ন সমূহের পজিটিভ প্রতি উত্তর প্রাপ্তির বিষয়টি যাতে নিশ্চিত করে আসতে পারি, এ জন্যে মহান রবের নিকট অন্তর থেকে প্রার্থনা করছি। যাতে মাদরাসায় আমার আবেদনটি আমি মঞ্জুর করতে পারি। যেহেতু আমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষককে বলেছিলাম, ইনশা'আল্লাহ আমি যে সীদ্ধান্তই নিই, তা দুনিয়ার কেউ পরিবর্তন করতে পারে না; যেহেতু আমি আল্লাহর আইন অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নিই।

ইয়া আল্লাহ! তুমি আমার আগামী কালের সফর ও আমার স্বাক্ষাতকারের বিষয়টি তোমার কোরআন ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর সুন্নাহ অনুযায়ী কর এবং এ বিষয়ে আমাকে কামিয়াব কর। (সাঃ)।

হ্যাঁ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি এর সাথে যথা সময়ে দেখা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ! স্যার আমাকে চিনতে পেরেছেন যে, আমি একজন জ্বীন সদস্য! তিনি তার মুফতি সাহেবকে ডাকলেন এবং আমাকে তার সাথে তার রুমে যেতে বললেন। তিনি আসলেন এবং আমাকে নিয়ে তার রুমে গেলেন।

যখনই তার রুমে কথা উঠলো জ্বীনের সাথে মানুষের বিয়ে জায়েজ কিনা; তখনই তিনি বেঁকে বসলেন এবং বললেন, না এ ধরনের বিয়ে হতে পারে না।

এখন দেখার বিষয় হচ্ছে উনারা লিখিত প্রতি উত্তর দিবেন কিনা! এবং দিলে সেখানে কী লিখবেন!? আমি সে প্রতিক্ষার প্রহরই গুনছি!

অন্যদিকে যাত্রাবাড়ি মসজিদেও যেদিন প্রশ্ন জমা দিতে গিয়েছিলাম, সেদিনও, হুজুর কর্তৃক আমি হয়েছিলাম অপমাণিত।

সেদিন আমার প্রশ্ন সমূহ মাদরাসার ফতোয়া বিভাগে জমা দিয়ে মনে করলাম মাদরাসার প্রধান মুফতি মাহমুদুল হাসান স্যারের সাথে দেখা করে আসবো। এ লক্ষে অপেক্ষা করতে থাকলাম। শুনলাম তিনি বেলা ১১ টার দিকে আসবেন। সকাল পৌনে ৯ টা থেকে প্রায় বেলা সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর; হুজুরের খাদেমের সাথে দেখা হলো। তিনি জানালেন, হুজুর এখন আসলেও কারো সাথে স্বাক্ষাতকার দিবেন না। তিনি এসেই ক্লাসে চলে যাবেন। হুজুরের স্বাক্ষাত পেতে হলে আমাকে আসরের পরে আসতে হবে।

অগত্যা সেখান থেকে চলে এলাম এবং বেলা সাড়ে ৩ টার সময় আবার গেলাম ও অপেক্ষা করতে থাকলাম। সূর্য ডুবার ২০/৩০ মিনিট আগে হুজুরের রুমে প্রবেশের অনুমতি পেলাম।

হুজুরের রুমে প্রবেশের পর, যেই মাত্র বললাম, যে হুজুর, আপনার সাথে দেখা করার জন্য, আপনার একটু দোয়া পাওয়ার জন্য, সেই সকাল থেকে অপেক্ষা করছি!! আমি ফেনী থেকে এসেছি!!

অমনি হুজুর রেগে গেলেন। বললেন, আপনাকে কি আমি দেখা করতে বলেছি!? না অপেক্ষা করতে বলেছি!? আপনি আমার সেকায়েত করলেন কেন!? বেরিয়ে যান আমার রুম থেকে!

যথেষ্ট অপমাণিত হলাম। মনে বড় কষ্টও পেলাম। কিন্তু বুঝলাম না, কেন হুজুর আমার সাথে এ রকম ব্যবহার করলেন!! 

একটা মানুষ ভিন্ন জেলা থেকে এসে সারাদিন অপেক্ষা করার পর এবং পুনরায় ঐদিনই বাড়ি ফেরার টেনশন নিয়ে, আপনাকে বিষয়টির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে ও বেশি করে আপনার দোয়া পাওয়ার উদ্যেশ্যে কথাটি বলল; অথচ আপনি!? লোকটি কী জন্য আপনার নিকট এসেছে, তাও শুনতে চাইলেন না।

সম্মানীত মুফতি! কাজটি কি আসলেই ভালো করলেন!? হয়তো আমাকে আপনি জ্বীন বলে চিনতে পারলেন। কিন্ত জ্বীন হলে কি এ রকম ব্যবহার করতে হবে? কই, জ্বীন হিসেবে আমিতো আপনার সাথে কোনরূপ খারাপ ব্যবহার করিনি!!

প্রশ্নগুলো জমা দেয়ার প্রায় ১ মাস পর আজকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে প্রশ্নগুলো কোন্ অবস্থায় আছে, তা জানতে চেয়ে মুফতি সাব হুজুরকে মোবাইল করলে তিনি জানালেন, তারা এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেন না। তিনি আমাকে তদবীর করার পরামর্শ দিয়েছেন।

অন্যদিকে যাত্রাবাড়ি মাদরাসায় ফোন করলে, ফোন রিসিভ করে তারা জানালেন, তাদের বড় হুজুর নাকি শুধু মৌখিক উত্তর দিতে বলেছে এবং এও বলেছে, জ্বীনের সাথে মানুষের বিয়ে হারাম। আমি লিখিত উত্তর দিতে অনুরোধ করলে; অপরপ্রান্ত থেকে অপেক্ষা করতে বলা হলো।

এ ফাঁকে আপনাদেরকে নিজ মনের দুঃখময় কিছু কথা বলে নিজকে একটু হালকা করার চেষ্টা করি।

আজকে আমার এক সহকর্মী শিক্ষক হুজুর আমার পকেটে হাত দিয়ে ৫০০ টাকা নিয়ে নিয়েছেন। তার কথা হলো তিনি আমার কাছে সমিতির টাকা পাবেন।

ভাই, আমার ইনকাম মাত্র ৫০০০ টাকা। আপনারা জানেন, ঘরে আমার আম্মা সহ সদস্য সংখ্যা ৭ জন। আপনারাই বলেন, এ পরিস্থিতিতে আমি ঋণশোধ কিভাবে করি!?

দেখুন, আমার বর্তমান বয়স প্রায় পঞ্চাশের মতো; আমার কোন সম্পদ নেই এবং উল্লেখ যোগ্য কোন ইনকাম অব সোর্চ নেই ও এ কারণে আমার অন্ধকার ও অনিশ্চিত ভবিষ্যত, আমি প্রায় একা, জ্বীন কর্তৃক শরীরে উদ্ভবকৃত আমার জটিল রোগ সমূহ, যা সহজে ভালো হওয়ার নয়, জ্বীনের কারণে কোথাও স্থায়ী চাকুরী করতে না পারা, জ্বীন কর্তৃক আমাকে পরাধীন বা কয়েদীর মতো করে রাখা, স্বাধীন ভাবে কিছুই করতে না পারা, শরীরে জ্বীন থাকায় যে কোন শারীরিক-মানসিক অবস্থা ও পরিস্থিতিতে মানুষ আমাকে বুঝতে না পারা, চারদিকে আমার নামে শত-সহস্র অপ-প্রচার, মানুষ কর্তৃক আমাকে শয়তান মনে করা, বিশেষ করে ছোট বাচ্ছা বা বালক ছেলেদের তাচ্ছিল্য, চারদিকে ঋণের বোঝা; এদিকে আবার আমার উচ্চাভীলাসী, সত্যনিষ্ঠ, অতি উদার ও সরল মন ইত্যাদি কারণ নিয়ে আমার যে সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট; কথার কথা এর যদি শুধু ১ ঘন্টার কষ্ট পুরো গ্রামবাসিকে ভাগ করে দিই, তাহলেও আমার মনে হয় তাদের সকলের কষ্ট অসহ্য হয়ে যাবে; এ রকমই আমার বর্তমান অবস্থা!!

এ অবস্থায় আপনাদের আন্তরিকতা আর দোয়াই পারে আমাকে শান্তিপূর্ণ ভাবে বেঁচে থাকার পথে নিয়ে যেতে। তাই আমি আপনাদের সকলের আন্তরিকতা, ভালোবাসা, আর দোয়া প্রার্থী!

যেহেতু আমার শরীরে মহিলা জিন বা পুরো একটি জিন সম্প্রদায় রয়েছে, আর বিজ্ঞানীরা বলেন পৃথিবীতে জিন বলতে কিছু নেই। যা দেখিনা তা বিশ্বাস করা যায় না। আর তাই আমিও মনে মনে পণ করেছি ও জেদ ধরেছি, ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা আমার সাথের এ জিন সম্প্রদায়ের সাথে আত্মীয়তা করবো এবং পৃথিবীতে মানুষের সামনে প্রত্যক্ষ ভাবে এ জীন বা জিন জাতিকে আনবো, কারণ আমি দেখেছি আত্মীয়তা করা ছাড়া তাদেরকে আনার আর কোন ‍ওয়ে আমার কাছে জানা নেই। যেহেতু অধিকার ছাড়া, বৈধতা ছাড়া, একটা অনুমোদিত ও সম্মানজনক সম্পর্ক ছাড়া তারা কার কাছে আসবে? কোন সূত্রে আসবে? তারা কি ভিক্ষুকের দল যে, দুনিয়ায় এসে তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে করে খাবে (?), আর মানুুষের দয়ার পাত্র হয়ে থাকবে শুধু!

আমি আশা করছি জিন জাতি পৃথিবীতে প্রকাশ্যে আসবে ও এ পৃথিবীতে তাদের অর্থ ইনভেস্ট করবে এবং তারা আলাদা করে তাদের নামে বাড়ি-ঘর, অফিস-আদালত, ইন্ড্রাষ্ট্রি, খামার, শিক্ষাঙ্গন ইত্যাদি করবে। ও পৃথিবী উন্নয়নের সফল অংশীদার হবে। মানে মানব জাতির সাথে হাতে হাত রেখে একসাথে কাজ করে যাবে!

আর এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে বিজ্ঞানীদের ভূল ভাঙ্গাবো, আল কোরআনের বাণীকে সত্যরূপে মানুষের সামনে প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রমাণ করবো যে, আল কোরআন সত্য বলেছে। বরং বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীরাই যুগ যুগ ধরে মানুষদেরকে ভূল বলে আসছে এবং মানুষদেরকে ভূল শিখাচ্ছে।

আমার রব সত্য! তিনি সত্য বলেছেন। আর এভাবে আমি পৃথিবীর জ্ঞানী- বিজ্ঞানী এবং মানুষ ও জিনদেরকে আমার রবের দিকে, তথা ইসলামের দিকে আহবান করবো, ইসলামের দাওয়াত দিবো এবং তাদেরকে নিশ্চিত আগুন থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করবো! আর বোঝানোর চেষ্টা করবো যে, একমাত্র সত্য ধর্ম ইসলাম! ইসলামই সৃষ্টিকর্তার একমাত্র মনোনিত ধর্ম!! 

কিন্তু আমার সীমাহীন ত্যাগপূর্ণ, ভালোবাসাময় ও ‍এ মহতী কাজের বড় ও প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, আমারই গুরুজন, প্রাণপ্রিয় ও সম্মানিত আলেম সমাজ! এবং আমারই রক্তের ভাই, ভাবী, ভাতিজা ও নিকট আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশী সহ বিশ্বের প্রায় সকল মানুষ। 

বিভিন্ন স্বার্থ, সম্মান ও সম্পদ এবং বাহুবল সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমার রক্তের ভায়েরা, আমার সাথে করে প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দিতা, হিংসা, ‍শত্রুতা! 

আমার নিজের বউ, দুনিয়ার জমিনে তার খাওয়া পরার স্বার্থে আমার ভাই-ভাবীদের সাথে একাত্রিত হয়ে আমাকে দাবিয়ে রাখতে কলিজায় আঘাত দিয়ে ‍দিয়ে চালিয়ে যায় অপমানের পর অপমান, আর ছলনা! 

এভাবে তারা আমার মন, মগজ ও কলিজা ভেঙ্গে দেয়! 

কারো সাথে, প্রাণ খুলে দু-চার অক্ষর কথা বলে যে  মাইন্ড প্রেস  করবো, সমাজের মধ্যে এ লোক নাই আমার! সবাই আমার সাথে বাহুবল দেখায় বা দূরত্ব বজায়ে চলে। তাই বাধ্য হয়ে অনেক সময় স্কেরাব কিনতে আসা এদের সাথে, বা সমাজের একেবারে নিম্ন শ্রেণীর লোকদের সাথে কথা বলে ভালো থাকার চেষ্টা করি! 

আবার জিনেরা যে মানুষের মতো করে আসতে পারে, তাদের কাছেও অর্থ-কড়ি থাকতে পারে, এ কথাটি কোরআন হাদিসে থাকলেও, মানুষের যেন আজ বিশ্বাসই নেই এসবে। 

ফলে আমি সবার কাছে যেন এক অবহেলা আর ভিক্ষার পাত্র, সবাই যেন আমার মোড়ল! 

আবার আমি যাদেরকে একান্ত সম্মান করি, সে আলেম সমাজ আমাকে ফতোয়া দেয় কাফের!! মোরতাদ!! 

যেহেতু তাদের দেওয়া ফতুয়া, জিন ও মানুষের মধ্যকার বিয়ে হারাম! আমি এই ফতুয়াকে অবজ্ঞা করে আমি সেটি মানতে রাজি না! 

তাই হারামকে প্রকাশ্যে জেনেশুনে আমি হালাল মনে করেছি, আর তাই ইসলামী ফতোয়া অনুযায়ী আমি, মুমেন থাকতে পারিনা! সেই হিসেবে আমি তাদের দেয়া ফতুয়া অনুযায়ী আমাকে তারা কাফের ও মুরতাদ বলেছে, সে যুক্তিতে বলেছি!

এভাবে কি তারা আমার নিয়ত বাস্তবায়িত করতে ইস্পাত-কঠিন বাধা নয়!? 

নিজের লোকেরা যদি এভাবে প্রতিনিয়ত, হার কাজে আমার মন ভেঙ্গে দেয়, তাহলে আমার এ মহতী কাজটি হয় কিভাবে আপনারা বলেন? বিচার আপনাদের হাতে দিলাম! 

তাছাড়া প্রায় সবগুলো মানুষের এক অহংকারী স্বভাব এই যে, যে মানুষটি অপরকে সালাম দিয়ে চলে, সম্মান করে চলে, সে মানুষটিকে ‍ঐ সালাম পাওয়া  মানুষেরা ‍দূর্বল ভাবে এবং তার দূর্বলতায় স্বার্থাম্বেশী বা অপমানজনক ব্যবহার করে স্বার্থ খুঁজে। তাকে দূর্বল ভাবার কারণে তার কোন কাজকে কেউ সম্মান করতে পারে না। আমি এর বাস্তব ভূক্তভূগী! 

মানুষের মূলে আমি দেখতে পেয়েছি অহংকারের বীজ!! মানুষের মধ্যে আমি খুব একটা দেখতে পাইনি, যারা বয়সে বড়, যারা শিক্ষায় বড়, যারা অর্থে বড়, তারা তাদের থেকে ছোটদেরকে সালাম দিতে। পরিস্থিতির কারণে হোক বা যে কারণেই হোক না কেন, মসজিদের ঈমাম সাহেবেরকেও আমি এ কাজ করতে দেখিনি!! 

তাহলে মানুষের যদি এ রকম মোগজ হয়, এ অবস্থায় এহেন ঘুনে ধরা সমাজে আমি কিভাবে আমার উদ্দেশ্য সফল করতে পারি!?

আমার কাজটাতো আল্লাহু তা’য়ালার জন্য। তাই এ অবস্থায় সঙ্গত কারণে একদিন না একদিন এদের বিরুদ্বচারণ করা আমার জন্য কি ওয়াজিব বা আবশ্যক হয়ে যায় না!? 

কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, গত ২৫ বছর এভাবে সহ্য করার পরও আমি তাদের মত কার্যত বিরুদ্ধচারণ যেমন করিনি, ঠিক তেমনি হাজারো ক্ষত নিয়েও আমার নিয়ত বাস্তবায়ন করার মরণ পণ সংগ্রাম থেকে একবিন্দুও  সরে আসিনি!! 

কারণ তাদের চোখে একদিকে আমার সাথে থাকা এ জিন বা পরীর দল যেমন ইবলিশ জীন, অপরদিকে পুরো বিশ্বের আলেম সমাজ ইসলামের কিছু মাসআলাকে আমার দৃষ্টিতে যেগুলোকে আমি জায়েজ বলছি, তারা সেগুলোকে যুগ যুগ ধরে কাট্টা হারাম হিসেবে ফতোয়া দিয়ে আসছে!

যেহেতু দুনিয়াতে এগুলো বর্তমান বিশ্বের প্রায় সকল মানুষের নিকট হারাম হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে আছে! আর আমি যখন এ হারাম সমূহকে মানছিনা, বরং হালাল ও সাওয়াবের কাজ বলছি, তখন ইসলামী  আইন অনুযায়ী  আমি এ মহাবিশ্বের সকল মানুষের কাছে কাফের ও মোরতাদ হিসেবে সকলের নিকট চিহ্নিত হয়ে আছি। অর্থাৎ ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা আমি ও আমরা মুমেন হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমান মুফতিবৃন্দের দ্বারা কাফের ও মোরতাদ হিসেবে ঘোষিত হয়ে আছি। 

এদিকে যদিও আমি ইতিপূর্বে আরো কয়েকটি মাদ্রাসায়, অবশ্য বাড়ি থেকে অনেক দূরে কওমি মাদ্রাসায়, শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেছিলাম, সেগুলোতে আমি কখনোই নিজ মুখে, আমার শরীরে যে জিন থাকে এবং আমার সাথে যে জিন থাকে, এটা আমি প্রকাশ করিনি! 

উত্তর চাঁদপুর, লেমুয়া, ফেনী; এ মাদ্রাসায় আসার আগে আরো দুটি মাদ্রাসায় আমাকে জিন হিসেবে হুজুরেরা শনাক্ত করেছিল! 

কিন্তু আমি কখনো নিজ মুখে প্রকাশ করি নাই, বা জিন হিসেবে নিজকে পরিচয় দেয়া থেকে, নিজেই নিজকে বারণ করে রেখেছি! অর্থাৎ মুখে যে বলব সে শক্তি-সামর্থ্য, জিন হিসাবে আমি অবরুদ্ধ করে রেখেছি!

কিন্তু এই মাদ্রাসাতেই সর্বপ্রথম আমি নিজ মুখে প্রকাশ করেছি এবং বিভিন্ন আকার-ইঙ্গিত বা বিভিন্ন কৌশলে আমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক সবাইকেই বুঝিয়েছি যে, আমি আসলে একদল জিনের নেতৃত্ব দিচ্ছি এবং আমরা সবাই জনাব আরিফ সাহেবের শরীরে থাকি এবং তার সাথেই থাকি! 

সে সাথে আমরা এই মাদ্রাসা এলাকার আশেপাশের মানুষদেরকেও আমরা বুঝিয়েছি যে, আমরা আসলে একদল মহিলা জিন এবং আমরা মানবাকৃতিতে প্রকাশিত হব, সেই অঙ্গীকারও আমরা এই এলাকার মানুষজন এবং ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক সবাইকেই জিন হিসেবে আমি ও আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি!

আমার যুক্তিপূর্ণ কথা-বার্তা এবং চাতুর্যপূর্ণ ব্যবহার ও বুদ্ধিমত্তার সহিত মানুষের সাথে মিলামিশা; সব মিলিয়ে এক অভূতপূর্ব ব্যবহারের কারণে, অত্র এলাকার মানুষেরা এবং অত্র মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক প্রায় সকলেই আমার সাথে যে জিন রয়েছে; তা তারা প্রায় শতভাগই বিশ্বাস করেছিলেন! 

কিন্তু যেহেতু আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, জনাব আরিফ সাহেবের সাথে বিয়ে বন্ধন এবং আমাদের যে অন্যান্য সাথীয় জিন বোনেরা রয়েছে তাদেরকেও ডান হাতের মালিকানায় বন্ধন করে জনাব আরিফ সাহেবের সাথেই আজীবন থাকা! 

মূলত এ মাসআলাগুলো যে জায়েজ,  এবং এ বিষয়ে যে আমরা মানুষদেরকেও চাই; তারমানে মাসআলা গুলো প্রমাণের জন্য আমরা মানুষের মাঝেও এগুলোর প্রচলন করতে চাই! 

আপনারা বুঝতেই পারছেন, আমাদের মাসআলার মধ্যে রয়েছে, যেমন, (১) জিন এবং মানুষের মধ্যকার বিয়ে জায়েজ! এছাড়া রয়েছে, (২) ডানহাতের মালিকানায় হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দেখানো দাসীদের সাথে বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী আরো কিছু ক্যাটাগরি সংযুক্ত করা যায়; এবং এভাবে আমাদের যে জিন বোনেরা রয়েছে, তারা এ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়!

যেহেতু আমরা সবাই অমুসলিম ছিলাম এবং বর্তমানে আমাদের কোনো অভিভাবক বা দুনিয়ায় অবস্থিত আমাদের কোন মালিক  না থাকায়, মানে সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন হওয়ায়, আমরা এ আবেদন করেছি!এছাড়াও আমাদের আরও একটি মাসআলা, যেমন (৩) একাধিক স্ত্রীর সাথে বা ডানহাতের মালিকানায়, আনলিমিটেড নারীর সাথে গ্রুপ সেক্স জায়েজ!

উপরে উল্লেখিত আমাদের এই তিনটি মাসআলা যে জায়েজ, তা বুঝতে আপনারা আমাদের লিখিতব্য ফতুয়ার কিতাব, "ফতোয়ায়ে আরিফ" এখান থেকে জেনে নিতে পারেন! 

আমরা এ কিতাবটি আমাদের "Sayed Jin Arif official Blog" এর সাথে সংযুক্ত করে প্রকাশ করেছি!

এছাড়াও জিন জাতি মানুষের উপর সাওয়ার করে বা মানুষকে আছর করে কী বা কতটুকু করতে পারে, সে শক্তি-সামর্থ্য দেখানোও বা প্রমাণ করাও  আমাদের একটি উদ্দেশ্য ছিল!

যেহেতু আমি এবং আমরা আগেও বলেছি যে, আমরা জিন জাতির পরিচয় প্রদান করব! 

তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের এই উদ্যোগগুলো, এবং উনাকে ভালোবাসারা কারণে, উনার সাথে জীবন কাটানোর উদ্দেশ্যে আমাদের যেহেতু প্ল্যান ছিল; আর যেহেতু এ বিষয়টি মানুষের জীবনের অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়, যা না হলে পরে দুনিয়ায় কোন মানুষের বা কোন জিনের সৃষ্টি হতো না, তবুও এটি লজ্জ্যত চিন্তাধারার হওয়ায় বা যৌনজীবনের কার্য হওয়ায়; আমাদেরকে অনেকে সেক্সুয়াল ভাবতো! আমাদেরকে অনেকে বদমাইশ ভাবতো! 

কিন্তু এ বিষয়ে মানুষের মাঝে রয়েছে ভুল মাসালার আমল! 

কিন্তু যদিও এ মাসআলা গুলো লজ্জ্যত বিভাগের হয়, তবুও এ সম্পর্কেও থাকবে ইসলামের নিয়ম কানুন, কারণ এটি মনুষ্য ও জিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ! 

সচেতন মানুষগণ নিশ্চয়ই এ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছেন! 

আবার মুসলিম হিসেবে আমাদের যে মূল উদ্দেশ্য মাসআলা গুলোকে সংশোধন করা বা কোরআন হাদিস অনুযায়ী এ বিষয়ে নতুন মাসআলার প্রবর্তন করা ; এটি হয়তো আমি বাঙাল হিসেবে বা জিন জাতি হিসেবে, মানুষ হয়তো আমাদেরকে বা আমাদের যোগ্যতাকে  বুঝতে পারেনি বা মেনে নিতে পারেনি! 

ফলে এ বিষয়টি নিয়ে আমি প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছি এবং পেয়ে যাচ্ছি! 

তো এই বিষয়গুলো বুঝাতে গিয়ে যেহেতু মানুষদেরকে বিভিন্ন আকার-ইঙ্গিতে, কথাবার্তার মাঝে, চোখের চাহনিতে বুঝানো হতো; তখন মানুষগণ যারা একটু কম ব্রেনের ছিল; গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই সাধারণত কম ব্রেনের হয়ে থাকে; তাই তারা আমাকে খারাপ ভাবতো! 

সবচাইতে বেশি কষ্ট পেয়েছি এবং অপমানিত হচ্ছি মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পড়াতে গিয়ে!

তাদেরকে আমি মাঝেমধ্যে একটু হয়তো ইঙ্গিত দিই যে, আমি এবং আমরা একদল জিন! আর এ কারণে তারা আমার পাঠদান, বা পড়ার দিকে কোনো গুরুত্বই রাখেনা! তাদেরকে পড়াই আমি বইয়ের পড়া, সিলেবাসের পড়া, কিন্তু তারা আমার সাথে সারাক্ষণ শুধু জিনের কর্ম বা জিনের বৈশিষ্ট্য হিসেবে কল্পনা করে! বুঝতে চায়! 

আর জিন হিসেবে যেহেতু আমি যৌন জীবনের দিকে ইঙ্গিত প্রদান করি, তাই এই কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীরা আমাকে নিয়ে হাসি, ঠাট্টা, বিদ্রুপ ইত্যাদি কাজেই শুধু মগ্ন থাকে! 

লেখাপড়া তেমন কিছুই হয় না এবং ক্লাসে শিক্ষক হিসেবে আমি বিন্দুমাত্রও মূল্যায়ন বা শ্রদ্ধা ভালোবাসা পাই না! 

এতে মানসিক ভাবে আমি অনেকটাই বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছি!

অপরদিকে অফিসের মধ্যেও আমি মাত্র ৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করি বিধায়, এবং আমি অফিস সহকারি হিসেবে কর্মরত বিধায়, কোন ধরনের মূল্যায়ন, কারো কাছ থেকে পাই না! যে যা ইচ্ছা তাই বলে, যা ইচ্ছা তাই ব্যবহার করে! অথচ শিক্ষকমন্ডলীদের প্রায় সবাই হয়তো একেবারেই অল্প বয়সের, না হয় বেশি বয়সের বুড়ো টাইপের! আর আমি যোগ্য হয়েও অবমূল্যায়িত! 

এভাবে প্রতিনিয়তই আমাকে পরীক্ষার পর পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়, যা আসলে সুস্থ মস্তিষ্কে বেঁচে থাকার অন্তরায়!

এভাবে প্রায় এক বছরের উপরে, বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে চাকুরি করার পর, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষকবৃন্দ এবং এলাকাবাসী স্থায়ী ভাবে বুঝতে পারে যে, আমার সাথে আসলেই একদল জিন থাকে এবং তাদের উদ্দেশ্য গুলোও মানুষ মোটামুটি অনুধাবন করতে পারে! 

এতে অত্র এলাকার মানুষেরা এবং মাদ্রাসার শিক্ষকমন্ডলীগণ ও ছাত্র-ছাত্রীগণ, জিনকে দেখার আকুতি হিসেবে হোক, বা কৌতুহলবশে হোক বা জিনদের যে উদ্দেশ্য রয়েছে সেগুলো দেখার আকুতি থেকে হোক; অর্থাৎ জায়েজ-নাজায়েজ যাই হোক না কেন; জিনকে দেখার জন্য, তাদের কার্যক্রম দেখার জন্য, অত্র এলাকার প্রায় বেশিরভাগ মানুষই আগ্রহী হয়ে ওঠে!

 ইত্যবসরে আমিও আমার উদ্দেশ্যসমূহ অর্থাৎ মাসআলা সমূহ, আমার ফতোয়ার কিতাব, যেটি আমি লেখা আরম্ভ করেছি অলরেডি, যদিও এ কিতাবের মাসআলাগুলো রিভিউ পর্যায়ের; তবুও এগুলো আমি এ কিতাবেই সন্নিবেশ করে, মাদ্রাসার হুজুরদের নিকট অনলাইন ইমো প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে  আমি  পাঠিয়েছি! 

এতে আমার কাছে মনে হয়েছে কিছু কিছু মুরুব্বি শ্রেণীর হুজুর, আমার কথায় অনেকটা জায়েজ হিসেবেই মৌন সমর্থন দিয়েছেন আমাকে! এবং তারা যে আমার সাথে আইনগুলোতে রাজি রয়েছেন তা আমি ভালভাবেই বুঝতে পেরেছি!

আলহামদুলিল্লাহ! সারা বিশ্বের মুসলিম আইন এর বিপরীতে তারা যে আমার বিষয়ে এবং আমার সাথে একমত পোষণ করেছেন বা অন্তত নমনীয় হয়েছেন,  এটাও আমার জন্য হাজার হাজার প্রাপ্তি! এবং এটি অনেকটা দুঃসাহসিকতার ব্যাপার!

তাই সুযোগ বুঝে আমি মাদ্রাসার সুপার এবং সহ সুপার, শিক্ষক প্রতিনিধি জামাল হুজুর; উনাদেরকে অনুরোধ করি যে, যদি আমার জিনদেরকে মানবাকৃতিতে প্রকাশ্যে আগত করতে পারি, তাহলে আপনারা আমাদের মাঝে, ইসলাম অনুযায়ী জায়েজ ঘোষণা করে বিয়ে পড়াবেন!

যেহেতু আমি বলেছিলাম আমার জিনদের কাছে অনেক অনেক অর্থ সম্পদ রয়েছে; সেই হেতু তারা টাকার লোভে হোক, বা জিন জাতি দেরকে পৃথিবীতে প্রকাশ্যে আগমন করার আনন্দে হোক; তারা এতে রাজি হয়ে যান বা সম্মতি প্রকাশ করেন!

এতে আমি অনেকটাই আনন্দিত হই! এবং ভাবতে থাকি যে, বহুদিন পরে হলেও, আমার সাফল্যের সূত্র মনে হয় আরম্ভ হয়েছে!! 

এবার জিনকে নিয়ে আমাদের অনেক অনেক বড় বড় নিয়তের দিকে মনোনিবেশ হলে সহজেই বুঝতে পারি যে, আমাকে এখন এমন একটি অনলাইন সিস্টেম তৈরি করতে হবে, যার মাধ্যমে আমি আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য গুলো এবং আমি ও আমরা যে জিন; সে চিন্তা প্রমাণে অতীত ইতিহাস ও ঘটনাগুলো মানুষের সামনে যাতে সহজে পেশ করতে পারি এবং আল্লাহু তা'আলা ভাগ্যে রাখলে, তবে আমরা দুনিয়ায় মানবাকৃতিতে আসার পর; আমাদের নিরাপত্তা, আমাদের প্রতি মানুষদের শ্রদ্ধাবোধ ও মানুষ এবং জিনদের সাথে আমাদের যোগাযোগ; আমাদের কার্যক্রম বা মানুষ ও জিনদের প্রতি আমাদের সেবাসমূহ, তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছানো, ইত্যাদি প্রয়োজনে; আমি গুরুত্ব অনুধাবন করি যে, এখন আমাকে অবশ্যই অবশ্যই  এরকম একটি অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি করতে হবে! 

যার মাধ্যমে আমি উপরে উল্লিখিত এবং আমার সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব, আমাদের সকল উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সমূহের আইনগত অধিকার নিয়ে আসতে পারবো, মানুষ ও জিনদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারব এবং নিজেদের নিরাপত্তা ও সম্মানবোধকে হেফাজত করতে পারব! 

কিন্তু যারা অনলাইনে কাজ কর্ম করে থাকেন এবং যারা এ বিষয়ে কার্যসমূহ বুঝতে পারেন তাদেরই শুধু বুঝে আসবে যে, এ কাজটি কতটুকু জটিল এবং কী পরিমাণ সময় সাপেক্ষ!

বিশেষ করে আমার মত এরকম গরিব একজন মানুষের দ্বারা, যার কাছে নেই কম্পিউটার, নেই কোনো ভালো মোবাইল, বিভিন্ন অনলাইন টুলস ক্রয় করার সক্ষমতা যার কাছে নেই, তার পক্ষে এরকম একটি অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি করা এটা অনেকটা ইস্পাতকঠিন এর চাইতেও কঠিন!

তার উপর এত অল্প সময়ে বা আমার সময় এতো কই যে আমি এরকম একটি প্লাটফরম তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় ব্যয় করতে পারব! 

বিশেষ করে আপনারা বুঝতেই পারছেন আমি হাজারো ক্ষত, হাজারো অভাব, আর মানুষের বিভিন্ন ধরনের জুলুম এর মধ্য দিয়ে এবং অর্থহীন, টাকা-পয়সাহীন, চাকরিবাকরিহীন, সম্মানহীন এক জীবন অতিক্রম করছি! এ মুহূর্তে আমার এত উপযুক্ত সময় কই যে আমি এটি সহজে তৈরি করতে পারব! 

তার উপর মানুষগণ এসবের কিছুই বুঝে না! আমাদের নিয়ত যে অনেক বড় এবং সে বড় নিয়তের বা উদ্দেশ্যের আওতায় আমাদেরকে এ রকম একটি প্লাটফরম তৈরি করতে হবে; এটি তাদের বুঝে আসেনা! 

কারণ চারদিকে যে জিনেরা বিভিন্ন খোনার, গুনিন, কবিরাজের নিকট আগত হচ্ছে; তাদের তো আর এত কিছু প্রয়োজন নেই! 

অতএব ইনারাও হয়তো মনে করছেন অনেকেই, আমরা হয়তো এরকমই কোন জিন তাড়ানো তাবিজ, তুমার দিব,  ঝাড়ফুঁক করব, হয়তো ওষুধ-পথ্য দিব! তাদের ধারণা বেশিরভাগেরই হয়তো এরকম! 

আবার মানুষ যে সাধারণত অপরের পরিস্থিতি বুঝতে পারে না এবং অপরের পরিস্থিতি অনুযায়ী সে কথা বলা, সে জ্ঞান মানুষের অনেকেরই থাকে না!

এমন একটি পরিস্থিতিতে চারদিক থেকে শুধু কানে ভেসে আসে, বিভিন্ন মানুষ বলছে, এই তুই আসোস না কেন, কবে আসবি, দেওয়ালটাতো পড়ে যাচ্ছে, আর কলম লাগবেনি, কলমতো শেষ হয়ে গেছে, ইত্যাকার উপমা মূলক কথা!

অষ্টম শ্রেণীর এ বাচ্চা মেয়েরাও আমাকে উপমা সরূপ বলছে যে,  আমরা পানি খাব! তাদেরকে যখনই পড়তে বলি, পড়া দিতে বলি, তারা বলে, না আমরা পড়বো না!

ওরা বলে কী, আমাদেরকে পানি দেন!

মানে ওরা বুঝাতে চাচ্ছে যে, আমার সাথে যে ১৬ জন নারী জিন রয়েছে তারা আসবে এবং আমার সাথে সকলে ডান হাতের মালিকানায় এবং সাধারন নিয়মে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হবে!

এজন্য তারা নিজেদেরকে জিন হিসেবে কল্পনা করে, আমার সাথে ঠিক অভিনয় মূলক, উপমা মুলক, কথাবার্তা বলছে! 

তারা পানি বলতে বুঝাচ্ছে সহবাসের কাছরা পানি! 

তাহলে ক্লাসরুমে যদি এই ধরনের মানসিকতা হয়; ঐ শিক্ষকের জন্য সেটা কতটুকু অপমানজনক! 

এছাড়াও এ কোমলমতি শিশুরা চোখের চাহনিতে, আংগুলের বিভিন্ন ইশারায়, এমন ভাব ভঙ্গি দেখিয়েছে, যেটা আসলে স্বামী-স্ত্রী ছাড়া অন্য কোথাও বলা বা বোঝানো প্রযোজ্য নয়! 

আর এভাবে ক্লাসের মধ্যে যে মানসিক কষ্টে আমি ছিলাম, তার কোন সীমা ছিল না!

এভাবে আমার বাচ্চা ছাত্র-ছাত্রীরা আমাকে যেভাবে জ্বালাতন করেছে, ওরা মনে করেছে আমি বুঝি না;  কারণ ওরা তো এ কথাবার্তা গুলো, এ অভিনয় গুলো জিনদের সাথেই করছে! আর আমি অনেক সময় বুঝিনি, কিন্তু অনেক সময় বুঝেও  না বোঝার ভান ধরে সহ্য করে গিয়েছি!

অন্যদিকে অতীতে যারা আমার ঘোর বিরোধী ছিল, যারা আমাকে কষ্টের পর কষ্ট দিয়েছিল,  যারা আমাকে উঠতে দিবে না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল, তারাও এখন বলছে আরেকজনকে শুনিয়ে, এই তুই এদিক দিয়ে আয়, এখানে আয়, ইত্যাকার উপমা আর অপমাণ মূলক ভাষা!

মানে এখন আমার ভয়ে, মানে আমার জিনদের ভয়ে, তারা তাদের অপরাধ সমূহ লুকিয়ে ফেলতে চাইছে ভালোবাসার মিথ্যা উপমা দিয়ে! 

বুঝতেই পারছেন দুনিয়াটা শক্তির প্রতিযোগিতার জায়গা! এখানে শক্তি আর প্রতিযোগিতায় যে টিকবে, সে বিজয়ী হবে, সে হবে নিরপরাধী, সে হবে ভদ্র,  সে হবে ভালো মানুষ; আর যে শক্তির প্রতিযোগিতায়, দম্ভ ও অহংকার এর প্রতিযোগিতায়, যে হেরে যাবে, সে হবে পাপী, সে হবে অপরাধী! 

এভাবে চারদিকের মানুষের, আমার দিকে ছুড়ে দেওয়া উপমা মূলক কথাবার্তায়, যা শুনতে শুনতে আমার অনেকটা কান ঝালাপালা করে উঠছিল এবং যার কারণে আমি মানসিকভাবে প্রচণ্ড কষ্টে পড়ে গিয়েছিলাম!

তখন আমি মাদ্রাসায় ৩ অক্টোবর, শনিবার থেকে ২৫ অক্টোবর, রোববার পর্যন্ত মোট ২৩ দিনের ছুটি চাই! 

কিন্তু মাদ্রাসার সহ সুপার, অবশ্য বর্তমানে তিনি ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে কার্যরত ছিলেন এবং জামাল হুজুর উনারা আমাকে ছুটি দিতে রাজি হলেন না!

উনারা আমাকে এই বুঝালেন যে, উনারা কোন্ আইনে আমাকে ছুটি দেবেন! যদি মেডিকেল ছুটি হতো তাহলেও দেয়া যেত ডাক্তারের রিপোর্ট অনুযায়ী! কিন্তু এখন তারা কিভাবে ছুটি দিবেন! 

কিন্তু উনারা জেনেও বুঝতে পারছিলেন না যে, আমার যে উদ্দেশ্য আদর্শ ও লক্ষ্য, এগুলোর সাথে বর্তমানে প্রচলিত কোনো আইনেরই মিল নেই! 

উনারা মনে হয় ভুলে গিয়েছিলেন যে আমি নতুন আইন প্রতিষ্ঠা করার জন্যই দুনিয়াতে আগত হয়েছিলাম! 

সেই হিসেবে উনারা আমার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করার পরও আমাকে আইন খুঁজেছিলেন, যার জন্য তারা আমাকে ছুটি দিতে পারছিলেন না!

 অথচ বিষয়টি ছিল অতীব জরুরী!

এদিকে আমি যখন দরখাস্তটি জমা দিয়েছিলাম সকল হুজুরের সামনেই; আমি তখন স্পষ্ট করেই বলেছিলাম যে,  আমি আগামী তিন তারিখ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত আমি মাদ্রাসায় আসতে পারবো না! 

শুধু যে হুজুরদের কাছে আমি বলেছিলাম তা কিন্তু নয়, আমি পার্শ্ববর্তী দোকানদার সহ ঐ এলাকার মানুষদেরকেও বলেছিলাম, আমার একান্ত প্রয়োজন রয়েছে, আমি আগামী ২৩ দিন মাদ্রাসায় আসতে পারবো না এবং তারা সকলে জানতেন আমি যা বলি তাই করি বা করতে হাজারো চেষ্টা করি! 

সেই লক্ষ্যে আমার মুখ দিয়ে যা বেরিয়েছে, আমি তা সত্যে পরিণত করব! এটা আমার জীবনের লক্ষ্য!  ইনশা' আল্লাহু তা'আলা আমি মিথ্যে কথা  কখনো বলি না  এবং আমি যা সিদ্ধান্ত নেই, তাই আমি বাস্তবায়নের জন্য শতভাগ মরণপণ চেষ্টা করি!  

আমি মনে করি ভদ্রলোক তাকেই বলে, যার মুখের ভাষায় সত্য আছে! যে অন্তরে, মুখে এবং কাজে যে সম্পূর্ণ এক আছে; তাকেই ভদ্রলোক বলে! 

তো যেদিন দরখাস্ত জমা দিয়েছিলাম সেদিন ছিল অক্টোবরের এক তারিখ বৃহস্পতিবার!

দরখাস্ত জমা দেয়ার পর বাড়িতে এসে যখন আমি মাগরিবের নামাজে যাচ্ছিলাম, তখন মসজিদের একটু আগে পা পিছলে পড়ে গিয়ে এমন ভাবে পায়ে জখম হলো আমি আর ঘুরে উঠতে পারছিলাম না!

অনেক চিৎকার করলাম, মানুষ বুঝলো যে, আমার কঠিন জখম হয়েছে! হয় পা ভেঙ্গে গেছে, না হয় কঠিন ভাবে মচকে গেছে!  কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়, একজন লোকও আমাকে সাহায্য করেনি মসজিদে যেতে! 

অনেক কষ্ট করে মসজিদে গেলাম! আজ যদি আমি পয়সাওয়ালা হতাম, তাহলে নিয়মিত নামাজির প্রয়োজন ছিলনা, চারদিক থেকে হয়তো কত সাহায্যকারী আমি পেয়ে যেতাম!  এরপর বাড়ি আসতেও কাউকে পেলাম না! সবাই যেন শুধু আমার তামাশা চাচ্ছে!

অনেকটা কষ্টে লং করে করে বাড়িতে আসলাম! আমি উইন্ডেড হয়েছিলাম বাম পায়ের নিচে, পাতায়, আঙ্গুলের উপরের স্থানে!

সেখানে হয়তো ভিতরে ফেটে গেছে, না হয় কোন ছোট হাড্ডি ভেঙ্গে গেছে, অথবা চরমভাবে জখম হয়েছে, হয়তো প্রচন্ড আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মচকে গেছে! 

বাড়িতে আসার পরে আমি ভাবছিলাম হয়তো এশার নামাজে মসজিদে যেতে পারি কিনা! 

কিন্তু আমি আর পারিনা! প্রচন্ড ব্যাথায় কুঁকড়ে যাচ্ছিলাম!  স্থানটি যথেষ্ট ফুলে গিয়েছিল!

তখন আমার স্ত্রী এবং আমার ছেলে মেয়েরা বাজারে গিয়েছিল কী একটি কাজে! বাজার থেকে আসার পর আমার দুই মেয়েকে, রাত আটটা কি নয়টার দিকে, আবার পাঠিয়েছিলাম  ওষুধের জন্য! 

চার ডোজ ঔষুধ এনেছিল, তিন ডোজ ওষুধ খেয়েছিলাম, আর ১ ডোজ ওষুধ খাইনি! কারণ আমার ব্রেনে আমার মন থেকে বার বার সিগন্যাল যাচ্ছিল যে, কোন ঔষধ লাগবে না! আমরা ফেলেছি, আমরাই তুলে দেবো! মানে ভালো করে দেব! 

আর ঔষুধ করলে, ঔষুধের মতো ওষুধ করতে হবে! সেখানে এক্সরে করতে হবে, কী হয়েছে দেখতে হবে এবং সে অনুযায়ী এমবিবিএস বা সম পর্যায়ের ডাক্তারগণ পেস্ক্রিপশন করলে, সে অনুযায়ী ঔষুধ খেতে হবে! আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে আমরা ফেলেছি আমরাই তুলে দেবো, তোমার কোন ঔষুধ লাগবে না!

হাতে কোনো টাকা ছিল না! এমনকি চাঁদপুর মাদ্রাসার এক হুজুরের কাছ থেকে ৫০ টাকা ধার নিয়েছিলাম, তাও দেয়া হয়নি! 

আর আমার এ উইন্ডেড অবস্থায় মানুষদের মধ্য থেকে,  কেউ যে আমাকে কিছু হেল্প করবে, অন্তত আমাকে দেখতে আসবে, আমার সাথে সমবেদনা জ্ঞাপন করবে যে, আমি নিয়মিত মসজিদের মুসল্লী ছিলাম; এখন আমি মসজিদে যেতে পারছিনা; এ সমাজে এ লোক আমি খুঁজে পাইনি!  

উইন্ডেড হওয়ার সাত দিনের দিন মাদ্রাসা থেকে ভারপ্রাপ্ত সুপার হুজুর এবং শিক্ষক প্রতিনিধি  জামাল হুজুর এসেছিলেন আমাকে দেখতে! উনারা আমাকে ১৬০০ টাকা  প্রদান করলেন হাদিয়া হিসেবে!

আবার উইন্ডেড হওয়ার ৮ দিনের মাথায়, আমাদের উত্তর দিকের যে মসজিদ, হাজী জিনাত আলী ভূঁইয়া জামে মসজিদ, প্রকাশ  মোস্তাফিজুর রহমান চেয়ারম্যান বাড়ী মসজিদ, এখানেই আমি অবশ্য ইদানিং বেশি নামাজ পড়তাম! 

এখান থেকে চারজন এলেন আমাকে দেখতে! সঙ্গে হাদিয়া স্বরূপ কলা, পাউরুটি জাতীয় কিছু নিয়ে আসলেন! 

আর আমাদের দক্ষিণ দিকের সামাজিক পুরাতন মসজিদ, আলী মুন্সি জামে মসজিদ, এ মসজিদ থেকে একজনও আসলেন না এ পর্যন্ত প্রায় ২০ দিন হয়ে গেল, এখনো কেউ আমাকে দেখতে আসেননি! 

অথচ আমিতো প্রায় প্রতিদিন গড়ে এখন এক ওয়াক্ত নামাজ পড়েছি এখানে! এ মসজিদের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও আমি!

আমাকে ম্যানেজিং কমিটির সেক্রেটারি জনাব মজনু ভাই ও হানিফ ভাই মোটামুটি সম্মান করেই তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন! 

আমার কাছে কোন টাকা পয়সা নাই এবং আমাকে লোকে শয়তান ভাবে; আমাকে আমার আত্মীয়-স্বজন দেখতে পারেনা; সমিতির অনেকগুলো টাকা, প্রায় সাত লক্ষ টাকা মানুষ আমার কাছে পাবে, এই পরিস্থিতিতে তারা কেন আমাকে মসজিদের মত এমন একটি সম্মানজনক প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য করেছিলেন, তা তারাই জানে!

তবে আলহামদুলিল্লাহ আমি খুশি হয়েছিলাম! যদিও বিভিন্ন চাপের কারণে বা অর্থনৈতিক কারণে আমি মজিদের জন্য তেমন কিছু করতে পারিনি!

এদিকে আগে তো প্রায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এ মসজিদেই পড়তাম!  

সমাজের কোন লোক আমাকে দেখতে আসেনি! হয়তো রাস্তা দিয়ে চলার পথে আমি দু'একজনের সাথে আপত্তি করায়, সে কারণে হয়তো চলার পথে ২/১ জন জিজ্ঞাসা করেছে!

এখানে উল্লেখ করছি যে, আমি থাকি রাস্তার পাশে সমিতির জন্য যে ঘর করেছিলাম সেটাতে! এটা তো আপনারা আগেও জানেন, আমি বাড়িতে তাদের সাথে থাকতে পারি না! কারণ তারা আমাকে সম্মানের সাথে একসেপ্ট করেনা! আমায় কোন মূল্যায়ন করে না! আমার সাথে সব সময় তারা বিভিন্ন ধরনের সুরসুরি দিতে থাকে! বিভিন্ন কিছু শুধু বুঝতে থাকে! তামাশা চাইতে থাকে! সেগুলো আপনারা এতদিনে নিশ্চয়ই ভালই জানেন!

অত্যান্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমি আজকে প্রায় ২০ দিন হবে এখানে অসুস্থ অবস্থায়, পঙ্গুত্ব অবস্থায় পড়ে আছি, বিছানা থেকে উঠে শুধু প্রয়োজন হলে বাথরুমে যাই!

ইদানিং হয়তো বাথরুমে পানি না থাকলে ছোট একটি বাল্টি আছে,  সেটি করে মাঝে মধ্যে  পানি আনতে যাই। এছাড়া আর কোথাও যাই না! 

কিন্তু আমার রক্তের ভাই-ভাতিজা, এরা কেউ আমার আজ পর্যন্ত কোনো খবর নেয় নাই, দেখতেও আসে নাই!

আমার কোন বোন, আমার কোন আত্মীয়, আমার খবর নিতে, আমাকে দেখতে এখানে আসেনি!

এছাড়া আমার ঘরে কী খায়, কিভাবে  বাঁচে আমার ঘরের সদস্যরা, এ বিষয়ে  তাদের কারো কোন খবর নাই! আমার বিষয়ে তারা কোন খবর নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করেনা! এবং আমি যদি কারো কাছে কথাটি বলি তখন আমাকে উল্টো শোনায় যে, এখন কেউ কারো না, প্রত্যেকেই নিজের চিন্তা করতে হয়! এটাই নাকি এখন জীবন! 

অপরদিকে আমি রাস্তার পাশে এ ঘরে একলা থাকি! বর্তমানে আমি একজন পঙ্গু মানুষ প্রায়! এখন বিছানা থেকে উঠে এদিক-সেদিক যেতে পারি না! বাথরুমে আমার প্রতিদিন ১/২ বালটি পানির প্রয়োজন হয়! 

আমি নিজ থেকে পুকুর থেকে যে পানি আনবো সে সামর্থ্য এখন আমার নেই!আমার এই ঘরের মোটরটি নষ্ট হয়ে গেছে! এ অবস্থায় আমার মেয়েরা আমাকে বাড়ি থেকে এসে পানি দিয়ে যায়! 

কিন্তু আপনাদের বিশ্বাস হবে কিনা আমি জানিনা, আমার নিজের মেয়েদেরকেও আমি প্রতিদিন পানি যখন শেষ হয়ে যায়, আমি তাদেরকে তখন বকে বকে শাসন করে করে পানি আনাতে হয়!

তারা নিজ থেকে যে আজকে আমি বিকেলে দিয়েছি, কালকে আবার সকালে লাগবে, ঠিক টাইমে পানি দিয়ে যাই; এরকম আমি আমার মেয়েদেরকেও পাই নাই! 

আমার গায়ের সাদা জামা গুলো ময়লা চিতি পড়ে কালো হয়ে গেছে অনেকটা; আমার স্ত্রীকে ব্লিচিং পাউডার যদি চার প্যাকেট কিনে দেই এবং দিয়েছি; তখনও আমার জামা থেকে চিঠি গুলো উঠে না! 

আর যখন আমার স্ত্রীকে সে কথা বলি, যখন বলি যে, কই আমার ফতুয়াটি থেকে তো ময়লা চিতি উঠে নাই; তখন সে বলে এ চিতি উঠবে না; সেটা আমার হাতে উঠবে না! আমি আপনার চার প্যাকেট সবগুলো দিয়ে দিয়েছি এরপরেও উঠে না! 

আসলে সে আমার জামার মধ্যে, আমার ফতুয়ার মধ্যে ব্লিচিং পাউডার দেয়'য় নাই! না দিয়েই সে উপমা হিসেবে বাড়ির মহিলাদের পরামর্শে হয়তোবা সে আমার সাথে এমন ব্যবহার করছে এবং সমাজের মধ্যে আমাকে কাল হিসেবে  চিহ্নিত করছে!

এটা শুধু আমার বেলায় নয়, আমার ছেলেটাকেও ঠিক একইভাবে মাদ্রাসায় যাওয়া, মসজিদে যাওয়া, সব মিলিয়ে তার জামাতেও অনেক ধরনের ময়লা! কিন্তু এ ময়লা ধুয়ে পরিষ্কার করে সমাজে আমার সাথে তাকে তার মা'ই পাঠায় না!

তার কথা হলো মনে হয়, আমরা জিনের গুষ্ঠি, এটা ময়লা নিয়ে এসেছি! আমাদের মাসআলা গুলো মনে হয় শয়তানি! এটিই হয়তো উনারা বুঝাতে চাচ্ছেন!

এভাবে আমাদেরকে সমাজে কাছরা হিসেবে পরিচয় দিতে হবে! হয়তো বাড়ির মহিলারা তার মাথায় এটা ঢুকিয়েছে!

তারমানে উনারা আমাদেরকে বাধ্য করতে চায় যে, আমার এ উদ্যোগ গুলো, আমাদের এ স্বভাবগুলো,  আমাদের এই মাসআলাগুলো, আমাদের উদ্দেগগুলো যাতে বাদ দিয়ে দেই, এভাবে তারা আমাদের উপর শক্তি প্রয়োগ করছে!

আমরা যাতে তাদের মত করে জীবন যাপন করি!  কারণ আমাদের এই চিন্তা ধারা গুলো খারাপ, এগুলো আসলে শয়তানি!

আমার আপনজনেরা যেভাবে বাহুবল আমার উপর প্রয়োগ করেছে, ঠিক আমার স্ত্রীও না বুঝে আমার সাথে একইভাবে বিরোধিতা করেছে! এবং আমাকে বাধ্য করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে!

তাহলে বাড়ির লোকজন যেমন আমাকে তাদের পায়ের নিচে দাবিয়ে রেখে, ফকির হিসেবে কোনমতে বাঁচিয়ে রাখবে ঠিক করেছে; ঠিক আমার স্ত্রীটাওতো আমাকে বা আমার ছেলেকে কাছরা/ময়লা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সমাজের ভিতরে খারাপ হিসেবে চিহ্নিত করে রাখছে এবং একইভাবে আমার মেয়েগুলোকে যখন বললাম যে, তোমরা নিয়মিত বাথরুমে আমার প্রয়োজনীয় পানি দাও! এরাও ঠিক টাইমে আমাকে পানি দেয় না! প্রতিদিন তাদের সাথে আমাকে বকতে হয়! 

অর্থাৎ সবাই আমার সাথে শক্তির প্রতিযোগিতা করছে! আমাকে বাধ্য করছে! যেহেতু আমার কাছে কোন টাকা পয়সা নাই!

আর মানুষ হিসেবে আমার যে কী কষ্ট হচ্ছে এতে, সে বিষয়ে আমার পরিস্থিতি, মানুষ হিসেবে আমার ক্যাপাচিটি, শক্তি-সামর্থ্য, মন-মানসিকতা চিন্তা করা, তাদের মনে হয় কোন প্রয়োজনই নাই! 

তারা সবাই চেয়েছিল আমাকে ফকির করে, মিসকিন করে, কোনমতে জীবনে প্রাণে বাঁচিয়ে রাখতে! 

আজ তারা সফল হয়েছে, আমি এখন একেবারেই মিসকিন! 

আর তাই আমার এ পঙ্গুত্ব অবস্থায়ও তাদের কেউ একটিবার দেখতে আসেনি  এবং আমি ও আমার ছেলে মেয়েরা না খেয়ে জীবন যাপন করলেও তারা মনে হয় খুশিই থাকে! 

কারণ তাদের উদ্দেশ্যই ছিল আমাকে দাবিয়ে রাখা! আমাকে নিপীড়িত-নির্যাতিত অসম্মানিত করে রাখা! 

শুধু যে আমার আত্মীয়-স্বজন দেখতে আসেনি তা কিন্তু নয়, আমার স্ত্রীর দিক থেকেও কেউ আমাকে দেখতে আসেনি! 

আপনারা ভাল করেই জানেন, এই দুনিয়ায় মেয়ে বিয়ে দেয়ার পরে, মেয়ের পক্ষ থেকে স্বামীর বাড়িতে যে উপঢৌকন দেয়া হয়, বা তাদেরকে যে সাহায্য দেয়া হয়, তা অনেকটা মেয়ের বাবা বা মেয়ের পক্ষ থেকে  বাধ্য হয়ে দেয়; আমার তো এখানে বাধ্য করার কেউ নেই; উপরন্তু আমাকে যাতে অবহেলা করা হয়, আমার নিকট জনেরা সে চালই চালছে, সে সিগনালই পাঠাচ্ছে আমার বাড়ীর এ নিকট আত্মীয়রা! 

আর তাই ওরাও কেউ আসেনি আমাকে দেখতে!

আমার অত্যন্ত দুঃখ ও আফসোস এই যে, আমার যে কোনো দুর্ঘটনায় বা যে কোন রোগে শোকে আমি আমার আত্মীয়দের কাউকে পাই না! কেউ আমাকে দেখে না!

বরং আমাকে দুঃখিত করে রাখতে পারলেই, এতিম করে রাখতে পারলেই, নিপীড়ীত আর অত্যাচারিত করে রাখতে পারলেই, তারা যেন খুশি থাকে; আমি না খেয়ে থাকলেই মনে হয় তারা খুশি! 

শুধু একটি কারণ, আমার এ জিন উদ্ভবের  শুরু অবস্থায় আমি তাদেরকে মানতে পারিনি অথচ তাদের অধীনে ছিলাম! 

তবে আমি যতটুকু তাদেরকে মানতাম এবং এখনও মানি,  তার শত ভাগের একভাগও তারা পরস্পর পরস্পরকে মানতো না! কারণ তারা সকলেই শক্তিমান ছিল! 

তখন আমিও যদি নিজের ইনকামে নিজে চলতে পারতাম, হয়তো আমার এই পরিণতি হতো না!

তাদের ব্যবস্থাপনায়, তাদের মাতবরীতে, আমি ভাত খেয়েছি! আমার জীবন চলেছে তাদের সিদ্ধান্তে!  আর এই অবস্থায় এ জিন জাতির সদস্যরা আমার মত দুর্বল একটা মানুষের নিকট এসে এবং আত্মীয়তা নিয়ে রিলেশন বিষয়ে অতিরিক্তভাবে মোহে পড়ে তারা অন্ধ ভাবে আমাকেই শেষ করেছে শুধু! 

তাইতো জিন হিসেবে তাদের নেতৃত্ব যখন মানি নাই, তখন আমার ভাই-ভাতিজাসহ এ নিকটাত্মীয়রা বুক ফুলিয়ে প্রতিজ্ঞা করে ও সবাই একত্রিত হয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তুই কোন রাস্তা দিয়ে, কার সাথে বের হবি, কার সাথে সেই মক্কার পথে পাড়ি দিবি, আমরা দেখে নেবো! আমরা কেউ তোকে সহযোগিতা করব না! এবং কিভাবে যাস, সেটা আমরা দেখে নেবো! 

যেহেতু জিন হিসেবে আমি তাদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম যে, আমি মক্কার বাসিন্দা এবং এ কেও নিয়ে যাব, মানে আমাকেও! 

ভাই, আমি স্পষ্ট করে বলতে পারি, আমার বাড়ির ভাইদের মধ্যে যে শুধু  এমন নয়, পুরো জগতের আসলে কেউ কাউকে মানে না!

এখানে সবাই নিজের হিসেবেই চলে! এখানে আরেকজনের অধীনতা স্বীকার করে, নেতৃত্ব মেনে চলবে, এরকম মানুষ একজনও নাই! কারণ সবাই এখানে স্বয়ংসম্পূর্ণ! 

তাহলে আমার দোষটা কোথায় ছিল!?জ্বী! আমার দোষ, আমি তাদেরকে মানি নাই, তাদের নেতৃত্ব মানি নাই, এটি নয়! আসলে আমার দোষ ছিল, আমি অর্থনৈতিক ভাবে মজবুত ছিলাম না! নিজের টাকায় নিজের জীবন যাপন করতে পারিনি! 

বাবার জমি বিক্রির টাকায় চলছিল জীবন!

আবার এ জমির ক্রেতাও ছিল আমার এই ভাইয়েরাই!

যদিও এ জমি বিক্রি নিয়ে আমার ভাইদের মধ্যে মনোমালিন্য, দ্বন্দ্ব, সংঘাত সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল!

তাদের অধীনে থেকে তাদেরকেই মানি নাই! সুতরাং আমি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নই; এটাই আমার দোষ! 

তাহলে এটি স্বাভাবিক যে, কারও অধীনে থেকে, তার বিপরীতে গিয়ে অথবা তার চাইতে আরো মহৎ ভাবে  আল্লাহু তা'য়ালাকে মানতে চাওয়া বা মানতে পারা, এটা প্রায় অসম্ভব!

তারমানে, কম ঈমানদারের বংশে কম ঈমানদার হবে! 

সুদখোর বা ফাসেক বাবার সন্তান ফাসেক হবে! হিন্দুর ঘরে হিন্দুই হবে! বোকার ঘরে বোকাই হবে এবং হতেই হবে! 

যেহেতু যে যেমন তার অধীনস্থদেরকে সে ঠিক তেমনই চায়! মানে বড়রা ছোটদের থেকে সব সময় পুজাই চায়! 

জি, আপনার কাছে শুনতে অবাক মনে হলেও, বড়দেরকে মান্যতার, সম্মানের আরেক নাম তাদেরকে পূজা করা!

এটি এ দুনিয়ায় সুস্পষ্ট!  

আর আমিও তাদেরকে মানি নাই, বা আমার বড় ভাইদের নেতৃত্ব মেনে চলতে চাই নাই, এ কথাটি ঠিক নয়; এটি আসলে পুরোপুরি একটি মিথ্যা কথা! 

উপর দিয়ে যদিও দেখা গিয়েছে যে, আমি আরো বড় হতে চেয়েছি বা তাদেরকে আমার উপযুক্ত নেতা হিসেবে পাইনি; এ কথাগুলো যতটুকু না সত্য, তার তার চাইতেও বড় সত্য হচ্ছে, আমি তাদেরকে পূজা করতে চাই নাই! 

কারণ পূজা করা এটি ইসলামের বিধান নয়! যদিও চারদিকে বড়দেরকে মেনে চলার নামে পুজাই চলছে! মুসলিম জাতি বীরের জাতি, এরা পূজা করতে জানো না!

আর এ কারণে আমার ভাই, ভাতিজারা বা আমার নিকটাত্মীয়গণ এতোটুকু নিষ্ঠুর হয়ে যাবে, আমার মা-বাবার প্রতি এতোটুকু নেমক হারাম হয়ে যাবে, ইসলামের একটি মৌলিক বিধান, যে নিজে পেট ভরে খায়, অথচ তার পাশে অভুক্ত ঘুমায়, সে মুমিন নয়! ইসলামের এত বড় ধমকির পরেও তারা এরকম হয়ে যাবে,  আমি ভাবতে পারি নাই! 

যাক, তবুও উনারা হয়তো এই বলে খুশি যে, আমাকে দুর্বল থেকে দুর্বলতর করে,  অসহায় ফকির-মিসকিন করে রাখতে পেরেছেন! 

আমার বিষয়ে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং বিভিন্ন ধরনের কলা-কৌশল হয়তো পূর্ণ হয়েছে, আমার বিরুদ্ধে তারা সাকসেস হয়েছেন!

হয়তো এই বলে তারা খুশি যে, আমার বিষয়ে তারা যা চেয়েছিলেন, বা' যা আশা করেছিলেন, তাই পেয়েছেন! আজ আমি তাদের সকলের একত্রিত নিয়ত অনুযায়ী ও প্রচেষ্টা অনুযায়ী আমি  একেবারেই নিঃস্ব, গরিব ও ফকির- মিসকিন হয়ে গিয়েছি!

এই হল আমার জীবনের অবস্থা! 

আসলে এত কথা আপনাদেরকে লিখতাম না! লিখেছি সামাজিক অবক্ষয় এবং ধর্মীয় অবক্ষয়ের একটি বাস্তব চিত্র আপনাদের সম্মুখে তুলে ধরার জন্য! 

(১নং পার্ট সমাপ্ত)

এরপর এ গ্রন্থের পরবর্তী লিখা এর পরের পোস্ট,  পার্ট-২ এর মধ্যে লিখা হয়েছে!




 সঠনজফফবপফ ষফডছনশল হডঠডঠপশল হডছটধদনজজ ষঠছজটধচপঠজঠছ ফঠপপপঠফডড ডজঠপনপঠফফ